Logo

অর্থনীতি

মুদ্রানীতি কী এবং কেন

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১২:৩৫

অ
মুদ্রানীতি কী এবং কেন

বাজেট নিয়ে দেশে যতটা আলোচনা হয় মুদ্রানীতি নিয়ে তেমন আলোচনাই হয় না। যদিও সাধারণ মানুষের জীবনজীবিকার ওপর এর বিরাট প্রভাব রয়েছে।

বাজারের টাকার সরবরাহ, সুদহার, রিজার্ভ সংরক্ষণসহ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এলিমেন্ট মুদ্রানীতির ওপর নির্ভর করে। মূলত দেশের অর্থনীতি আগামী দিনগুলোতে কীভাবে, কেমন চলবে—মুদ্রানীতিতে তারই দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়। এই ধারাবাহিকতায় আজ চলতি অর্থবছরের (জানুয়ারি-জুলাই)জন্য নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে ঘোষণা হচ্ছে মুদ্রানীতি।

মুদ্রানীতি কী?
মুদ্রানীতি হলো একটি রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্বারা পরিচালিত এমন একটি নীতি, যার মাধ্যমে দেশের অর্থ সরবরাহ, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুদের হার নির্ধারণ করা হয়। মূলত, মুদ্রানীতির লক্ষ্য হলো অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা করা এবং প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতির মাধ্যমে বাজারে অর্থের প্রবাহ ও বিনিয়োগের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে, যাতে দেশের আর্থিক খাত স্থিতিশীল থাকে।

যেসব কারণে মুদ্রানীতি গুরুত্বপূর্ণ
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা : মুদ্রানীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি কমানো যায় এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হয়। 

ব্যাংকিং খাতের সুশাসন : কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রম যদি যথাযথভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ব্যাংকের অর্থ যাতে প্রকৃত উদ্যোক্তা ও কৃষকদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। 

উদ্যোক্তাদের সহায়তা : ব্যাংকগুলোর তদারকি ও সঠিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করলে ব্যক্তি খাতের শিল্পগুলো আরও বিকশিত হতে পারবে। 

স্বায়ত্তশাসন বনাম সমন্বয় : কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন প্রয়োজন, তবে তা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করেই হওয়া উচিত।

জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা : শুধুমাত্র মুদ্রানীতি নির্ধারণ করলেই চলবে না, বরং ব্যাংকিং খাতে ন্যূনতম জবাবদিহিতা থাকতে হবে, যাতে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা শাস্তির আওতায় আসে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে কার্যকর মুদ্রানীতি ও সুশাসনের ওপর। তাই শুধু নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়, তার যথাযথ প্রয়োগ ও তদারকি নিশ্চিত করাই হবে উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।

এএইচএস/এটিআর

Logo
সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন