আয় বাড়াতে গ্রাহকের পকেটে নজর বেসরকারি ব্যাংকগুলোর
এস রহমান খান
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১৬:১৯
প্রতীকী ছবি
# আমানতকারীর থেকে বাড়তি চার্জ কাটার আবদার
# ঋণ প্রস্তাবেও গুনতে হবে বেশি খরচ
# এবিবির প্রস্তাব আমানতকারীদের ব্যাংক বিমুখ করবে: বিবি
# নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে গ্রাহকের টাকায় নজর: অর্থনীতিবিদ
এবার আমানতকারীদের পকেট কাটার চেষ্টা করছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। ব্যাংকে হিসাব পরিচালনা করতে গেলেই গ্রাহককে গুনতে হবে বাড়তি চার্জ। আবার চেকে লেনদেনেও চার্জ আরোপের আবদার তুলছেন ব্যাংক এমডিরা। এ নিয়ে বাংলাদশ ব্যাংককে চিঠিও দিয়েছে এমডিদের জোট-এবিবি। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সহজে আয় বাড়ানোর কৌশলে সম্মতি দেবে না তারা।
জানা গেছে, এবিবি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি দিয়ে নতুন চার্জ অনুমোদন চেয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, এমন চিঠি আমরা পেয়েছি। তবে, এটি স্পষ্ট এখানে আমানতকারীর লোকসান হবে। আর এটি হলে ব্যাংক বিমুখ হবেন সাধারণ মানুষ। গ্রাহকের বিরুদ্ধে যায়, এমন সিদ্ধান্তে সায় দেবে না নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকগুলো সহজে আয় বাড়াতে চায় এটি তারই নজির। তবে আমাদের পরামর্শ থাকবে, সুদ আয় বাড়াতে। সহজে আয় বাড়ানোর পথে হাঁটা আমরা সমর্থন করব না।
চিঠিতে এবিবি বর্তমানে বিনা খরচে সেবা পাওয়া যায় এমন কিছু সেবাতেও দিতে চার্জ আরোপের প্রস্তাব করেছে। তবে, ব্যাংকগুলোর এমন প্রস্তাবকে অনৈতিক বলছেন বিশ্লেষকরা। বলছেন, এতে আমানতকারীরা হবেন ব্যাংক বিমুখ।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট-বিআইবিএম-এর সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, বাছ-বিচার ছাড়া ঋণ দিয়ে লোকসান করছে অনেক ব্যাংক। ফলে তাদের আয় কমে গেছে। এতে লোকসানও গুনতে হচ্ছে। কিন্তু খেলাপি ঋণের সেই দায় কৌশলে আমানতকারীদের থেকে আদায় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বেশ কিছু ব্যাংকের দুরাবস্থার কারণে আমানত ব্যাংকিং খাত নিয়ে এমনিতে কিছুটা উদ্বিগ্ন। টাকা রেখে ফেরত পাওয়া যাচ্ছে না। আবার সঞ্চয়ে যে সুদ দে তা মূল্যস্ফীতির থেকে অনেক কম। এমন অবস্থায় নতুন করে চার্জ বাড়ানোর ঠিক হবে না। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে উদ্যোগ ক্যাশলেস রাষ্ট্র গঠন করা সেটি ব্যাহত হবে। মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখা কমিয়ে দেবে।
জানা গেছে, সরকার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন, ক্যাশলেস রাষ্ট্র গঠনের পথ। সে লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচারণাও শুরু করেছে তারা। তখন গ্রাহকদের ব্যাংক বিমুখ করার কৌশল বেসরকারি ব্যাংকগুলোর। নিজেদের আয় বাড়াতে তাই আমানতাকরীদের অর্থে নজর তাদের। চলতি কিংবা সঞ্চয়ী হিসাবে, তাই চার্জ বাড়ানোর আবদার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে।
জানা গেছে, এখন কোনো গ্রাহকের চলতি হিসাব থাকলে বার্ষিক চার্জ ৬০০ টাকা, কিন্তু ব্যাংকগুলো সেটি এক হাজার টাকা করতে চায়। আবার ক্যাশ কাউন্টার থেকে টাকা উত্তোলন ফ্রি থাকলেও, নতুন প্রস্তাব, ২০ টাকার বেশি লেনদেনে প্রতিবার গুনতে হবে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।
সঞ্চয়ি হিসাবের বার্ষিক চার্জও ১০০ টাকা বাড়ানোর দাবি। বর্তমানে প্রতি ছয় মাসে যা ২৫০ টাকা, সেটি ৩০০ টাকার প্রস্তাব। অন্যদিকে, ক্যাশ কাউন্টার থেকে মাসে তিনটির বেশি লেনদেন করতে গেলেই টাকা কাটতে চায় ব্যাংকগুলো। ১০টির বেশি লেনদেন করতে গেলে প্রতিবার দিতে হবে ৩০০ টাকা।
এবিবি চিঠিতে বলছে, তাদের ব্যয় বেড়ে গেছে। বর্তমান ব্যাংকিং বাস্তবতায় ও সেবার চিত্র বিবেচনায় এই নতুন চার্জ প্রস্তাব তাদের। তবে, টেলিফোনে কয়েকজন এমডির কাছে প্রস্তাবের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে, তারা মন্তব্য করতে চাননি।
চিঠিতে তারা ঋণ আবেদন প্রক্রিয়াতেও চার্জ বাড়ানোর দাবি করেছে। বর্তমানে যেখানে ৫০ লাখ টাকা পযন্ত ঋণ প্রক্রিয়ায় খরচ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ, সেটি বাড়িয়ে দুই শতাংশ করতে চায় ব্যাংকগুলো। কেবল তাই নয়, কোনো গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব নতুন করে সক্রিয় করতে চাইলে গুনতে হবে ৫০০ টাকা।
এতোদিন গ্রাহক এই সেবা পেতেন বিনা খরচে। কোনো গ্রাহকের ঋণ বকেয়া থাকলে তারও ওপর এক শতাংশ হারে চার্জ ধার্য করতে চায় তফশিলি ব্যাংকগুলো। বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট আমানত প্রায় ২১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। আর আমানত হিসাব রয়েছে প্রায় ১৮ কোটি।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

