সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪০
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। ছবি : সংগৃহীত
বছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেখানে নীতিসুদ হার আগের মতই ১০ শতাংশ রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি কমে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না আসা পর্যন্ত নীতি সুদহার না কমানো হবে না।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। এটি অন্তর্বর্তী সরকার আমলের ও বর্তমান গভর্নরের তৃতীয় মুদ্রানীতি।
সবশেষ জানুয়ারি মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে। যা ডিসেম্বরের ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ থেকে কিছুটা বেড়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রোজার কারণে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসেও মূল্যস্ফীতি কমার সম্ভাবনা কম।
গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা ছাড়া বাকি সূচকগুলোতে মুদ্রানীতি সফল হয়েছে। আমরা খুব ভালো করেছি, শুধু মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, এটাও (মূল্যস্ফীতি) কমবে। অর্থনীতির বিশ্ব পূর্বাভাস অনুযায়ী আমাদের অর্থনীতি সামনের দিনগুলোতে আরও ভালো করবে, তাই মূল্যস্ফীতিও কমবে।’
কেবল একটি লক্ষ্য অর্জিত হয়নি মন্তব্য করে গভর্নর বলেন, ‘একটা টার্গেট পূরণ হয়নি দেখে গুলি ছোড়া ঠিক হবে না। আমরা তাই এ মুহূর্তে পলিসি রেট কমাব না।’
মূল্যস্ফীতি কমে আসার বিষয়ে আশাবাদী গভর্নর বলেন, “রিজার্ভ আমাদের ভালো অবস্থানে আছে। গত আগস্ট থেকে আইএমএফ এর শর্ত অনুযায়ী রিজার্ভ রয়েছে আমাদের। আগে কখনোই যা হয়নি। আমাদের রিজার্ভ বাড়ছে।”
নীতি সুদহার বেশি রাখার কারণে বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এর সুবিধা এখন পাচ্ছি আমরা। রেমিটেন্সহ বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ছে।’
মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নেমে না আসা পর্যন্ত নীতিসুদ হার না কমানোর পরামর্শ দিয়ে রেখেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। নতুন মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার আগের মতই ১০ শতাংশ রাখা হয়েছে।
নতুন মুদ্রানীতিতে এসএলফ রেট সাড়ে ১১ শতাংশে রাখা হয়েছে। এসডিএফ হার ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৫ শতাংশ ধরে রাখা হয়েছে। আগের বার ছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ। এ খাতে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ দশমিক ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
এমবি

