চট্টগ্রাম বন্দর
বন্দরে আন্দোলনকারী ১৫ কর্মচারীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ তদন্তের চিঠি
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০২
চট্টগ্রাম বন্দর/ ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনকারী ১৫ কর্মচারীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এই ১৫ জন কর্মচারীকে গত ২ ফেব্রুয়ারি মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছে। চলমান তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তারা যেন দেশত্যাগ করতে না পারে, সেজন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করার অনুরোধ করা হয়েছে। একই চিঠিতে দুদককে তাদের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ তদন্তের জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা পাওয়া কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন—চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও জাতীয়তাবাদী বন্দর শ্রমিক দলের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির, সমন্বয়ক ও শ্রমিক দলের নেতা মো. ইব্রাহিম খোকন, মো. ফরিদুর রহমান, মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, রাশিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. জহিরুল ইসলাম, খন্দকার মাসুদুজ্জামান, মো. হুমায়ুন কবির, মো. শাকিল রায়হান, মানিক মিঝি, মো. শামসু মিয়া, মো. লিয়াকত আলী, আমিনুর রসুল বুলবুল ও মো. রাব্বানী।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ডিপিওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত শনিবার থেকে তিনদিন আট ঘণ্টা করে এবং মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করে আসছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের কর্মীরা। এরপর বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো আলোচনার উদ্যোগ না নিয়ে তাদের বদলির ব্যবস্থা করে, ফলে আন্দোলন তীব্র হয়।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে বন্দর ভবনে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন। তবে নৌ উপদেষ্টার আশ্বাস অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে রোববার থেকে ফের কর্মবিরতি শুরু হবে বলেও তিনি জানান।
এএস/

