দেশের বাজারে আবারও বড় ধাক্কা খেল সোনার দাম। টানা দরপতনে গত ১৬ দিনে প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার ৫৭৫ টাকা কমেছে সোনার দাম। বিশ্ববাজারে মূল্য নিম্নমুখী থাকায় এই সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।
শুক্রবার (আজ) সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সোনার দামে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে। বাজুসের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমানো হয়েছে। এর আগে গত বুধবারও ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমানো হয়েছিল। নতুন দর সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, হলমার্ক করা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের সোনা ভরিতে ৬ হাজার ২৯৯ টাকা কমে হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম ৫ হাজার ৩৬৬ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা।
এর আগে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকায়। ২১ ক্যারেট ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকায় লেনদেন হয়েছে।
বিশ্ববাজারে দীর্ঘদিন ধরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ বিনিয়োগের প্রবণতায় সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। গত বছর বিশ্ববাজারে সোনার দাম ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। এর প্রভাবে গত ২৯ জানুয়ারি দেশের বাজারে ভরিতে সোনার দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছায়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার মাঝেও সোনার দাম স্থিতিশীল থাকার পর গত সপ্তাহের শেষ দিকে দরপতন শুরু হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি এবং সুদের হার নিয়ে পরস্পরবিরোধী সংকেত মূল্যায়ন করছেন—যার প্রভাব পড়ছে সোনার দামে।
শুক্রবার দুপুরে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ৪ হাজার ৪৬৭ ডলার, যা আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি। তবে গত সোমবার এটি নেমে গিয়েছিল ৪ হাজার ১০০ ডলারের ঘরে, যা ছিল গত ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সামনে সোনার দামে আরও ওঠানামা হতে পারে।

