Logo

অর্থনীতি

ফের ৪ কোটি টাকার ক্রয় উদ্যোগ

বিএডিসির ভুট্টাবীজে ৮৫ টনের হদিস কোথায়?

Icon

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:০৬

অ
বিএডিসির ভুট্টাবীজে ৮৫ টনের হদিস কোথায়?

ছবি: সংগৃহীত

একই জাতের ভুট্টাবীজের মজুত এক মৌসুমে ১৭৮ মেট্রিক টন, পরবর্তী মৌসুমে দেখানো হয়েছে ২৬৩ মেট্রিক টন। মাঝখানে বেড়েছে ৮৫ মেট্রিক টন। এই অতিরিক্ত বীজ কোথা থেকে এল, কার অনুমোদনে সরকারি মজুতে যুক্ত হলো, তার হিসাব কোথায়? 

এর মধ্যেই আগের আমদানি করা বীজের ২০০ মেট্রিক টনের মধ্যে বিক্রি হয়েছে মাত্র ২২ টন। অবিক্রীত ১৭৮ টন পড়ে রয়েছে গুদামে। সেই বীজের অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা নিয়েও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। অভিযোগ উঠেছে, নিম্নমানের বীজের সঙ্গে দেশীয় হাইব্রিড ভুট্টাবীজ মিশিয়ে দেওয়ারও। অথচ বিদ্যমান মজুতের সন্তোষজনক হিসাব ও গুণগত মান নিশ্চিত না করেই একই জাতের ভুট্টাবীজ আমদানিতে নতুন করে ৪ কোটি ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। 

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ধান, গম ও ভুট্টার উন্নততর বীজ উৎপাদন ও উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে এমন একের পর এক অভিযোগে সরকারি অর্থের ব্যবহার, ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং কৃষকের স্বার্থ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। 

প্রকল্পটির পরিচালক মো. হুমায়ুন কবিরের দায়িত্ব পালন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগপত্রে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। 

প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারি অর্থে আমদানি করা বীজ বিক্রি হলো না কেন? মজুতের হিসাবে অতিরিক্ত ৮৫ টন এল কোথা থেকে? আর আগের বীজের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকার পরও নতুন করে কোটি টাকার বীজ কেনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হলো কীভাবে? 

অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ মৌসুমে ভারত থেকে বি-৩৩৫৫ জাতের হাইব্রিড ভুট্টাবীজ আমদানির জন্য ৩০০ মেট্রিক টনের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রথম চালানে দেশে আসে ২০০ মেট্রিক টন। কিন্তু বীজের অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা কম থাকায় কৃষক ও ডিলারদের মধ্যে তা বিক্রিতে বিপাকে পড়ে কর্তৃপক্ষ। একপর্যায়ে তৎকালীন কৃষি সচিবের হস্তক্ষেপে বাকি ১০০ মেট্রিক টন আমদানি বন্ধ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। 

এখানেই প্রথম প্রশ্ন, আমদানির আগে বীজের গুণগত মান যাচাইয়ের দায়িত্বে কারা ছিলেন? নির্ধারিত মান নিশ্চিত না করেই কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ বীজ আমদানির অনুমোদন দেওয়া হলো? বীজের মান নিয়ে আপত্তি ওঠার পরও দেশে আসা ২০০ টনের দায়ভার কে নেবে? 

২০০ টন আমদানি, বিক্রি মাত্র ২২ টন: অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে আমদানি করা ২০০ মেট্রিক টন বীজের মধ্যে বিক্রি হয়েছে মাত্র ২২ মেট্রিক টন। অবিক্রীত রয়েছে ১৭৮ মেট্রিক টন। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত প্রকল্পের পিআইসি সভায় বিষয়টি আলোচনায় আসে। সেখানে অবিক্রীত বীজ পরবর্তী মৌসুমে সংরক্ষণ করে বিক্রির পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগের আলোকে, আমদানির সময় বীজের অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা ছিল ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ, যেখানে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে ন্যূনতম মান ৮০ শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন গুদামে সংরক্ষণের পর সেই হার আরও কমে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে আসার অভিযোগও রয়েছে।  প্রশ্ন হচ্ছে, নির্ধারিত মানের নিচে অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতাসম্পন্ন বীজ কীভাবে সরকারি প্রকল্পের আওতায় আমদানি ও সংরক্ষিত হলো? কৃষকের জমিতে এমন বীজ ব্যবহারের ফলে উৎপাদন ব্যাহত হলে তার দায় কে নেবে? সরকারি অর্থে কেনা বীজ বিক্রি না হওয়া এবং গুদামে পড়ে থেকে কার্যকারিতা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হওয়া-দুটিরই জবাবদিহি প্রয়োজন। 

অভিযোগ অনুযায়ী, অবিক্রীত বীজের উল্লেখযোগ্য অংশ ঠাকুরগাঁও ও চুয়াডাঙ্গা গুদামে সংরক্ষিত রয়েছে। এসব গুদামের বীজের ব্যাচ নম্বর, জাতের বিশুদ্ধতা, সংরক্ষণের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা এবং বর্তমান অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা যাচাই না করে নতুন করে একই জাতের বীজ কেনার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।

নিম্নমানের বীজে অন্য জাত মেশানোর অভিযোগ: এই প্রকল্প ঘিরে সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগগুলোর একটি হলো, নিম্নমানের বি-৩৩৫৫ জাতের বীজের অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এর সঙ্গে দেশীয় হাইব্রিড ভুট্টাবীজ মেশানো হয়েছে। 

অভিযোগপত্রে ঠাকুরগাঁও কার্যালয়ের উপপরিচালক মনোয়ারুল ইসলামের মাধ্যমে এ কাজ করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগটি সত্য হলে তা নিছক সংরক্ষণ বা ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি নয়; বরং বীজের জাতের বিশুদ্ধতা, পরিচিতি ও গুণগত মান নিয়ে গুরুতর অনিয়মের ইঙ্গিত। কৃষকের কাছে যে জাতের বীজ সরবরাহের কথা, তার সঙ্গে অন্য জাতের বীজ মেশানো হয়ে থাকলে কৃষক কার্যত কী ধরনের বীজ পাচ্ছেন, সেই প্রশ্নও সামনে আসবে।  

২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বোরো, ধান, গম ও ভুট্টাবীজ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রাক্‌সভা-সংক্রান্ত কার্যপত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ মৌসুমে বিক্রির জন্য বি-৩৩৫৫ জাতের হাইব্রিড ভুট্টাবীজের মজুত দেখানো হয়েছে ২৬৩ মেট্রিক টন। অথচ আগের হিসাব অনুযায়ী অবিক্রীত থাকার কথা ১৭৮ মেট্রিক টন। অর্থাৎ এক মৌসুমের ব্যবধানে মজুতের পরিমাণ বেড়েছে ৮৫ মেট্রিক টন। এই অতিরিক্ত বীজের উৎস কী? নতুন করে কেনা হয়েছে, অন্য গুদাম থেকে স্থানান্তর করা হয়েছে, নাকি অন্য কোনো জাতের বীজ মজুতে যুক্ত হয়েছে? যদি নতুন করে বীজ কেনা হয়ে থাকে, তার ক্রয় নথি কোথায়? স্থানান্তর করা হলে তার চালান ও গুদাম রেজিস্টার কোথায়? আর অন্য কোনো জাতের বীজ যুক্ত হয়ে থাকলে সেটি কোন অনুমোদনে করা হয়েছে? 

এসব প্রশ্নের নথিভিত্তিক উত্তর ছাড়া ৮৫ টনের পার্থক্যকে সাধারণ হিসাবের ভুল বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ মৌসুমের উদ্বোধনী ও সমাপনী মজুত, আমদানি চালান, ক্রয় রসিদ, বিক্রয় হিসাব, গুদাম স্থানান্তর রেজিস্টার, বীজ বিতরণ তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট সভার কার্যবিবরণী পাশাপাশি রেখে হিসাব মেলানো জরুরি। সরকারি প্রতিষ্ঠানের মজুতের হিসাবে ৮৫ টন বীজের উৎস ও গন্তব্য অস্পষ্ট থাকলে তা নিরীক্ষা ও আর্থিক জবাবদিহির গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করবে। 

আগের বীজ বিক্রি হয়নি, ফের ৪ কোটি টাকার ক্রয় কেন? অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বি-৩৩৫৫ জাতের হাইব্রিড ভুট্টাবীজ আমদানির জন্য ৪ কোটি ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। টেন্ডার আইডি ১৩০৪৮০৪। এতে বঙ্গো অ্যাগ্রিটেক লিমিটেডকে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এখানেই প্রকল্পের ক্রয়পরিকল্পনা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আগের মৌসুমে ২০০ টন বীজ আমদানি করে বিক্রি করা গেছে মাত্র ২২ টন। অবিক্রীত রয়েছে ১৭৮ টন। সেই বীজের অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা ও গুণগত মান নিয়েই গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে একই জাতের বীজ আমদানিতে আবার ৪ কোটি ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বানের যৌক্তিকতা কী? বিদ্যমান মজুতের প্রকৃত অবস্থা যাচাই না করেই নতুন ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকলে সেটি প্রকল্পের পরিকল্পনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। প্রকল্পের প্রকৃত চাহিদা নিরূপণ, বিদ্যমান মজুতের ব্যবহারযোগ্যতা, নতুন ক্রয়ের প্রয়োজনীয়তা, অনুমোদিত বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা, দরপত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদন, কার্যাদেশ, সরবরাহকারীর যোগ্যতা ও বাজারদর বিশ্লেষণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বঙ্গো অ্যাগ্রিটেক লিমিটেডকে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা স্বার্থের সংঘাত ছিল কি না, সেটিও প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করতে হবে। কোটেশন ও ই-জিপি প্রক্রিয়ায় বিধি মানা হয়েছে কি? অভিযোগপত্রে উপপরিচালক মো. মনোয়ার হোসেন খান (পরিচিতি নম্বর ০২০৩৫৭) কর্তৃক প্রকল্প পরিচালকের কাছে ক্রয় আদেশ বা কোটেশন-সংক্রান্ত কাগজপত্র পাঠানোর বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রযোজ্য সরকারি ক্রয়বিধি ও ই-জিপি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কোটেশনভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকলে তা বিধিবহির্ভূত হতে পারে। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর), ২০২৫ গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে। এতে সরকারি ক্রয়ে ই-জিপি ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা এবং কোটেশন পদ্ধতিতে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে ৯০ থেকে ৯৪ নম্বর বিধিতে শর্ত, ই-কোটেশন আহ্বান, মূল্যায়ন ও কার্যাদেশ প্রদানের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট ক্রয় কার্যক্রমের তারিখ, অর্থের পরিমাণ, পণ্যের ধরন ও প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল কি না, তা যাচাই করা জরুরি।

অভিযোগপত্রে ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের স্মারক নম্বর ১৫৫-এর একটি পত্রের উল্লেখ রয়েছে। ওই পত্রের উদ্দেশ্য, অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত, ক্রয়সংক্রান্ত নথি এবং ই-জিপি পোর্টালের রেকর্ড পরীক্ষা করতে হবে। প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী ই-জিপিতে ক্রয় বাধ্যতামূলক থাকা সত্ত্বেও বৈধ অনুমোদন ছাড়া অফলাইন কোটেশন বা কার্যাদেশ ব্যবহার করা হয়ে থাকলে তা সরাসরি সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘনের প্রশ্ন তুলেছে। তবে  প্রকল্প পরিচালক, সংশ্লিষ্ট উপপরিচালক, ক্রয় কমিটি ও অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের ভূমিকা পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। সরকারি অর্থের দায় নেবে কে, জবাবদিহি করবে কে?

বিএডিসি দেশের কৃষি উৎপাদন ও বীজ সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান। কৃষকের কাছে মানসম্মত বীজ পৌঁছে দেওয়া এবং সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই এ প্রতিষ্ঠানের অন্যতম দায়িত্ব। অথচ নিম্নমানের বীজ আমদানি, মাত্র ২২ টন বিক্রির পর ১৭৮ টন অবিক্রীত থাকা, বীজের জাত মেশানোর অভিযোগ, মজুতের হিসাবে ৮৫ টনের পার্থক্য এবং আগের মজুত থাকা অবস্থায় নতুন করে ৪ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে বীজ কেনার উদ্যোগ-সব মিলিয়ে প্রকল্পটির ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। 

এসব অভিযোগের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়া গেলে সরকারি অর্থের সম্ভাব্য অপচয় ও কৃষকের স্বার্থহানির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই কৃষি মন্ত্রণালয়, বিএডিসির উচ্চপর্যায় ও সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তদন্তে আমদানি চুক্তি, বীজের গুণগত মান পরীক্ষার প্রতিবেদন, গুদামভিত্তিক মজুত, বিক্রয় ও বিতরণ হিসাব, জাত মেশানোর অভিযোগ, ৮৫ টনের পার্থক্য এবং ৪ কোটি ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকার ক্রয় উদ্যোগের প্রতিটি ধাপ খতিয়ে দেখতে হবে। প্রয়োজন হলে দুর্নীতি দমন কমিশনেরও তদন্ত করা উচিত। একই সঙ্গে গুদামে থাকা বীজের নমুনা স্বীকৃত পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে ফলাফল প্রকাশ, ব্যাচভিত্তিক মজুত গণনা এবং সংশ্লিষ্ট ক্রয় নথি ও ই-জিপি রেকর্ড যাচাই করতে হবে।

বীজ অনুপযুক্ত প্রমাণিত হলে কৃষকের কাছে সরবরাহ বন্ধ করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।  অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ১৭৮ টন বীজের মজুত কীভাবে ২৬৩ টনে পৌঁছাল, অতিরিক্ত ৮৫ টনের উৎস কোথায়, নিম্নমানের বীজ আমদানির দায় কার এবং আগের বীজ অবিক্রীত থাকার পরও নতুন করে ৪ কোটি ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকার ক্রয় উদ্যোগ নেওয়ার যৌক্তিকতা কী? 

এসব প্রশ্নের জবাব কোনো মৌখিক ব্যাখ্যায় নয়, দিতে হবে নির্ভরযোগ্য নথি, পরীক্ষার প্রতিবেদন ও স্বচ্ছ হিসাবের মাধ্যমে। বিএডিসির সরকারি অর্থ ও কৃষকের স্বার্থ নিয়ে দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন