Logo

অর্থনীতি

ইরান যুদ্ধের প্রভাব

মালয়েশিয়ায় ৩০ শতাংশ দাম বাড়তে পারে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর

Icon

বিজনেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ২১:১১

মালয়েশিয়ায় ৩০ শতাংশ দাম বাড়তে পারে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসামগ্রীর ওপর। বিশেষ করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় কনডমসহ জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর দাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম কনডম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়ার কারেক্স জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে লোহিত সাগর ও মধ্যপ্রাচ্যের নৌপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে কাঁচামাল আমদানির খরচ এবং জাহাজের ভাড়া অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।

কারেক্সের প্রধান নির্বাহী গোহ মিয়া কিয়াত এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরুর পর থেকে কনডম তৈরিতে ব্যবহৃত সিন্থেটিক রাবার, নাইট্রাইল, প্যাকেজিং অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল এবং লুব্রিকেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত সিলিকন অয়েলের দাম হু হু করে বাড়ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সেই বাড়তি ব্যয় ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।

তিনি আরও জানান, আগে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পৌঁছাতে এক মাস সময় লাগলেও এখন লাগছে প্রায় দুই মাস। অনেক পণ্য এখন মাঝসমুদ্রে জাহাজে আটকে আছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে মজুদে টান পড়েছে।

উল্লেখ্য, কারেক্স বছরে ৫০০ কোটিরও বেশি কনডম উৎপাদন করে। তারা শুধু নামী ব্র্যান্ডগুলোকেই পণ্য দেয় না, বরং জাতিসংঘের বৈশ্বিক সহায়তা কর্মসূচি এবং যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) মতো সংস্থাতেও বড় সরবরাহকারী। এর আগে মার্কিন সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডির বরাদ্দ কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক মজুদে এমনিতেই ঘাটতি ছিল, এখন যুদ্ধ সেই সংকটকে আরও তীব্র করেছে। বর্তমানে কনডমের চাহিদা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে পর্যাপ্ত মজুদ না থাকায় অনেক উন্নয়নশীল দেশে সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। একই অবস্থা তৈরি হয়েছে চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত রাবার গ্লাভস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও। তারা জানিয়েছে, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের দাম বাড়লে গ্লাভস ও মাস্কের দামও সমহারে বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরে না আসা পর্যন্ত সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ফলে সামনের দিনগুলোতে পরিবার পরিকল্পনা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ব্যবহৃত এসব সামগ্রী কিনতে সাধারণ মানুষকে বাড়তি অর্থ গুনতে হতে পারে।

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন