Logo

অর্থনীতি

চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত, অধরা গরিবের আমিষ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ২১:০৪

চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত, অধরা গরিবের আমিষ

# মুরগি-দুধ-ডিমের দামে ঊর্ধ্বগতি

# কাঁচা মরিচের ঝাঁজ কমলেও সবজিতে চড়া

# তেলাপিয়া-পাঙ্গাশও উঠছে না গরিবের পাতে

স্বল্প আয়ের মানুষের আমিষের প্রধান উৎস হলো ডিম, ছোট মাছ, চাষের পাঙ্গাশ-তেলাপিয়া ও ব্রয়লার মুরগি। তবে খাদ্যপণ্যের লাগামছাড়া ঊর্ধ্বগতির কারণে এসব সস্তা আমিষও অনেক সময় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সোনালী মুরগির দামও বেশি। একইসঙ্গে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়, আর প্রতি লিটার দুধের দাম পৌঁছেছে ১১০ টাকায়।

ফলে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য দৈনন্দিন আমিষের চাহিদা মেটানো আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। এদিকে, টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টির অজুহাতে রাজধানীর কাঁচাবাজারে অস্বাভাবিক দামে বিক্রি হলেও সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় বাজারে এখন সবজির দামে সামান্য স্বস্তি ফিরেছে। অধিকাংশ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হলেও কিছু সবজির দাম এখনও ১০০ টাকার ঘরে রয়েছে। 

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

জানা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। সোনালী মুরগির কেজি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের লাল ডিমের ডজন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা এবং প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। বিভিন্ন দোকান ঘুরে বিশেষ করে মিল্কভিটার দাম ১১০ টাকা। অন্যদিকে দেশি মুরগি ও দেশি ডিমের দাম আগের মতোই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

এদিকে, ভারত থেকে আমদানির প্রভাবে রাজধানীর বাজারে কমতে শুরু করেছে কাঁচামরিচের দাম। মাত্র এক সপ্তাহ আগেও খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন অনেক বাজারে তা ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় নেমে এসেছে। পাইকারি পর্যায়ে দাম আরও কমে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির দাম কিছুটা কমার আভাস পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত সবজির বাজার ক্রেতা সাধারণের নাগালের বাইরেই বলা চলে। এখনো ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে ঝিঙা, বেগুন, টমেটো। মরিচের কেজি এখনো ৩০০ টাকার ওপরে। বাদবাকি বেশির ভাগ সবজির কেজিই ৮০ টাকার আশেপাশে। বরবটি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধন্দুল ৬০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা এবং টমেটো ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, মুলা ৮০ টাকা, জালি ৬০ টাকা, গোল বেগুন ১০০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, কচু ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নারিন্দা কাঁচা বাজারের সবজি বিক্রেতা আমিনুল হক বলেন, ‘বৃষ্টির সময় খেত থেকে ঠিকমতো সবজি উঠেনি, তাই বাজারেও সরবরাহ কম ছিল। সে কারণে দাম বেড়ে গিয়েছিল। এখন পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো, বাজারে সবজিও বেশি আসছে। তাই বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে। তবে কিছু সবজির মৌসুম না থাকায় সেগুলোর দাম এখনও একটু বেশি।’

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ধুপখোলা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সরকারি চাকরিজীবী আবির ইমন বলেন, ‘আজ বাজারে এসে দেখলাম আগের চেয়ে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। এতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও সব ধরনের সবজি এখনও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসেনি। অনেক সবজির দাম কমলেও কিছু সবজি এখনো ১০০ টাকার কাছাকাছি বিক্রি হচ্ছে। বাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে।’

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দেখা যায়,  কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা করে বেড়েছে মাছের দাম। প্রতি কেজি চাষের জীবিত পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকায়, তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকায়। আর মানভেদে চিংড়ির কেজি এখন ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা। এছাড়া, ভেটকির কেজি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেলের কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম মাছের কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কইয়ের কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কইয়ের কেজি ৩০০ টাকা, পোয়ার কেজি ২৬০ টাকা এবং শোলের কেজি ৭০০ টাকা। 

আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া, রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে গুনতে হচ্ছে হাজার টাকার বেশি।

কারওয়ান বাজারের আড়ত ব্যবসায়ী মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘ভারত থেকে আমদানি করা কাঁচামরিচ এখন পাইকারি বাজারে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমদানি ব্যয় কেজিপ্রতি প্রায় ১৩৫ টাকা। পর্যাপ্ত সরবরাহ অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিন দাম আরও কিছুটা কমতে পারে। তবে খুচরা বাজারে এখনো অনেক বিক্রেতা বেশি দামে মরিচ বিক্রি করছেন।’

কিচেন মার্কেটের ডিম ব্যবসায়ী মো. রফিকুল হক বলেন, ‘বন্যার কারণে উৎপাদন কমেছে, এমন অজুহাত দেখিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা করছেন। বাজার তদারকি জোরদার না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।’

যাত্রাবাড়ী আড়তের ডিম বিক্রেতা জসিম বলেন, খামার পর্যায়ে ডিমের দাম বেড়েছে। বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রির সুযোগ নেই। তাই ডজনপ্রতি ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের দাবি, পোল্ট্রি খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে কার্যকর বাজার তদারকির অভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় আমিষপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না। ফলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বলে অভিযোগ করেন ক্রেতারা।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন