Logo

অর্থনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ঝুঁকিপূর্ণ ও জনস্বার্থবিরোধী

অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের সতর্কবার্তা

Icon

ডিজিটাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৭

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ঝুঁকিপূর্ণ ও জনস্বার্থবিরোধী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিতে দেশের লাভের চেয়ে ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি— এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা। তারা বলেছেন, এ চুক্তির ফলে প্রত্যাশিত রপ্তানি বৃদ্ধি না হয়ে বরং বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে চুক্তিটিকে জনস্বার্থবিরোধী ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে নতুন সরকারের কাছে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) আয়োজিত ‘যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি : বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রভাব’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব মতামত উঠে আসে। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ)।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা বা সুতা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে পাল্টা শুল্ক অব্যাহতির যে সুবিধার কথা বলা হচ্ছে, তা বহু শর্তসাপেক্ষ এবং বাস্তবে বাংলাদেশ কতটা সুবিধা পাবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। রপ্তানি বাড়লেও তা ৫ থেকে ১০ শতাংশের বেশি হবে না বলে ধারণা দেওয়া হয়। অথচ বিপরীতে বাংলাদেশকে কৃষি, জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যে উল্লেখযোগ্য শুল্ক ছাড় দিতে হয়েছে, যা দেশের জন্য চাপ তৈরি করতে পারে।

গবেষণা সংস্থা সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, চুক্তিটি কেবল বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এতে ভূরাজনৈতিক উপাদানও রয়েছে। জনগণের স্বার্থ বিবেচনা না করেই এটি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। তিনি বলেন, এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সুরক্ষার চুক্তি, যেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য ড. মোস্তফা আবিদ খান বলেন, এ ধরনের চুক্তি থেকে বের হওয়া কঠিন এবং সংশোধনের জন্য সম্মিলিত কৌশল প্রয়োজন। গবেষণা সংস্থা র‌্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চুক্তির ফলে অন্য দেশ— বিশেষ করে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতায় সমস্যা তৈরি হতে পারে।

এমসিসিআইর সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, এটি একটি আইনগত চুক্তি হওয়ায় সরাসরি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়; কৌশলগতভাবে এগোতে হবে। বিশেষ করে ‘রুলস অব অরিজিন’ সংক্রান্ত শর্তগুলো বাংলাদেশের বাণিজ্য স্বার্থের অনুকূলে হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বক্তারা আরও জানান, চুক্তি এখনও কার্যকর হয়নি; উভয় দেশের সংসদে অনুমোদন প্রয়োজন। তার আগে বাংলাদেশকে কিছু আইন সংশোধন করতে হতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পেশাদার লবিস্ট নিয়োগসহ কৌশলগত আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির সংশোধন উদ্যোগ নেওয়ার জন্য নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

এসএসকে/

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

যুক্তরাষ্ট্র

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর