Logo

অর্থনীতি

পাচারের টাকা ফেরত আনার উদ্যোগের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন : বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর

Icon

বাংলাদেশের প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২১:৪৫

অ
পাচারের টাকা ফেরত আনার উদ্যোগের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন : বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর

বর্তমান সরকার পাচারের টাকা ফেরত আনার কাজ শেষ করতে না পারলে পরবর্তী সরকার যেন সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা ধরে রাখে, তা না হলে এই উদ্যোগের কোনো সুফল মিলবে না।

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার পল্টন টাওয়ারে অবস্থিত ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে ‘সেমিনার অন বাংলাদেশ ম্যাক্রোইকোনোমিক ল্যান্ডস্কেপ: চ্যালেঞ্জেস ইন দ্যা ব্যাংকিং সেক্টর অ্যান্ড দ্যা পাথ এহেড’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

পাচারের টাকা ফেরত আনার চ্যালেঞ্জ বিষয়ে গভর্নর বলেন, কোনো দেশই পাচার করা টাকা ৫ বছরের আগে ফেরত আনতে পারেনি। আমরা চেষ্টা করছি। এই সরকারের পক্ষে সম্ভব না হলে পরবর্তী সরকার যেনো এই কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়।

অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ ও ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, অর্থনীতিতে অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকলেও বিদেশি মুদ্রা ও রিজার্ভ নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। রিজার্ভের পতন কিছুটা হলেও থামানো গেছে। আইএমএফের কাছ থেকে এখনো এক টাকাও আসেনি, কিন্তু রেমিট্যান্স ২৪ শতাংশ বেড়েছে। এ মাসে তা ৩০ শতাংশ ছাড়াবে। এই বছর রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ছাড়াবে। এর মূল কারণ হলো টাকা পাচার ঠেকানো গেছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোনো ডলার এখন বিক্রি হচ্ছে না। ব্যাংক ও কার্ব মার্কেটে ডলারের দরের ব্যবধান নেই বললেই চলে।

রেমিট্যান্সের দর ম্যানিপুলেশন হচ্ছে না দাবি করে তিনি বলেন, দুবাইয়ে একটা গ্রুপ ডলার ম্যানিপুলেশন করতে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আমরা এতে প্রভাবিত হইনি।

ব্যাংক খাতের সংস্কার ও সুশাসন গভর্নর বলেন, কোনো একক পরিবার যদি একটি ব্যাংকের ৮৭ শতাংশ টাকা নিয়ে যায়, সেই ব্যাংক দাঁড়াতে সময় লাগে। এত কিছুর পরেও ইসলামী ব্যাংক ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং ঋণ দেওয়া শুরু করেছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ে তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি এক দিনে হয়নি। পলিসি টাইটেনিং করার পর অন্তত ১৮ মাস সময় লাগে এর বাস্তবায়ন ঘটাতে। আমাদের ক্ষেত্রে ছয় থেকে সাত মাস হয়েছে। অন্তত আরও পাঁচ মাস লাগবে এর একটি ভালো প্রভাব দেখতে। আমরা মনিটরি পলিসিকে এখনো সংকোচনমুখী রেখেছি।

৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাত সংস্কারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনেক ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান গভর্নর। তিনি বলেন, বিদেশি মুদ্রার বিনিময় হার এখন অনেক বেশি স্থিতিশীল। রিয়েল ইফেক্টিভ এক্সচেঞ্জ রেটও ভালো। আমাদের রেমিট্যান্সের প্রবাহ ভালো।

এলডিসি গ্রাজুয়েশন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে গভর্নর বলেন, বাংলাদেশ ২০২১ সালেই এলডিসি থেকে বেরিয়ে এসেছে। তবে শিল্প খাতের চাপে আমরা এলডিসি উত্তরণের সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালে নিয়ে গেছি। দরিদ্র হয়ে থাকার মধ্যে কোনো সম্মান নেই। আমরা কেন মধ্য আয়ের দেশ হতে পারব না? আমরা তো মধ্যম আয়ের দেশ হয়েই আছি। ট্যারিফ সুবিধার জন্য নিম্ন আয়ের দেশ হয়ে থাকাটা যৌক্তিক নয়।

সিপিডির ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিনিয়োগ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ দুটি খাত হলো, ব্যাংক ও রাজস্ব খাত। তবে এনবিআরের কার্যকর সংস্কার না হলে ব্যাংক খাত এগোবে না।

তিনি বলেন, পাচারের টাকা ফেরত আনা সম্ভব। এজন্য পাচারকৃত অর্থের আলটিমেট বেনিফিসিয়ারি কে তা খুঁজে বের করতে হবে।

পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা একসময় প্রবলেম ব্যাংক ছিলাম। এই ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ৫৪ শতাংশ। এখন সেই ব্যাংক একটি ভালো ব্যাংকে পরিণত হয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে সুশাসন প্রতিষ্ঠার কারণে।

ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য পরিচালক নিয়োগের নীতিমালা আরও সুগঠিত করার সুপারিশ করেন তিনি। তিনি বলেন, আইটি বেইজড সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাহলে পলাতক কেউ ই-কেওয়াইসি দিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না।

তিনি আরও বলেন, মুদ্রা পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সঙ্গে অন্য ব্যাংকের রিয়েল টাইম ইন্টিগ্রেশন থাকা প্রয়োজন।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইআরএফ-এর সহ-সাধারণ সম্পাদক মানিক মুনতাসির।

এএইচএস/বিএইচ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন