Logo

অর্থনীতি

বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর দাবি ইস্পাত খাতের ব্যবসায়ীদের

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ২১:১৭

বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর দাবি ইস্পাত খাতের ব্যবসায়ীদের

রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএসএমএর সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

নতুন করে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ইস্পাত খাতের ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলেছেন, গত কয়েক বছরে কয়েক দফা গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় ইস্পাত খাত বর্তমানে আইসিইউতে আছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ালে সেই চাপ নিতে পারবে না এই খাতের কারখানাগুলো। অনেক কারখানা উৎপাদন কমাবে, কিছু কারখানা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ইস্পাত খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সংগঠনটির নেতারা। তাঁরা বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিপুল পরিমাণ ক্যাপাসিটি চার্জ ও সিস্টেম লস বন্ধ করলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না।

মঙ্গলবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএসএমএর সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ মাসাদুল আলম, বর্তমান পর্ষদের মহাসচিব সুমন চৌধুরী, সহসভাপতি মো. রেজাউল করিম প্রমুখ।

বিএসএমএর সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মহামারি করোনাভাইরাসের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও কাঁচামালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, ডলার সংকট ও মুদ্রার বিনিময় হারের ব্যাপক অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতসহ বিভিন্ন কারণে দেশের শিল্প ও বিনিয়োগ চ্যালেঞ্জিং অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি খাতে নির্মাণকাজের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় ইস্পাতের চাহিদাও হ্রাস পেয়েছে। উচ্চ ব্যাংক সুদহার, ঋণ সুবিধার সীমাবদ্ধতা, গ্যাস–সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও কার্যকরী মূলধনের সংকট শিল্প–কারখানার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।

বিএসএমএ সভাপতি বলেন, গত কয়েক বছরে শিল্প খাতে বিদ্যুতের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্যাসের দাম কিছু ক্ষেত্রে প্রায় ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এই বাস্তবতায় আবার বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হলে উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাবে। তাতে বাংলাদেশের শিল্প খাত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে। তিনি আরও বলেন, ‘ইস্পাত খাতের অধিকাংশ কারখানা বড় কারখানা সরাসরি জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে থাকে। সে কারণে ইস্পাত খাতে কোনো সিস্টেম লস, ট্রান্সমিশন লস বা ডিস্ট্রিবিউশন লস থাকে না। তারপরও আমাদের ওপর ডিমান্ড চার্জ, অতিরিক্ত ভ্যাট, পাওয়ার ফ্যাক্টর–সংক্রান্ত জরিমানার মতো বিভিন্ন ধরনের অযৌক্তিক চার্জ আরোপ করা হচ্ছে। বাস্তবে এগুলো বিদ্যুতের কার্যকর মূল্য বাড়িয়ে দেওয়ার একটি পরোক্ষ পদ্ধতিতে পরিণত হয়েছে।’

ইস্পাত খাতের জন্য বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি না করার দাবি জানিয়ে বিএসএমএ সভাপতি বলেন, অযৌক্তিক ডিমান্ড চার্জ ও অতিরিক্ত ভ্যাট হ্রাস করা উচিত। পাওয়ার ফ্যাক্টরভিত্তিক অতিরিক্ত চার্জের নীতি পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। এ ছাড়া শিল্প–কারখানার জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগবান্ধব জ্বালানি নীতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইস্পাত খাতে বর্তমানে ৩৫টি কারখানা উৎপাদনে আছে। তাদের সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ২০ লাখ টন। স্বাভাবিক সময়ে ৭০ থেকে ৭৫ লাখ টনের চাহিদা থাকে। তবে বর্তমানে সেই চাহিদা ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টনে নেমেছে। তার মানে কারখানাগুলো উৎপাদন সক্ষমতার ৪০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে।

মহাসচিব সুমন চৌধুরী বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণশুনানি পরশু দিন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে আমাদের ইস্পাত খাতের জন্য আলাদা দাম নির্ধারণ করুন। ইস্পাতের দাম বেড়ে গেলে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে খরচ বাড়বে। সাধারণ মানুষের বাড়ি বানানোর খরচও বাড়বে।

বাংলাদেশের খবর/কেএইচ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন