ছবি: সংগৃহীত
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নররা চাকরি হারানোর আতঙ্কে রয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রগুলো বলছে, আতঙ্ক থেকে তারা কাজ-কর্মে ঝিমিয়ে পড়েছেন। অথচ অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই শীর্ষ পর্যায় থেকে। শঙ্কা থেকে চুক্তি কীভাবে বহাল রাখা যায় সে জন্য সরকারের নানা পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ করছেন তারা। অবশ্য, দায়িত্ব পালনে ঢিলেমি করছেন ডেপুটি গভর্নররা এমনটি অস্বীকার করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ব্যাংকটির নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, চুক্তি বাতিল হতে পারে এমন আতঙ্ক সবচেয়ে বেশি প্রকাশ করছেন ডেপুটি গভর্নর ড. কবির আহমেদ। তিনি সরকারের নানা মহলে, এ নিয়ে যোগাযোগ করছেন। নতুন রাজনৈতিক সরকার যাতে, তার চুক্তি বাতিল না করে, সেজন্য তিনি দেন-দরবার করে যাচ্ছেন। এমনকি সরকার গঠনের পর, নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী যেদিন প্রথম অফিস করেন, সেদিন অর্থমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে ছুটে যান কবির আহমেদ।
সূত্রগুলো বলছে, ড. কবির আহমেদ বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে, তিন বছরের জন্য নিয়োগ পান এই পদে। ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তিনি ডেপুটি গভর্নর পদে যোগ দেন। তবে, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা রয়েছে। বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় তাকে আসামি করে দুদক। প্রায় হাজার কোটি টাকা ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় দুদক ওই মামলা করেছে।
ড. কবির আহমেদের সঙ্গে তিন বছরের জন্য নিয়োগ পান আরেক ডেপুটি গভর্নর জাকির হোসেন চৌধুরী। এ পদে যোগদানের আগে তিনি টাকসালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। তবে, জাকির আহমেদ বাংলাদেশ ব্যাংকে কিছুটা বিএনপি ঘরানার ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। অনেকে মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তার নিয়োগ হলেও, তিনি বিএনপির পছন্দে এ পদে আসেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, তিন আমলে সুবিধাভোগী ডেপুটি গভর্নর ড. হাবীবুর রহমান। তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পান। আওয়ামী লীগ সরকার তাকে পতনের আগে, ফেব্রুয়ারি মাসে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেয়। নজিরবিহীন ভাবে গবেষণা বিভাগ থেকে ডেপুটি গভর্নর হন তিনি। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভর করেন বিদায়ী গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের ওপর। ফলে জুলাই আন্দোলনের পর গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারসহ ডেপুটি গভর্নর, উপদেষ্টাসহ অনেককে চাকরি থেকে বিদায় নিতে হলেও, বহাল থাকেন হাবীবুর রহমান।
এদিকে, চার ডিজির আরেকজন নুরুন নাহার। তিনিও নিয়োগ পান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে তিনি এই পদে যোগ দেন। ফলে তার চুক্তি শেষ হতে আর তিন মাস বাকি। সরকার শেষ মুহূর্তে তার চুক্তি বাতিল করতে নাও পারে। ফলে তিনি তার মেয়াদ পূর্ণ করতে যাচ্ছেন।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ডেপুটি গভর্নরকে নিয়ে মন্তব্য করা আমার এখতিয়ারের মধ্যে নেই। তবে, তারা কাজ করছেন না এমনটি সত্য নয়। সহকর্মী হিসেবে, শঙ্কার কথা বলেননি।
জানা গেছে, কবির আহমেদ, জাকির হোসেন ও হাবীবুর রহমান নানা কৌশলে গভর্নরের গুডবুকে থাকার চেষ্টা করছেন। ব্যবসায়ী থেকে গভর্নর হওয়া মোস্তাকুর রহমানের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ আচার কিছুটা অপরিচিত। সেই সুযোগ নিতে তারা নিজেদের মতো করে চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন নিজেকে দক্ষ হিসেবে। তবে, আহসান এইচ মনসুরের সময় প্রভাবশালী কবির আহমেদ অনেকটা বেসরকারি খাতের বিরুদ্ধে। তিনি ব্যক্তি খাতের উলম্ফন সমর্থন করেন না। উল্টো নানা সময়, বেসরকারি খাত নিয়ে তার নেতিবাচক অবস্থান ও মত সহকর্মীদের কাছে প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
নতুন রাজনৈতিক সরকার প্রশাসন, পুলিশসহ সব খাতে নিজেদের মতো রববদল করছেন। অনেককে চাকরি শেষ হওয়ার আগেই অবসরে পাঠাচ্ছেন। গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের চুক্তিও বাতিল করে সরকার। ফল সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ডেপুটি গভর্নররাও মনে করছেন তাদের এই পদে থাকাটা কঠিন হবে।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

