Logo

অর্থনীতি

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচ পড়ছে রড-সিমেন্টের বাজারে

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬, ২২:৫০

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচ পড়ছে রড-সিমেন্টের বাজারে

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব শুরু হয়েছে দেশের প্রধান নির্মাণসামগ্রী রড ও সিমেন্টের বাজারে। বৈশ্বিক বাজারে কাঁচামালের দরবৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে ডিজেল ও গ্যাস সংকটের প্রভাবে অস্থির হয়ে উঠেছে এই খাত। মাত্র দুই সপ্তাহে প্রতি টন রডের দাম বেড়েছে ৬–৭ হাজার টাকা, আর প্রতি বস্তা সিমেন্টের দাম বেড়েছে ১৫–২০ টাকা। এতে নির্মাণ খাতের উদ্যোক্তা ও যারা বাড়ি নির্মাণের স্বপ্ন দেখছেন তাদের উদ্বেগ বাড়েছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে দাম ধীরে ধীরে বেড়ে আসছিল। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কোম্পানিগুলো হঠাৎ করে দাম আরও বাড়িয়েছে। রড-সিমেন্ট উৎপাদনকারীরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং দেশে ডিজেল ও গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। ট্রাক সংকটের কারণে ডিলার পর্যায়ে পণ্য পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে।

রাজধানীর তেজতুরি বাজারে ভালো ব্র্যান্ডের প্রতি টন রড বিক্রি হচ্ছে ৯৪–৯৬ হাজার টাকায়, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ছিল ৮৫–৮৬ হাজার টাকা। তুলনামূলক কম পরিচিত ব্র্যান্ডের রডের দামও বেড়ে ৯০ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। সিমেন্টের দামও একইভাবে ঊর্ধ্বমুখী; ফ্রেশ ব্র্যান্ডের সিমেন্টের বস্তা এখন ৫০০–৫১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ড. সুমন চৌধুরী জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক কাঁচামালের দাম বেড়েছে, জাহাজভাড়া বেড়েছে, এবং দেশে ডিজেল ও গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। এতে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব রডের দামে পড়ছে।

সিমেন্ট খাতেও কাঁচামালের দাম বেড়েছে। ক্লিংকার, জিপসাম, স্ল্যাগ, চুনাপাথর ও ফ্লাই অ্যাশের দাম ৮–১২ ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি গ্যাসের সংকটও উৎপাদন ব্যাহত করছে।

পরিবহন খাতের সমস্যা আরও জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। দীর্ঘ লাইনের কারণে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চালকরা সময়মতো গাড়ি চালাতে পারছেন না, ফলে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দিতে হচ্ছে।

নির্মাণ খাতের ওপর প্রভাব পড়ছে বড়। রিহ্যাবের সিনিয়র সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, রড-সিমেন্টের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি অনেক নির্মাণ প্রকল্প বন্ধ করতে বাধ্য করতে পারে, ফ্ল্যাটের দাম বেড়ে যেতে পারে, ব্যক্তিগত বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা স্থগিত হতে পারে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট খাতের সংগঠনগুলোকে এই পরিস্থিতি তদারকির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর