৯ বছরে আস্থার প্রতীক: ৫ লাখ নারীর পাশে ব্র্যাক ব্যাংক ‘তারা’
বিজনেস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ১৯:০৬
সংগৃহীত
দেশের নারীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ব্র্যাক ব্যাংকের উইমেন ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম ‘তারা’। যাত্রার নবম বছরে পদার্পণ করে প্ল্যাটফর্মটি এখন ৫ লাখেরও বেশি নারী গ্রাহকের আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে।
২০১৭ সালের ৪ মে যাত্রা শুরু করা ‘তারা’ প্রথমে একটি ব্যাংকিং সেবা হিসেবে শুরু হলেও, সময়ের সঙ্গে এটি পরিণত হয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ আর্থিক ইকোসিস্টেমে। বর্তমানে দেশের ব্যাংক খাতে নারীদের রিটেইল ডিপোজিটের প্রায় ২৫ শতাংশই রয়েছে এই প্ল্যাটফর্মের আওতায়।
নারীর প্রতিটি ধাপে পাশে ‘তারা’
‘তারা’র মূল লক্ষ্য- খুচরা থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ পর্যন্ত নারীর আর্থিক যাত্রার প্রতিটি ধাপে পাশে থাকা। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে গড়ে উঠেছে দুটি শক্তিশালী স্তম্ভ- ‘তারা রিটেইল’ ও ‘তারা এসএমই’।
‘তারা রিটেইল’: ঘরে ঘরে আধুনিক ব্যাংকিং
দেশের আটটি বিভাগের কর্মজীবী নারী, গৃহিণী, শিক্ষার্থী ও প্রবীণদের জন্য আলাদা সেবা নিয়ে কাজ করছে ‘তারা রিটেইল’। বর্তমানে এই সেগমেন্টে ৩ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহকের জমা রয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি।
গত ৯ বছরে গ্রাহকসংখ্যা বেড়েছে ৮০ গুণ এবং আমানত বেড়েছে ৬০ গুণেরও বেশি। ‘হোমমেকার্স অ্যাকাউন্ট’ গৃহিণীদের জন্য আয়ের প্রমাণের বাধা দূর করেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ৯৮ শতাংশ গ্রাহককে ডিজিটাল পদ্ধতিতে (ই-কেওয়াইসি) সেবার আওতায় আনা হয়েছে।
ব্যাংকিং সেবার পাশাপাশি মা দিবস, স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস ও আন্তর্জাতিক নারী দিবসে স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ‘তারা’। এছাড়া প্রশিক্ষিত ‘তারা অ্যাম্বাসেডর’দের মাধ্যমে গ্রাহকসেবার মান আরও উন্নত করা হয়েছে।
‘তারা এসএমই’: নারী উদ্যোক্তাদের শক্তির উৎস
‘তারা এসএমই’ এখন পর্যন্ত ১ লাখ ২৮ হাজারের বেশি নারী উদ্যোক্তাকে সেবা দিয়েছে। এই খাতে ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা এবং আমানত ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। শুধু গত এক বছরেই জমায় ৭২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
নারী উদ্যোক্তাদের খেলাপি ঋণের হার মাত্র ১.১৪ শতাংশ- যা ব্যাংকিং খাতে একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বাড়াতে ‘তারা উদ্যোক্তা মেলা’, ‘উদ্যোক্তা ১০১’ এবং ‘আমরাই তারা’সহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শত শত নারী উদ্যোক্তা ব্যবসা ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল বিপণন ও কর ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
এছাড়া ২ হাজার নারী উদ্যোক্তাকে বিনামূল্যে ইআরপি সফটওয়্যার দেওয়া হয়েছে, যা তাদের ব্যবসা ডিজিটালভাবে পরিচালনায় সহায়তা করছে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে উজ্জ্বল ‘তারা’
বিশ্বব্যাপী নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে কাজ করা ফাইন্যান্সিয়াল অ্যালায়েন্স ফর উইমেন-এর সদস্য হিসেবে ‘তারা’ অর্জন করেছে একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কার। এর মধ্যে রয়েছে-
উইমেনস মার্কেট চ্যাম্পিয়ন এনগেজমেন্ট এশিয়া অ্যাওয়ার্ড (২০১৭–২০১৯), অ্যাকসেস টু ফাইন্যান্স চ্যাম্পিয়ন (টানা ৪ বছর), জেন্ডার ডেটা চ্যাম্পিয়ন (২০২৫)।
এছাড়া বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আইএফসি এবং এসএমই ফাইন্যান্স ফোরাম আয়োজিত গ্লোবাল এসএমই ফাইন্যান্স অ্যাওয়ার্ডস-এও সম্মাননা অর্জন করেছে এই প্ল্যাটফর্ম। ২০২৪ সালে ‘প্রোডাক্ট ইনোভেশন অব দ্য ইয়ার – সেরা বাণিজ্যিক ব্যাংক’ বিভাগে প্ল্যাটিনাম পুরস্কার পায় ব্র্যাক ব্যাংক।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, নারীরা ব্যাংকিং খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ অংশ। তাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ সেবা নিশ্চিত করাই ‘তারা’র লক্ষ্য।
তিনি জানান, গত ৯ বছরে অর্জন সত্ত্বেও এখনও অনেক সম্ভাবনা বাকি রয়েছে, এবং ভবিষ্যতেও নারীদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে ‘তারা’ নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।
এই যাত্রায় ‘তারা’ শুধু একটি ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম নয়- বরং বাংলাদেশের নারীদের আর্থিক ক্ষমতায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

