Logo

অর্থনীতি

ভয়াবহ সংকটে কৃষি

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় সারের দাম আকাশচুম্বী

Icon

বিজনেস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫৩

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় সারের দাম আকাশচুম্বী

আসন্ন বসন্তকালীন রোপণ মৌসুমকে সামনে রেখে যখন কৃষকরা নতুন স্বপ্নের বুনন শুরু করার কথা, তখন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ গভীর হচ্ছে। ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান অস্থিরতার ফলে বিশ্ববাজারে সারের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠায় ২০২৬ সালটিও কৃষকদের জন্য একটি বড় লোকসানি বছর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ইউরিয়া রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে তিনটির পণ্যই হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অবরোধের ফলে সারের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এর পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম বড় সরবরাহকারী চীন ২০২৬ সালের আগস্টের আগে ইউরিয়া রপ্তানি না করার ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রবাদে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় ইউরোপে নাইট্রোজেন উৎপাদন স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এই ত্রিমুখী সংকটে নিউ অরলিন্স বন্দরে ইউরিয়ার দাম গত বছরের তুলনায় টনপ্রতি প্রায় ৬১ ডলার বেড়েছে।

ইলিনয় ফার্ম ব্যুরোর প্রেসিডেন্ট ফিলিপ নেলসনের মতে, "মুদ্রাস্ফীতির সাথে সমন্বয় করলে দেখা যায়, ফসলের দাম এখন ১৯৭৪ সালের পর্যায়ে রয়েছে, অথচ উৎপাদন খরচ বেড়েছে চার গুণ।" যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টার বাম্পার ফলন হওয়ায় বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ দানাশস্যের দাম কমিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে এক টন ইউরিয়া সার কিনতে একজন কৃষককে প্রায় ৯০ বুশেল ভুট্টা বিক্রি করতে হচ্ছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সরকারি সহায়তা ছাড়া ভুট্টা ও সয়াবিন চাষে ব্রেক-ইভেন বা সমান-সমান অবস্থানে থাকাও এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চরম প্রতিকূলতার মাঝে টিকে থাকতে কৃষকরা এখন উৎপাদন খরচে কাটছাঁট করছেন। ইলিনয়ের পঞ্চম প্রজন্মের কৃষক ডেভিড ইজারম্যান জানান, তিনি এখন 'নো-টিল' (বিনা চাষ) এবং 'স্ট্রিপ-টিল' পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন যাতে সারের অপচয় কমানো যায়। তিনি বলেন, "আমি ফলন বাড়ানোর চেয়ে মুনাফার দিকে বেশি নজর দিচ্ছি। সারে বিনিয়োগ করা প্রতিটি ডলারের বিপরীতে আমি সমপরিমাণ রিটার্ন নিশ্চিত করতে চাই।" অনেক কৃষক এখন মাটির উর্বরতা পরীক্ষা করে সারের ব্যবহার কিছুটা কমিয়ে খরচ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষকদের এখন কেবল ফসল বিক্রির সময় নয়, সার কেনার সময়ও সারা বছরের বাজার দর পর্যবেক্ষণ করতে হবে। স্টোন-এক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোশ লিনভিলের মতে, "আমরা যেমন একবারে সব শস্য বিক্রি করি না, সারের ক্ষেত্রেও আমাদের একই নীতি অবলম্বন করা উচিত।" অনেক বড় খামারি এখন সিএমই গ্রুপের ফিউচার কন্ট্রাক্ট ব্যবহার করে আগেভাগেই সারের দাম নির্ধারণ বা হেজিং করছেন, যাতে বাজারের আকস্মিক ঊর্ধ্বগতি থেকে বাঁচা যায়।

সবমিলিয়ে, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি আর জ্বালানি সংকটের মারপ্যাঁচে বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তার মূল কারিগর কৃষকরা এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। দ্রুত সারের দাম না কমলে বা সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি না পেলে কৃষি অর্থনীতিতে বড় ধরণের ধস নামার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন