বাজেটে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রায় বাস্তবতার সংকট
আসছে বাজেটের আকার হতে পারে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা
বিজনেস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ২০:২৩
আগামী অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে রাজস্ব আহরণ নিয়ে। কারণ, প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হলেও সর্বোচ্চ আদায় হয়েছে মাত্র ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অর্থনৈতিক চাপ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ধীর বিনিয়োগের সময়ে উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বড় চ্যালেঞ্জ।
এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেই রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে। অথচ আগামী অর্থবছরে প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণের পথে সরকার। প্রশ্ন উঠছে, এতো বড় ব্যবধান কীভাবে?
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, শুধু করের হার বাড়িয়ে নয় বরং আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। বিশেষ করে সম্পদশালী ব্যক্তি, ডিজিটাল ব্যবসা ও অনানুষ্ঠানিক খাতকে করের আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, নতুন সরকারের প্রথম বাজেট শুধু বড় অঙ্কের হলেই হবে না, হতে হবে বাস্তবসম্মত, আস্থাবর্ধক এবং অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার রূপরেখা। নতুন বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা নিশ্চিতের পরামর্শ দিয়েছেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান। কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণই এখন সরকারের বড় পরীক্ষা বলে উল্লেখ করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বাংলাদেশের খবর/কেএইচ

