ছবি: সংগৃহীত
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। তেজাবী স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা প্রতি গ্রাম স্বর্ণালঙ্কারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ হাজার ৬৪০ টাকা। সে হিসাবে এক ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় প্রায় দুই লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণালঙ্কারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল দুই লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। অর্থাৎ নতুন দরে প্রতি ভরিতে দাম কমেছে এক হাজার ৬৯১ টাকা।
সোমবার বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় স্বর্ণ ও রুপার নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম জানানো হয়।
বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের হলমার্ক করা প্রতি গ্রাম স্বর্ণালঙ্কারের দাম ভ্যাটসহ ১৮ হাজার ৭৬০ টাকা। সে হিসাবে প্রতি ভরির দাম দাঁড়ায় প্রায় দুই লাখ ১৮ হাজার ৮১৭ টাকা।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল দুই লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা। ফলে নতুন দরে এ মানের স্বর্ণের ভরিতে দাম কমেছে এক হাজার ৫৭৪ টাকা।
অন্যদিকে, ১৮ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণালঙ্কারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ হাজার ১১০ টাকা। ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম হিসাবে প্রতি ভরির দাম দাঁড়ায় প্রায় এক লাখ ৮৭ হাজার ৯০৭ টাকা।
এর আগে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল এক লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা। অর্থাৎ এ মানের স্বর্ণের ভরিতে দাম কমেছে এক হাজার ৩৪১ টাকা।
সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম স্বর্ণালঙ্কারের নতুন দাম বিজ্ঞপ্তিতে ১৩ হাজার ১৬০ টাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সে হিসাবে প্রতি ভরির দাম দাঁড়ায় প্রায় এক লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৮ টাকা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর এ পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল এক লাখ ৫৪ হাজার ৬০৬ টাকা। ফলে প্রতি ভরিতে কমেছে প্রায় এক হাজার ১০৮ টাকা।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার অলংকারের দামও নির্ধারণ করেছে বাজুস। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা প্রতি গ্রাম রুপার দাম ভ্যাটসহ ৩৭০ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম ৩৫৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম ৩০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ হিসাবে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম দাঁড়ায় প্রায় চার হাজার ৩১৬ টাকা এবং ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি প্রায় চার হাজার ১৪১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম দাঁড়ায় প্রায় তিন হাজার ৫৫৮ টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি গ্রামের দাম ৪২৩ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। সে হিসাবে প্রতি ভরির দাম প্রায় চার হাজার ৯৩৪ টাকা হয়। তবে এ সংখ্যাটি বাজুসের পূর্ববর্তী দরের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বাজারে প্রয়োগের আগে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
বাজুস জানিয়েছে, স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে গ্রাহকের কাছ থেকে এই বিক্রয়মূল্যের বাইরে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।
তবে অলংকারের নকশা অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ নির্ধারিত স্বর্ণ বা রুপার দামের সঙ্গে অলংকার তৈরির মজুরি যুক্ত হবে।
বাজুসের নির্দেশনা অনুযায়ী, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলংকার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পুরোনো অলংকার পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। ওই সময় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দুই লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা, ২১ ক্যারেটের দুই লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম এক লাখ ৫৪ হাজার ৬০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এর মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানেই এবার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিলো সংগঠনটি।
বাজুস জানিয়েছে, তেজাবী স্বর্ণের মূল্য কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে বাজুস নির্ধারিত নতুন বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

