ছবি: সংগৃহীত
দেশের শেয়ারবাজার থেকে একের পর এক কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নীরব প্রস্থান ঘটছে। পরিচালনা পর্ষদে থাকা মালিকপক্ষের অনিয়ম, লুটপাট ও দুর্বল ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। আর এর খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। যারা কোম্পানির পরিচালনা কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন, প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণেও যাদের কোনো অংশগ্রহণ নেই, তাদেরই শেষ পর্যন্ত পরিচালকদের সমপরিমাণ দায়ের বোঝা বহন করতে হচ্ছে।
বিষয়টি যেন ‘উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে’ চাপানোর মতো। প্রতিষ্ঠানের আর্থিকভিত্তি ধসে পড়ার কারণে একদিকে বিনিয়োগের মূল্য কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে কোম্পানি বন্ধ বা অবসায়নের সিদ্ধান্ত এলে শেয়ারের ন্যূনতম মূল্য পাওয়ার সুযোগটুকুও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একটি কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অনিয়মের দায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর চাপানো ন্যায্য নয়। কারণ সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পরিচালনা পর্ষদে থাকেন না, ঋণ বিতরণ বা অর্থ ব্যবহারের সিদ্ধান্তও নিতে পারেন না। এমনিতেই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তি ধসে পড়লে তাদের বিনিয়োগের মূল্য অনেক কমে যায়। এর ওপর কোম্পানির অবসান সিদ্ধান্তে শেয়ারের ন্যূনতম মূল্য প্রাপ্তির সুযোগ থেকেও তাদের বঞ্চিত করা হলে সেটি অন্যায্য হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ প্যাকেজের দাবি: ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, যেসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, সেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কোনো দোষ বা দায় ছিল না। এসব ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর সহায়তায় সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ প্যাকেজ বা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি বলেন, এই দাবি ও ক্ষতিপূরণের বিষয় নিয়ে তারা নিয়মিত নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সঙ্গে বৈঠক ও আলোচনা করছেন। কারণ বিএসইসিই তাদের যোগাযোগের মূল মাধ্যম বা কানেকশন পয়েন্ট।
সাইফুল ইসলাম আরও বলেন, এ ধরনের পুনর্বাসন বা ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ এককভাবে বিএসইসি তৈরি করতে পারবে না। এটি মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বিতভাবে করতে হবে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে প্রয়োজনীয় নেগোসিয়েশন বা সমঝোতা এগিয়ে নেওয়ার জন্য তারা বিএসইসির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার শূন্য, এখনো অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগকারীরা: দেশের শেয়ারবাজার থেকে প্রায় এক বছর আগে একীভূত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাঁচটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুসারে ব্যাংকগুলোর শেয়ারমূল্য শূন্য ঘোষণা করা হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, ব্যাংকগুলোর সম্পদের তুলনায় দায় বেশি হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা কিছুই পাবেন না।
এই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদে থাকা মালিক পক্ষের পাশাপাশি শেয়ারবাজারের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী শ্রেণিও রয়েছেন।
গত বছরের নভেম্বরে একীভূতকরণের প্রক্রিয়ায় থাকা ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়। ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক দায়িত্ব নেওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর তখন জানিয়েছিলেন, পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির মূল্য ঋণাত্মক হয়ে যাওয়ায় শেয়ারের মূল্য শূন্য হিসেবে বিবেচিত হবে। এসব ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ঋণাত্মক ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা পর্যন্ত ছিল। ফলে নতুন করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারও পুরোনো শেয়ারহোল্ডারদের না দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
কিন্তু এই সিদ্ধান্তে কেবল লুটপাটের সঙ্গে ব্যাংকের উদ্যোক্তা বা মালিকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হন না; বরং এসব ব্যাংকে শেয়ারবাজারের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা হাজারো সাধারণ বিনিয়োগকারীও তাদের বিনিয়োগ হারানোর মুখে পড়েন।
তখন ব্যাংকগুলোর অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এমন সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি নাÑ এমন প্রশ্নও ওঠে।
ক্ষতিপূরণের ঘোষণা, কেটে গেছে প্রায় এক বছর: শেয়ারমূল্য শূন্য ঘোষণা নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির বিষয়টি সরকারের আলোচনায় আসে। সমালোচনার মুখে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের একটি অংশ ফেরত দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
পাশাপাশি কোন প্রক্রিয়ায় তা ফেরত দেওয়া হবে, সেটি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে অর্থ মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান তিনি।
এই ঘোষণার প্রায় এক বছর অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত বিষয়টির সমাধান হয়নি।
পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ফলে পাঁচ ব্যাংকের ঘটনায় যে প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি মেলেনি, নতুন করে তিন এনবিএফআইয়ের শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন সামনে এসেছেÑপ্রতিষ্ঠানগুলো অবসায়নে গেলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দায় কতটা এবং তাদের বিনিয়োগের সুরক্ষা কোথায়?
নতুন করে তিন এনবিএফআই, আবারও সেই প্রশ্ন: গত ৯ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক চারটি এনবিএফআইকে অকার্যকর ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলোÑআভিভা ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। এর মধ্যে আভিভা ফাইন্যান্স বাদে বাকি তিনটি কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত।
বাংলাদেশ ব্যাংক চারটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নিজস্ব কর্মকর্তাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক দুরবস্থা, পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা কমে যাওয়া এবং দীর্ঘদিনের অনিয়ম বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর একদিন পর, ১০ আগস্ট থেকে তালিকাভুক্ত তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দেয় ডিএসই ও সিএসই।
এতে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে- এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগের কোনো অংশ ফেরত পাবেন কি না?
দীর্ঘদিনের অনিয়মে দুর্বল প্রতিষ্ঠান, বিপাকে শেয়ারহোল্ডার: খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দুরবস্থা নতুন নয়। ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফাস ফাইন্যান্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংসহ কয়েকটি দুর্বল এনবিএফআই দীর্ঘদিন ধরেই আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছিল না।
অথচ শেয়ারবাজারে কোনো কোনো সময় এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগ করে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো রিটার্ন পাননি শেয়ারহোল্ডাররা। তা সত্ত্বেও সময়ে সময়ে বিভিন্ন গুঞ্জনে এসব শেয়ারের দাম বেড়েছে।
অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ার তথ্য বাজারে থাকার পরও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ সেই ঝুঁকি থেকে বের হওয়ার সুযোগ পাননি।
এনবিএফআই খাতের সংকটের পেছনে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, ঋণখেলাপি বৃদ্ধি ও দুর্বল ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করা হচ্ছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের অবসায়ন উদ্যোগে থাকা নয়টি এনবিএফআইয়ের খেলাপি ঋণের হার ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকটের পেছনে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কথাও উঠে এসেছে।
এই নয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফাস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ছিল।
পিকে হালদারের বিরুদ্ধে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ও ফাস ফাইন্যান্সসহ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এখানেই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রশ্নÑযারা এসব ঋণ বিতরণ, অর্থ স্থানান্তর বা পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, তাদের কেন একইভাবে ক্ষতির দায় বহন করতে হবে?
আমানতকারীদের সুরক্ষা, শেয়ারহোল্ডারদের অনিশ্চয়তা: দুর্বল এনবিএফআইগুলোর ক্ষেত্রে আমানতকারীদের সুরক্ষার বিষয়টি তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ছয়টি সংকটাপন্ন এনবিএফআইয়ের ১২ হাজারের বেশি আমানতকারী দীর্ঘদিন ধরে তাদের টাকা ফেরতের দাবি জানিয়ে আসছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট আমানতের মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থও রয়েছে।
এই শ্রেণির আমানতকারীদের অর্থ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দুই ধাপে বা বিশেষ স্কিমের মাধ্যমে ফেরত দেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
তবে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষেত্রে অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে কি না, তা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করবে বলে জানানো হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, অবসায়নের পর প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোক্তা-পরিচালকেরা কিছুই পাবেন না। তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কিছু পাবেন কি না, তা শিগগির ঘোষিত স্কিমে স্পষ্ট করা হবে।
এতে একটি বড় বৈষম্যের প্রশ্নও সামনে এসেছে। আমানতকারীদের সুরক্ষায় যদি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে কোম্পানির মালিক বা পরিচালকদের অনিয়মে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের সুরক্ষার জন্য কী ব্যবস্থা থাকবে?
‘চিঠি আদান-প্রদানে সীমাবদ্ধ’ থাকতে চায় না বিএসইসি: বিষয়টি নিয়ে বিএসইসির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যদি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি অবসায়ন করা হয় এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে এ বিষয়ে তাদের তেমন কিছু করার সুযোগ থাকবে না।
সাধারণ অবসায়নের ক্ষেত্রে প্রথমে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রি করে দায় পরিশোধ করা হয়। সব দায় মেটানোর পর অর্থ অবশিষ্ট থাকলে শেয়ারহোল্ডাররা তা পাওয়ার সুযোগ পান।
তবে এই তিন এনবিএফআইয়ের ক্ষেত্রে সম্পদ বিক্রি করে দায় পরিশোধের সুযোগ খুবই কম। ফলে আমানতকারীদের স্বার্থে সরকার যদি অর্থ দেয়, তাহলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে মনে করে বিএসইসি।
এ বিষয়ে বিএসইসি নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অবসায়নের স্কিম করার ক্ষেত্রে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ দেখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অনেক আগেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। এতে তালিকাভুক্ত কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হলে ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো পক্ষের জন্য রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ রাখা হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীর জন্যও যেন বরাদ্দ রাখা হয়, সেটি উল্লেখ করা হয়েছে।
বিনিয়োগের আগে সতর্কতার পরামর্শ: বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, কোনো কোম্পানিতে না বুঝে, না দেখে বা বিবেচনা না করে বিনিয়োগ করা মোটেও উচিত নয়। যে কোম্পানিটি বিনিয়োগযোগ্য (ইনভেস্টেবল) নয়, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সেখানে বিনিয়োগ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
তিনি বলেন, যেসব দুর্বল কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মানুষ লাখ লাখ টাকা ডিপোজিট বা আমানত রেখেছিলেন, তারা নিজেরাই এখন তাদের টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। আমানতকারীরাই যেখানে তাদের টাকা পাচ্ছেন না, সেখানে সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা কীভাবে টাকা ফেরত পাবেন- এটি অত্যন্ত জটিল বিষয়।
তার মতে, সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের যদি কিছু দিতে হয়, সেই সিদ্ধান্ত কেবল সরকারকেই উদার হয়ে নিতে হবে। সাধারণ জনগণের করের টাকায় এই লোকসান মেটানো যৌক্তিক হবে না। মাত্র কয়েক লাখ লোকের লোকসানের ভার কেন দেশের ১৮ কোটি সাধারণ মানুষ বহন করবে- এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি।
‘কঠোর আইন নয়, মানবিক দৃষ্টি দরকার’: তবে কঠোর আইন দিয়ে সবকিছু বিচার না করে মানবিক ও সাধারণ মানুষের দুর্দশার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. আল-আমিন। তিনি বলেন, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতার কারণে পুঁজিবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যখন ক্ষতিগ্রস্ত হন, তখন তাদের কোনো ব্যক্তিগত দায় বা দোষ থাকে না। তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান বা সংশ্লিষ্টদের উচিত শুধু চিঠি আদান-প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কীভাবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বাস্তবসম্মত প্রোটেকশন বা নিরাপত্তা দেওয়া যায়, তা নিয়ে সরাসরি কাজ করা।
এই বিশ্লেষক আরও বলেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ বা সুরক্ষার জন্য বর্তমানে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। প্রচলিত আইন অনুযায়ী, বন্ধ হয়ে যাওয়া কোম্পানির শেয়ারের মূল্য যদি নেগেটিভ হয়ে যায়, তবে শেয়ারহোল্ডার বা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কিছুই পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু লুটপাটের কারণে দুরবস্থায় পতিত হওয়া এসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিমালা প্রয়োগ ঠিক হবে না।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

