Logo

অর্থনীতি

নতুন সংকটে বিএডিসি

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:০৪

অ
নতুন সংকটে বিএডিসি

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কৃষির সেবায় নিয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। মানসম্পন্ন বীজ, সার ও সেচ সুবিধা প্রদানে বিএডিসিসহ কৃষি মন্ত্রণালয়াধীন বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের ন্যায়সংগত দাবি এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য সুশৃঙ্খলভাবে উপস্থাপনের জন্য সমিতি, অ্যাসোসিয়েশন ও কর্মচারী ইউনিয়ন রয়েছে। 

যা বিসিএস ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনসহ নানা নামে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরিচালিত হয়, যার প্রায় সবই অনিবন্ধিত। এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের ন্যায়সংগত সমস্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একদিকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ উন্মোচিত, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন সরকারের নির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নেও খুবই সহায়ক হয়। এ ধরনের পেশাজীবী বৈধ নেতৃত্ব থাকলে কর্তৃপক্ষ নানা বিষয়ে আলোচনা বা পরামর্শের জন্য জনে জনে যোগাযোগ না করে বৈধ পেশাজীবী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করলে সমস্যা সমাধানের পথ সহজ হয়। 

উল্লেখ্য, দেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সরকারবিহীন সময়ে ও পরবর্তীকালে বিএডিসিতে পেশাজীবী নেতৃত্বের দূরদর্শী এবং দেশপ্রেমিক ভূমিকায় প্রতিষ্ঠানের সম্পদের ক্ষতিসাধন, কর্মরত কেউ হেনস্তার শিকার হওয়া বা কোনো প্রকার হুমকি-ধমকি বা চাঁদাবাজির মতো অগ্রহণযোগ্য কোনো ঘটনা ঘটেনি। যা তৎকালীন সময়ে কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। 

সম্প্রতি একটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখ, ১৯৬১ সালে বিএডিসি প্রতিষ্ঠা হলেও ১৯৭৮ সালে অর্থমন্ত্রণালয়ের স্কেল ভেটিংবিষয়ক অফিস আদেশ ছাড়া ভেটিং হয়নি; যা বিএডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবি হলেও তা বিগত সরকারের সময়ে উপেক্ষিত ছিল। বিষয়টি বিএডিসির বর্তমান পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ একতাবদ্ধ হয়ে কৃষিমন্ত্রী, কৃষি সচিব, অর্থ সচিব ও বিএডিসি কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সার্বক্ষণিকভাবে যোগাযোগ, যুক্তি উপস্থাপন ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান হয়। তবে, স্কেল ভেটিং আদেশে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি, অসংগতি থাকলেও তা সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দাপ্তরিক দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালনের পাশাপাশি স্কেল ভেটিংয়ের অসম্পূর্ণ কাজ, প্রবিধানমালা ও সাংগঠনিক কাঠামো প্রস্তুতকরণ, পেনশন প্রথা চালুসহ নানাবিধ যৌক্তিক দাবি আদায়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগে বিএডিসি কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি যে কোনো সংকটে এই পেশাজীবী নেতৃত্বই বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে।

তবে, বিগত আওয়ামী দুঃশাসনের সময়ে সেফ জোন ও প্রাইজ পোস্টিংয়ে থাকা কিছু কর্মকর্তা বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ও তৎকালীন বিএডিসি চেয়ারম্যানকে ভুল বুঝিয়ে আর্থিক বিনিময়ের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলির বিপুল পরিমাণ আদেশ জারি করে। বিষয়টি নিয়ে পত্র-পত্রিকায় নেতিবাচক প্রতিবেদন ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তৎকালীন কৃষি সচিবের সরাসরি হস্তক্ষেপে ওই বদলির আদেশগুলো বাতিল হয়। বর্তমানেও তারা সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে নানা অনৈতিক প্রভাব বিস্তারে ব্যস্ত আছেন। 

অন্যদিকে বিগত ফ্যাসিস্ট সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা, এবং ফ্যাসিস্ট সময়ে পেশাজীবী আন্দোলনে ভূমিকাহীন উচ্চপদস্থ সেসব কর্মকর্তা সরকার দলের নাম ভাঙিয়ে বিএডিসির বদলি-বাণিজ্য, ফ্যাসিস্ট সময়ে নিয়োগকৃত পিডিদের নিকট হতে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে বিএডিসির নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। 

এ অবস্থায় বাংলাদেশের কৃষির উন্নয়নে বিএডিসির অবদান, ঐতিহ্য ও সুনাম রক্ষায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে যে কোনো সংকট বা সম্ভাবনায় প্রশাসন ও বৈধ পেশাজীবী নেতৃত্বের সমন্বয়ে সুশৃঙ্খলভাবে বিএডিসি পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মনে করেন। 

পাশাপাশি বিএডিসি কর্তৃপক্ষের উচিত প্রকৃত সত্য ও বাস্তবতার নিরিখে ভালোকে প্রাধাণ্য দিয়ে তীব্র জনবল সংকটের সমাধানে দ্রুত নিয়োগ ও পদোন্নতির ব্যবস্থা করা। যাতে আসন্ন বোরো ও রবি মৌসুমে কৃষককে সঠিক সময়ে ও ন্যায্যমূল্যে মানসম্পন্ন বীজ, সার ও সেচসুবিধাদি প্রদানের মাধ্যমে কৃষির অগ্রযাত্রাকে সচল রেখে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করা যায়।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন