Logo

অর্থনীতি

ঈদের কেনাকাটায় জমজমাট শপিংমলগুলো

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৭

ঈদের কেনাকাটায় জমজমাট শপিংমলগুলো

ছবি : বাংলাদেশের খবর

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর শপিংমল ও বিপণিবিতানগুলোতে জমতে শুরু করেছে ঈদের কেনাকাটা। নগরীর আভিজাত্যপূর্ণ বিভিন্ন শপিংমলগুলোতে ইফতারের পর থেকে মানুষের সমাগম বাড়ছে, ধীরে ধীরে বিক্রি হচ্ছে নতুন পোশাক। এবারও নগরবাসী ভিড় এড়িয়ে চলার জন্য একটু আগেভাগেই পছন্দের পোশাক ক্রয়ে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, করছেন পছন্দসই কেনাকাটাও।

শপিংমল ঘুরে দেখা যায়, নিত্যনতুন ডিজাইন প্রাধান্য দিয়ে পোশাকের পসরা নিয়ে প্রস্তুত দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো। গরম মাথায় রেখে এবার কটন সুতা ও কাপড়ের রঙে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। জোর দেওয়া হয়েছে আরামের ওপর। পাঞ্জাবিতে হালকা এমব্রয়ডারির সাধারণ নকশা ও ফরমাল শার্টে চেক কাপড় প্রাধান্য পেয়েছে। নারীদের কাপড়েও জোর দেওয়া হয়েছে কটন সুতায়। একই সঙ্গে ভিসকোস, মসলিন, সিল্ক-ভিসকোস, জর্জেট, জুম, ক্রেপ, ডবি, জ্যাকার্ড, ব্লেন্ডেড ফেব্রিকের মতো ব্রিদেবল ও আরামদায়ক কাপড়ের পসরাও দেখা যাবে ব্র্যান্ডগুলোতে। এবার ফারসি টাইপ ড্রেসে নারীদের আগ্রহ বেশি। একই সঙ্গে টু-পিস, সারারা-গারারা ও রেডি শাড়িতে নারীদের অন্য রকম চাহিদা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কয়েকটি বিপণি-বিতান ও দেশীয় একাধিক ফ্যাশন ব্র্যান্ডের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘লা রিভ’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মন্নুজান নার্গিস বলেন, ‘ক্রেতারা লা রিভের নতুন ঈদ কালেকশন খুবই পছন্দ করেছেন। আমরা ডিজাইনে সব ধরনের কাপড় রেখেছি, তবে বসন্তের মৌসুম চলছে বলে ফেব্রিক বাছাইয়ে কমফোর্ট বা আরামকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। এ কারণে কটন বা সুতি, ভিসকোস, মসলিন, সিল্ক-ভিসকোস, জর্জেট, জুম, ক্রেপ, ডবি, জ্যাকার্ড, ব্লেন্ডেড ফেব্রিকের মতো ব্রিদেবল ও আরামদায়ক কাপড়ই বেশি ব্যবহার করা হয়েছে।’

পাঞ্জাবির বিষয়ে তিনি বলেন, পাঞ্জাবির ক্ষেত্রে হাই-এন্ড বা বিশেষায়িত কাপড়ের ব্যবহার বেশি দেখা যাবে। এবার বাঁশ ও সরনার তন্তু মিশ্রিত ফেব্রিকের পাঞ্জাবি ডিজাইন করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, কচুরিপানার ফাইবারকে সরনা বলা হয়। পাশাপাশি টেনসেল ও লায়োসেল ফাইবার-ব্লেন্ডেড কাপড়ও আনা হয়েছে। এই কাপড়গুলো খুবই আরামদায়ক কিন্তু দেখতে লাক্সারিয়াস ফিল দেয়। রিঙ্কেল-ফ্রি কাপড়ের ডিজাইনও দেখা যাবে। কলার ও প্লাকেটে রুচিশীল কারচুপি, এমব্রয়ডারির পাশাপাশি শুদ্ধ হাতের কাজ করা হয়েছে।

নারীদের পোশাকের বিষয়ে মন্নুজান নার্গিস বলেন, ‘আমরা প্রতিটি নতুন কালেকশনে থিম বেজড কাজ করি। এই ঈদের কালেকশনের নাম মোজাইক, যার মাঝে দশটি প্রিন্ট স্টোরি আছে। সিলুয়েটে ভ্যারিয়েশন রাখা হয়েছে— শর্ট, মিডিয়াম ও লং। শর্ট লেন্থের কামিজ ও টিউনিকের সঙ্গে ফার্সি সালোয়ার, ওয়াইড লেগ বটমস; মিডিয়াম লেন্থের পোশাকের সঙ্গে সারারা, পালাজ্জো এবং লং লেন্থের টিউনিক, আবায়া, গাউনের সঙ্গে প্যান্ট-পায়জামা ও লেগিংস পেয়ার করা হয়েছে। নেকলাইন ও স্লিভেও বৈচিত্র্য আছে। স্লিভের মধ্যে ফুল ও থ্রি-কোয়ার্টার বেল স্লিভ, কিমোনো স্লিভ, বেলুন পাফের পাশাপাশি কাফস স্লিভস ডিজাইন করা হয়েছে। নেকলাইনে হাই নেক, স্ট্যান্ড কলার, ল্যাপেল কলার, ব্যান্ড কলার, ভি-নেক ও শার্ট কলার দেখা যাবে।’

দেশীয় পোশাক ব্র্যান্ড ‘উইনার’-এর ব্র্যান্ড ম্যানেজার রাজু আহমেদ বলেন, ‘এবারের ঈদটি এসেছে গরমের শুরু ও শীতের শেষ সময়ে। পোশাক নির্বাচনে আরাম ও আবহাওয়ার উপযোগিতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উইনার স্টাইলের বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে এবার ঈদ কালেকশন নিয়ে এসেছে। উইনার ছেলেদের পাঞ্জাবিকে এবার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। থাকছে বিভিন্ন রঙ, কাট ও এমব্রয়ডারি ডিজাইনের পাঞ্জাবি, যা নামাজ কিংবা সারাদিনের ঈদ আড্ডার জন্য উপযোগী।’

উইনারের এই ব্র্যান্ড ম্যানেজার বলেন, ‘ফ্যাব্রিক হিসেবে এবার ব্যবহার করা হয়েছে আরামদায়ক কটন উপাদান, যাতে গরমে স্বস্তি বজায় থাকে আবার হালকা আবহাওয়ায়ও মানানসই হয়। পাশাপাশি সলিড প্রিন্টেড টি-শার্ট, পোলো শার্ট, ডেনিম প্যান্ট, গ্যাবার্ডিন প্যান্ট, ফরমাল আউটফিট এবং ক্যাজুয়াল আউটফিটও থাকছে। এছাড়া আমাদের প্রধান প্রোডাক্ট ইনারওয়্যার, বক্সার ও ভেস্টেও থাকছে নতুনত্ব, যা ক্রেতাদের জন্য স্মার্ট ও কমফোর্টেবল অপশন তৈরি করে।’

মেয়েদের পোশাকের বিষয়ে রাজু আহমেদ বলেন, মেয়েদের ক্ষেত্রে হালকা, শ্বাস-প্রশ্বাসযোগ্য ও আরামদায়ক ফ্যাব্রিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ট্রেন্ডি ডিজাইনের ওয়ান পিস, কর্ড সেট, থ্রি পিস সেট ও ফ্যাশন টপস রয়েছে। এছাড়া, গরমের কথা মাথায় রেখে কটন ও নতুন ফেব্রিক ব্যবহার করা হয়েছে, যা দীর্ঘ সময় পরিধানে স্বস্তি দেবে। স্লিভ ডিজাইনেও রাখা হয়েছে বৈচিত্র্য— কোয়ার্টার ও ফুল স্লিভ অপশন রাখা হয়েছে যাতে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া যায়।

বসুন্ধরা সিটির ‘টুয়েলভ ক্লদিং’-এর নিচতলার আউটলেট ইনচার্জ ইমরান হোসেন বলেন, ঈদ সামনে রেখে পাঞ্জাবি ও থ্রি-পিসের নতুন কালেকশন এসেছে। শোরুমে এখন যেসব কাপড় এসেছে তার সবই নতুন। মেয়েদের কাপড়ের মধ্যে টিউনিক ও কর্ড সেটের চাহিদা বেশি। প্রিমিয়াম পাঞ্জাবি ও গাউনের চাহিদাও ভালো। 

‘জেন্টল পার্ক’-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার সাজেদুল হক নাঈমও একই ধরনের ইতিবাচক সাড়ার কথা জানান।

বিক্রেতারা বলছেন, নারীদের সব সময় থ্রি-পিসে বেশি ঝোঁক থাকে। ঈদ সামনে রেখে নারীদের পোশাকে এবার নতুন ট্রেন্ড হিসেবে উঠে এসেছে ‘ফার্সি টাইপ’ ড্রেস। রোজার আগ থেকেই এ ধরনের পোশাকের চাহিদা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। এছাড়া সারারা-গারারা ড্রেসের চাহিদাও এবার বেশি। 

বসুন্ধরা সিটিতে মেয়েদের পোশাকের দোকান ‘টিনিস ফ্যাশন’-এর বিক্রয়কর্মী এলি বলেন, নারীরা এবার ফার্সি সালোয়ার বেশি চাচ্ছেন। রোজার আগে থেকে এই ড্রেসের প্রতি নারীদের বাড়তি আকর্ষণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়া নারীদের পছন্দ গর্জিয়াস অরগাঞ্জা ও জর্জেট। বাংলাদেশি বুটিকসের ডিজাইনে তৈরি পোশাকেও ঝোঁক রয়েছে।

নিউ মার্কেটের বিক্রেতারা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার বেচাকেনা ভালো হবে। এবার ঈদের বাজারের প্রথম থেকেই ভালো সাড়া মিলছে, আগামী সপ্তাহ থেকে বিক্রি আরও বাড়তে পারে।

বিকেপি/এমএইচএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

বাজার দর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর