বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১১৫ ডলার ছাড়ালো
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫:৫৫
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ তীব্র হওয়ায় সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে এশিয়ার বাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং শেয়ারবাজারে বড় পতন দেখা গেছে।
এদিকে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম তিন শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দাম প্রায় তিন দশমিক পাঁচ শতাংশ বেড়ে ১০৩ ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে ব্রেন্ট তেল ইতিহাসে সর্বোচ্চ মাসিক লাভের পথে রয়েছে।
এদিকে এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক চার দশমিক পাঁচ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক চার শতাংশ কমেছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান হুমকি দিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা জাহাজে হামলা চালানো হতে পারে। এই হুমকির কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
সাধারণত বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন হয়। কিন্তু পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে।
ম্যাকুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি বাজার বিশেষজ্ঞ শন ফোলি বলেছেন, সংঘাত কমানো না গেলে তেলের দাম আরো বাড়তে পারে। তার মতে, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলার আশঙ্কাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
তারা বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে যাওয়া জ্বালানি বহনকারী জাহাজে হামলা করতে পারে। ফোলি সতর্ক করে বলেন, যদি এই জলপথও বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে বিশ্বের আরো প্রায় ১০ শতাংশ তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এতে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার ওপর বড় চাপ পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর আগের দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি ব্রেন্ট তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭২ ডলার। পরে ১৮ মার্চ তেলের দাম ১১৯ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছে যায়, যা ২০২২ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরান বিশ্ববিদ্যালয় ও মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বাড়িতে প্রতিশোধমূলক হামলার হুমকি দেওয়ার পর এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি ইরানের তেল দখল করতে পারেন এবং সম্ভবত দেশটির প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপও দখল করে নিতে পারেন।
দ্বীপটিতে ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না তাদের কোনো প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আছে। আমরা খুব সহজেই এটি দখল করতে পারি।’
ট্রাম্প এই সম্ভাব্য পদক্ষেপকে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে তুলনা করেছেন, যেখানে জানুয়ারিতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর যুক্তরাষ্ট্র তেল শিল্পকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিয়ন্ত্রণ করার পরিকল্পনা করছে।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

