Logo

অর্থনীতি

নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নে ১০ দাবি

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬, ২১:১৩

নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নে ১০ দাবি

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ চেয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনটি পে-স্কেল বাস্তবায়নে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেছে। 

রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা যায়। চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাষ্ট্র পরিচালনা, জনসেবা প্রদান এবং নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও দীর্ঘদিন ধরে তাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন হয়নি।

এতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, পদোন্নতিবঞ্চনা এবং ব্লক পোস্ট সমস্যার কারণে কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ১১ বছরে দুটি পে-স্কেল পাওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটি পে-স্কেলও বাস্তবায়ন হয়নি। এ পরিস্থিতিতে নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে দাবি করা হয়।

এতে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা গেলে প্রশাসনের দক্ষতা ও মনোবল আরো বাড়বে। এ কারণে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ চাওয়া হয়েছে, যাতে তারা সরাসরি তাদের দাবি ও বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরতে পারেন।

সংগঠনটির উত্থাপিত ১০ দাবি হলো: ১. অবিলম্বে ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়ন করা; ২. সার্ভিস বেনিফিটসহ টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল; ৩. ব্লক পোস্ট সমস্যা সমাধান করে পদোন্নতির পথ সুগম করা; ৪. কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পরিবারের স্বাস্থ্য ও আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি; ৫. কর্মকর্তা-কর্মচারীর দক্ষতা ও মানসিক কল্যাণ বৃদ্ধি; ৬. স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে অযাচিত পোস্টিং ও পদোন্নতি বাধা দূর করা; ৭. সমন্বিত অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা: সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা; ৮. নাগরিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৈনন্দিন জীবন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; ৯. প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন প্রগ্রাম: কর্মকর্তা-কর্মচারীর দক্ষতা ও মানসিক কল্যাণ বৃদ্ধি করা; ১০. স্থানান্তর ও পোস্টিং নীতি: স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে অযাচিত পোস্টিং ও পদোন্নতি বাধা দূর করা।

এদিকে, আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত হতে যাচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বিশাল জাতীয় বাজেট। বিএনপি সরকারের আমলের প্রথম এই বাজেটের আকার হতে পারে প্রায় ৯ লাখ কোটি টাকা। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই বাজেটকে ঘিরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যেমন রয়েছে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা, তেমনি বিরাজ করছে চরম উৎকণ্ঠা। বিশেষ করে নবম জাতীয় বেতন স্কেল এই বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসায় তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

পে-স্কেলের অর্থায়ন নিয়ে জটিলতা: অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পে-স্কেল পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বর্তমানে এর অর্থায়ন নিয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা। অভিযোগ উঠেছে, পে-স্কেলের জন্য নির্ধারিত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি বড় অংশ ফ্যামিলি কার্ড ও জ্বালানি তেলের ভর্তুকিতে ব্যয় করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান মূল্যস্ফীতির চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে সরকারের ওপর চরম অর্থনৈতিক চাপ রয়েছে। ফলে নতুন পে-স্কেল একবারে বাস্তবায়ন করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, পে-স্কেলের সুপারিশ এবং প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ না দেখে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে। তাই ট্যাক্স রেভিনিউ এবং সামগ্রিক অর্থনীতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

অসন্তোষ ও আন্দোলনের শঙ্কা: দীর্ঘদিন ধরে নতুন বেতন কাঠামোর দাবিতে আন্দোলন করে আসা সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে চাপা অসন্তোষ বিরাজ করছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জানুয়ারি থেকে না হলেও অন্তত জুলাই থেকে যেন নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা হয়। বাজেটে সুনির্দিষ্ট প্রতিফলন না থাকলে সচিবালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান ও অবস্থান কর্মসূচির মতো আন্দোলনের ডাক আসতে পারে, যা প্রশাসনের চেইন অফ কমান্ডে অস্থিরতা তৈরির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন