দুদকের মামলা
মিরপুরের বাসা থেকে বিএফআইইউ সাবেক প্রধান মাসুদ বিশ্বাস গ্রেপ্তার
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৫, ১৪:২৫
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলায় বিএফআইইউ সাবেক প্রধান মাসুদ বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সংস্থাটির উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বাংলাদেশের খবরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সহযোগিতায় তাকে মিরপুরের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা গেছে, গত ২ জানুয়ারি এক কোটি ৮৭ লাখ ৭২ হাজার ৬২২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন।
এদিকে দুদকের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, শনিবার বিকেলে দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানের নেতৃত্বে সংস্থার একটি দল তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করবে।
মামলায় মাসুদ বিশ্বাস ছাড়াও তার স্ত্রী কামরুন নাহারের সম্পদের বিবরণী চেয়েছে দুদক। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আছে বলেও দুদক জানিয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরে মাসুদ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দুদক। ২ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মাসুদ বিশ্বাস পদত্যাগ করেন। বিএফআইইউর পরিচালক থাকা অবস্থায় মাসুদ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক গোষ্ঠী ও বিশেষ ব্যক্তিদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে মানি-লন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তার অঢেল সম্পদের সন্ধান রয়েছে। সেগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত শুরু করেছে তারই সাবেক প্রতিষ্ঠান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাসুদ বিশ্বাস নিজ নামে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৭২ হাজার ৬২২ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন করে তা নিজে ভোগ দখলে রেখে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
এছাড়া মাসুদ বিশ্বাসের স্ত্রী কামরুন নাহারের নিজ নামে ৭২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৬(১) ধারায় পৃথক সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারির অনুমোদন দেয়া হয়।
এনএমএম/এএস/ওএফ

