নবম পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি
সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:১৩
# কার্যকর হয়েছে জুলাই থেকে
# গ্রেড ১ থেকে ১০: মূল বেতন বৃদ্ধি সর্বোচ্চ ১০০%
# গ্রেড ১১-২০: মূল বেতন বৃদ্ধি সর্বোচ্চ ১৪২%
# বাড়িভাড়া সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ
# চিকিৎসা ভাতা ৬ হাজার টাকা
# শিক্ষা সহায়ক ভাতা ৫০০ টাকা
# ১ জুলাই অবসর গেলে সুবিধা মিলবে না
# সাময়িক বরখাস্তদের জন্য আলাদা নিয়ম
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতা কার্যকরের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। এতে নতুন বেতনকাঠামোকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সর্বনিম্ন গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে।
শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতনকাঠামোয় বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে পাবেন। এই অর্থ গত ৩০ জুন আহরিত বা প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে।
পরবর্তী ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বাড়তি মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৭৫ শতাংশ হারে পাবেন। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামোর পুরো বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হবে। যেহেতু নতুন বেতনকাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে, তাই ওই সময় থেকে প্রাপ্য বকেয়া বেতনও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাবেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন বেতনকাঠামোর অন্যান্য ভাতা পাওয়া শুরু করবেন। একই সঙ্গে পেনশন সুবিধাভোগীরাও নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় প্রাপ্য সব সুবিধা পাবেন।
নতুন বেতনকাঠামোতে ১ম থেকে ১০ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। আর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। এর সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ভাতাও আনুপাতিক হারে বাড়বে।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদনের পর শনিবার এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো।
নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ দিতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটি বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে সুপারিশ চূড়ান্ত করে।
এর আগে অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন এ বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান ছিলেন ওই কমিশনের প্রধান।
নতুন বেতনস্কেলে ২০ গ্রেড: নতুন বেতনস্কেলে ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেড-১ এর বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারিত। গ্রেড-২ এ ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা পর্যন্ত এবং গ্রেড-৩ এ ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেতন নির্ধারিত হয়েছে।
গ্রেড-৪ এ বেতন ১ লাখ টাকা থেকে শুরু হয়ে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত। গ্রেড-৫ এ ৮৬ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা, গ্রেড-৬ এ ৭১ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, গ্রেড-৭ এ ৫৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টাকা এবং গ্রেড-৮ এ ৪৬ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ১০ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রেড-৯ এ বেতন ৪৪ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা, গ্রেড-১০ এ ৩২ হাজার টাকা থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা, গ্রেড-১১ এ ২৫ হাজার টাকা থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-১২ এ ২৪ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া গ্রেড-১৩ এ ২৪ হাজার টাকা থেকে ৫৮ হাজার টাকা, গ্রেড-১৪ এ ২৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৫৬ হাজার ৮০০ টাকা, গ্রেড-১৫ এ ২২ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৫৫ হাজার ২০০ টাকা, গ্রেড-১৬ এ ২১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা, গ্রেড-১৭ এ ২১ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ৫১ হাজার ৯০০ টাকা, গ্রেড-১৮ এ ২১ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার ৯০০ টাকা, গ্রেড-১৯ এ ২০ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা এবং গ্রেড-২০ এ ২০ হাজার টাকা থেকে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন হবে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা নির্ধারিত। সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন হবে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা নির্ধারিত। গেজেটে বলা হয়েছে, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে বা তার আগে কোনো কর্মচারী সংশ্লিষ্ট পদে যে মূল স্কেল, উচ্চতর গ্রেড, ভিন্ন কোনো গ্রেড বা স্কেল যে নামেই অভিহিত হোক পেয়ে থাকলে, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে তিনি ওই বর্তমান বেতনস্কেলের বিপরীতে প্রদর্শিত জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর অনুরূপ স্কেল পাবেন।
যেভাবে নতুন বেতন নির্ধারণ হবে: বর্তমান বেতনস্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে বেতন পাওয়া কোনো কর্মচারীর বেতন নতুন জাতীয় বেতনস্কেলের অনুরূপ স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপেই নির্ধারণ করা হবে। আর কোনো কর্মচারীর মূল বেতন বর্তমান বেতনস্কেলের সংশ্লিষ্ট স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপের চেয়ে বেশি হলে প্রথমে বর্তমান মূল বেতন ও ওই স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের মধ্যকার পার্থক্য বের করতে হবে।
এরপর ওই পার্থক্য নতুন জাতীয় বেতনস্কেলের অনুরূপ স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের সঙ্গে যোগ করতে হবে। যোগফল যদি নতুন স্কেলের কোনো নির্ধারিত ধাপের সমান হয়, তাহলে ওই ধাপেই বেতন নির্ধারণ করতে হবে। আর যোগফলের সমান কোনো ধাপ নতুন স্কেলে না থাকলে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণ করতে হবে। তবে ১ লাখ ৭২ হাজার, ১ লাখ ৬৪ হাজার এবং গ্রেড-১-এর ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারিত বেতনের ক্ষেত্রে এই সাধারণ পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে না।
বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা: নতুন বেতন কাঠামোয় কর্মস্থল ও গ্রেড অনুযায়ী বাড়িভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৬ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীরা মূল বেতনের ৬০ শতাংশ, ১০ম থেকে ১৫তম গ্রেডে ৫০ শতাংশ, ৫ম থেকে ৯ম গ্রেডে ৪৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৪র্থ গ্রেডে ৪০ শতাংশ বাড়িভাড়া পাবেন। অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও নির্দিষ্ট এলাকায় এ হার কিছুটা কম। জেলা সদর, উপজেলা ও অন্যান্য এলাকাতেও গ্রেডভেদে বাড়িভাড়ার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি বাসায় বসবাসকারীরা বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন না।
চিকিৎসা ও শিক্ষা সহায়ক ভাতা: চিকিৎসা ভাতা হিসেবে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মাসে ৩ হাজার টাকা, ৫০ বছর ১ দিন থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার, ৬০ বছর ১ দিন থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ৫ হাজার এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সে ৬ হাজার টাকা দেওয়া হবে। শিক্ষা সহায়ক ভাতা সন্তানপ্রতি মাসে ৫০০ টাকা হারে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য ১ হাজার টাকা দেওয়া হবে। সন্তানের বয়স ২৩ বছর পর্যন্ত নির্ধারিত শর্তে এ ভাতা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীরা মাসে ৬০০ টাকা যাতায়াত ভাতা এবং ৫০০ টাকা টিফিন ভাতা পাবেন। ৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা ৫০০ টাকা এবং ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীরা ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা পাবেন।
পার্বত্য এলাকায় কর্মরতদের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ বা নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমায় পাহাড়ি ভাতা এবং হাওর, দ্বীপ ও চরসহ দুর্গম এলাকায় কর্মরতদের জন্য বিশেষ ভাতা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মাসে ২ হাজার টাকা, সিনিয়র সচিব ও সচিব ১ হাজার, অতিরিক্ত সচিব ৯০০ এবং যুগ্মসচিব ও অন্যান্য প্রাধিকারভুক্ত কর্মকর্তারা ৬০০ টাকা আপ্যায়ন ভাতা পাবেন। সব কর্মকর্তা-কর্মচারী মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে নববর্ষ ভাতা পাবেন। নির্ধারিত শর্তে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য মাসে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকা কার্যভার ভাতাও দেওয়া হবে।
পেনশন ও উচ্চতর গ্রেড: নতুন প্রজ্ঞাপনে অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্যও নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে বিদ্যমান নিট পেনশনের ভিত্তিতে নতুন নিট পেনশন নির্ধারণ হবে। এতে সর্বনিম্ন ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনের স্ল্যাব রাখা হয়েছে।
পেনশনের বর্ধিত অংশও তিন ধাপে কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে শতভাগ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে পেনশন ও গ্র্যাচুইটির বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত থাকবে।
এ ছাড়া কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে আট বছর সন্তোষজনক চাকরি পূর্ণ করলে নবম বছরে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাবেন। পরবর্তী ছয় বছর চাকরি পূর্ণ হলে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে পুরো চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ দুইটি উচ্চতর গ্রেড পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস, প্রতিরক্ষা সার্ভিসের সামরিক পদ, পুলিশ বাহিনী, বিজিবি, দৈনিক বা চুক্তিভিত্তিক কর্মী এবং আউটসোর্সিংয়ে নিয়োজিত কর্মীরা এই বেতন কাঠামোর আওতায় থাকবেন না।
১ জুলাই পদোন্নতি হলে: ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে কোনো কর্মচারী উচ্চতর বেতনস্কেলের পদে পদোন্নতি পেলে প্রথমে নিম্নপদে তার বেতন নির্ধারণ করতে হবে। এরপর পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করতে হবে।
প্রেষণে থাকা কর্মচারীদের বেতন: প্রেষণে কর্মরত কোনো কর্মচারীর ক্ষেত্রে প্রেষণে না থাকলে তিনি তার মূল অফিস বা প্রতিষ্ঠানে যে বেতন পাওয়ার অধিকারী হতেন, সেই ভিত্তিতে নতুন বেতনস্কেলে তার বেতন নির্ধারণ করা হবে।
ছুটিতে থাকা কর্মচারীদের ক্ষেত্রে: ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে কোনো কর্মচারী ছুটিতে থাকলে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ তার বর্তমান বেতনের ভিত্তিতে বেতন নির্ধারণ করতে হবে। অথবা ওই তারিখে তিনি ছুটিতে না থাকলে যে বর্তমান বেতন পেতেন, সেই ভিত্তিতে নতুন বেতনস্কেলে তাঁর বেতন নির্ধারণ করতে হবে। তবে নতুন বেতনস্কেলে বেতন নির্ধারণের ফলে যে আর্থিক সুবিধা তৈরি হবে, তা ছুটির সময়ের জন্য তিনি পাবেন না।
১ জুলাই ২০২৬ তারিখে কোনো কর্মচারী অবসর-উত্তর ছুটিতে থাকলে শুধু পেনশন নির্ধারণের জন্য তার বেতন জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট অনুরূপ স্কেলে নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে অবসর-উত্তর ছুটির সময়ে তার বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির তারিখ পড়লে ওই বেতনবৃদ্ধিও পেনশন নির্ধারণের জন্য তার বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে। তবে অবসর-উত্তর ছুটির সময়ে তিনি যে ছুটির বেতন পাবেন, তা বর্তমান বেতনস্কেলের ভিত্তিতেই দেওয়া হবে।
১ জুলাই অবসর নিলে নতুন স্কেলের সুবিধা নেই: গেজেটে স্পষ্ট করা হয়েছে, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোনো কর্মচারীর অবসর-উত্তর ছুটি শেষ হলে অর্থাৎ তিনি ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে অবসরে গেলে, ১ জুলাই থেকে কার্যকর জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের সুবিধা তিনি পাবেন না। গেজেটে আরও বলা হয়েছে, ‘মূল পেনশনভোগী’ বলতে সেই কর্মচারীকে বোঝাবে, যার চাকরিকালের জন্য পেনশন অর্জিত হয়েছে।
সাময়িক বরখাস্তদের জন্য আলাদা নিয়ম: ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে কোনো কর্মচারী সাময়িকভাবে বরখাস্ত থাকলে তিনি পুনর্বহাল হয়ে বাস্তবে কাজে যোগদান না করা পর্যন্ত তার বেতন নতুন জাতীয় বেতনস্কেলে নির্ধারণ করা হবে না। পরে পুনর্বহাল হলে প্রথমে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে তার বেতন বর্তমান বেতনস্কেলে নির্ধারণ করতে হবে। এরপর ওই নির্ধারিত বেতনের ভিত্তিতে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট অনুরূপ স্কেলে তার বেতন নির্ধারণ করতে হবে।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

