ফ্যাশন ওয়ার্ল্ড টোকিও (অটাম) ২০২৬
বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন ও সেমিনার অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৩৩
ছবি: সংগৃহীত
জাপানের টোকিও বিগ সাইটে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রদর্শনী ‘ফ্যাশন ওয়ার্ল্ড টোকিও (অটাম) ২০২৬’-এ বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক, হোম টেক্সটাইল ও চামড়াজাত পণ্যের সক্ষমতা তুলে ধরতে এবারের মেলায় বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (EPB)-এর অধীনে এবং আর্থিক সহযোগিতায় ২৫টি বাংলাদেশি কোম্পানি মোট ২৭টি বুথ নিয়ে এবং পাশাপাশি আরও ৫টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মেলায় অংশ নিয়েছে।
জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। তিনি স্টলগুলোতে প্রদর্শিত বাংলাদেশি পণ্যের উচ্চমান দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং উদ্যোক্তাদের সাথে কথা বলেন।
প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন শেষে টোকিও বিগ সাইটের এক্সহিবিশন হলে ‘Bangladesh: Sourcing Excellence for Apparel, Home Textile and Leather Products’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ দূতাবাস এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (EPB)-এর যৌথ উদ্যোগে এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (JETRO)-এর সহায়তায় এই সেমিনারের জাপানি আমদানিকারক, বিনিয়োগকারী, ট্রেডিং হাউস এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সেমিনারে উদ্বোধনী বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ কেবল একটি উৎপাদনকারী দেশই নয়, বরং জাপানি ব্যবসার জন্য একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সোর্সিং এবং বিনিয়োগের অংশীদার। তিনি জানান, অ্যাপারেল, টেক্সটাইল, চামড়া ও পাদুকা, ফার্মাসিউটিক্যালস, সিরামিকস, আইটিইএস এবং এগ্রো-প্রসেসিংয়ের মতো খাতে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলেছে। প্রতিযোগিতামূলক দাম, দক্ষ ও তরুণ কর্মী বাহিনী, এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার সুবাদে বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুনামের সাথে পণ্য সরবরাহ করছে।
তৈরি পোশাক খাতের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আরএমজি (RMG) রপ্তানকারক দেশ, যেখান থেকে বার্ষিক প্রায় ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় হয়। ইউনিক্লো, এইচঅ্যান্ডএম, জারা, ওয়ালমার্ট-এর মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর অন্যতম আস্থার প্রতীক এখন বাংলাদেশ। পাশাপাশি, পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষায় বাংলাদেশের রয়েছে বিশ্বের সর্বোচ্চ সংখ্যক অর্থাৎ ২৩০টিরও বেশি LEED-সার্টিফাইড গ্রিন গার্মেন্টস কারখানা। হোম টেক্সটাইল খাতের অপার সম্ভাবনার পাশাপাশি চামড়া ও পাদুকা খাত সম্পর্কে তিনি জানান যে, এটি আরএমজির পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত, যার বার্ষিক রপ্তানি আয় প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার এবং আগামী পাঁচ বছরে তা ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (EPA)-এর ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (JETRO)-এর গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজি বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর ইউজি আন্দো (Mr. Yuji Ando) একটি প্রেজেন্টেশনে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাতসমূহ—বিশেষ করে অ্যাপারেলস, হোম টেক্সটাইল এবং চামড়াজাত পণ্যের গুণগত মান ও দামের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে বজায় রেখে উৎপাদিত হওয়ায় বাংলাদেশের পণ্যগুলোর মান অত্যন্ত উচ্চমানের। পাশাপাশি, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক ও সাশ্রয়ী মূল্যে এই পণ্যগুলো পাওয়ায় জাপানি ক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলোর জন্য বাংলাদেশ অন্যতম সেরা সোর্সিং গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

