Logo

অর্থনীতি

বাংলা কিউআরে লেনদেনে মিলবে মাসিক প্রণোদনা

Icon

বিজনেস ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৫১

বাংলা কিউআরে লেনদেনে মিলবে মাসিক প্রণোদনা

বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে নতুন প্রণোদনা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আওতায় অনবোর্ড করা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পণ্য বিক্রেতা এবং সেবা প্রদানকারীদের বাংলা কিউআর ব্যবহার করে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন প্রতিটি যোগ্য লেনদেনের বিপরীতে মাসিক ভিত্তিতে প্রণোদনা দেওয়া হবে। একজন মার্চেন্ট মাসে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত এ প্রণোদনা পেতে পারেন।

সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে। সার্কুলারটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরের (পিএসও) প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, মার্চেন্ট পেমেন্ট সহজতর করা, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পণ্য ও সেবা বিক্রেতাদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার আওতায় আনা এবং দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও আন্তঃপরিচালনযোগ্য করাই বাংলা কিউআরভিত্তিক পরিশোধব্যবস্থা চালুর অন্যতম উদ্দেশ্য। এ ব্যবস্থার ব্যবহার আরও বাড়াতে নতুন এ প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

লেনদেনের ওপর প্রণোদনার হার

সার্কুলার অনুযায়ী, প্রণোদনার ক্ষেত্রে অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে লেনদেনের পরিমাণের ০.১০ শতাংশ এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠানকে ০.২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে। ফলে নির্ধারিত যোগ্য লেনদেনের বিপরীতে মোট প্রণোদনার হার দাঁড়াবে ০.৩০ শতাংশ।

তবে এ প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে একাধিক শর্ত আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, শুধু প্রণোদনা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো একটি লেনদেনকে একাধিক ছোট লেনদেনে ভাগ করা যাবে না। একইভাবে Transaction Structuring-এর মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে লেনদেনের সংখ্যা বাড়ানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বাতিল বা বিতর্কিত লেনদেনে প্রণোদনা নয়

কোনো লেনদেন ব্যর্থ (failed), বাতিল বা উল্টে দেওয়া (reversed), অর্থ ফেরত দেওয়া (refunded), চার্জব্যাক (chargeback), বিতর্কিত (disputed) অথবা পরবর্তী সময়ে বাতিল হলে সেই লেনদেনের বিপরীতে কোনো প্রণোদনা দেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংশ্লিষ্ট লেনদেনের রেকর্ড, মার্চেন্ট-সংক্রান্ত তথ্য, নিবন্ধন-সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য সহায়ক দলিল যাচাই ও পরিদর্শন করতে পারবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় তথ্য, উপাত্ত ও দলিল সরবরাহ করতে হবে।

কৃত্রিম লেনদেনে প্রণোদনা নিলে অর্থ ফেরত

কোনো প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত, কৃত্রিম বা ত্রুটিপূর্ণ লেনদেনের বিপরীতে ভুলভাবে প্রণোদনা গ্রহণ করলে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই অর্থ ফেরত নেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে প্রাপ্য প্রণোদনার সঙ্গে তা সমন্বয় করতে পারবে।

এ ছাড়া কোনো মার্চেন্টের অস্বাভাবিকসংখ্যক বা অস্বাভাবিক ধরনের লেনদেন পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে তা যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ, যাচাই ও পর্যালোচনা করতে হবে।

কৃত্রিমভাবে লেনদেনের পরিমাণ বাড়ানো, ক্যাশ আউট বা অন্য কোনো উপায়ে প্রণোদনা ব্যবস্থার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি ‘পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪’ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেনে নতুন প্রণোদনা-সংক্রান্ত এসব নির্দেশনা আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ উদ্যোগের ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ী ও সেবা প্রদানকারীদের মধ্যে বাংলা কিউআর ব্যবহারের প্রবণতা বাড়বে এবং দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশেরখবর/আরকে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন