Logo

শিক্ষা

পঞ্চম শ্রেণির পড়াশোনা - বাংলা পাঠ

Icon

বেলাল হোসাইন

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:১৩

পঞ্চম শ্রেণির পড়াশোনা - বাংলা পাঠ

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, শুভেচ্ছা তোমাদের। আজ তোমাদের বাংলা পাঠ্য বইয়ের ৫ম পাঠ ‘ঠিক আছে’ কবিতাটি থেকে আলোচনা তুলে ধরা হলো। কবিতাটি তোমরা বই থেকে পড়ে নিবে প্রথমে। আশা করি তোমাদের কাজে লাগবে।

কবিতাটিতে অসময়ে আসা এক মেহমানের অদ্ভুত সহজ-স্বভাব ও সন্তুষ্ট মনোভাব হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। বাড়ির লোক নানা অসুবিধা দেখিয়ে বোঝাতে চায়- আয়োজন করা কঠিন, রেশনের চাল পচা, ডাল বাসি, থালা-বাসন ভাঙা, বাটি লিক করে, ছাতাও নষ্ট- তবু মেহমান বারবার হাসিমুখে বলেন, “ঠিক আছে, ঠিক আছে।” এতে বোঝানো হয়েছে যে, অল্পে তুষ্ট থাকা, অন্যের পরিস্থিতি বুঝে নেওয়া এবং অভিযোগ না করে মানিয়ে নেওয়া মানুষের বড় গুণ। কবিতার মূল বার্তা হলো- সবসময় সবকিছু নিখুঁত না হলেও হাসিমুখে গ্রহণ করতে পারলে জীবন সহজ হয় এবং সম্পর্কও সুন্দর থাকে।

‘ঠিক আছে’ কবিতার মূলভাব
সুকুমার বড়ুয়ার “ঠিক আছে” কবিতায় এক অসময়ে আগত মেহমানের মাধ্যমে মানুষের সহনশীলতা, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং অল্পে তুষ্ট থাকার মনোভাব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। বাড়ির লোক বারবার ঘরের অপ্রস্তুতি ও অভাব-অসুবিধার কথা বলে- ঝামেলা আছে, চাল পচা, ডাল বাসি, থালা-বাসন ভাঙা, বাটি লিক করে, ছাতায় শিক কম- তবু মেহমান হাসিমুখে প্রতিবারই বলেন, ‘ঠিক আছে, ঠিক আছে।’ 

এই সহজ উত্তরগুলো আমাদের শেখায়, জীবন সবসময় নিখুঁত হয় না; তবু অভিযোগ না করে পরিস্থিতিকে সম্মান করে গ্রহণ করতে পারলে মানুষের মন বড় হয় এবং সম্পর্কও আরও সুন্দর হয়। কবিতার মূল কথা হলো- অভাবের মাঝেও সন্তুষ্ট থাকা ও অন্যের কষ্ট বুঝে হাসিমুখে মানিয়ে নেওয়াই প্রকৃত ভদ্রতা ও মানবিকতা।

১. বিপরীত শব্দ লিখি এবং বিপরীত শব্দ দিয়ে বাক্য তৈরি করি।

শব্দ /  বিপরীত শব্দ / বাক্য

  • অসময়- সময় - সময়মতো হাজির হলাম।
  • ঠিক- ভুল- পরীক্ষার খাতায় ভুল লেখা যাবে না।
  • হেসে- কেঁদে - ছেলেটি কেঁদে কেঁদে বাবার কাছে নালিশ করল।
  • পচা- তাজা - বাবা বাজার থেকে তাজা মাছ এনেছেন।
  • ঢোকা - বের হওয়া - বৃষ্টির সময় বাসা থেকে বের হওয়া যাবে না।

২. প্রশ্নের উত্তর বলি ও লিখি।

ক. মেহমান সব কথাতেই কী বলেন?

উত্তর : মেহমান সব কথাতেই হেসে বলেন, ‘ঠিক আছে ঠিক আছে।’

খ. লোকটির সংসারে কী কী ঝামেলা আছে?

উত্তর : লোকটির সংসারে প্রধানত যে ঝামেলাগুলো আছে, তা হলো :

  • খাদ্যের সমস্যা : রেশনের পচা চাল এবং টলটলে বাসি ডাল।
  • বাসনপত্রের সমস্যা : ভাঙা-চোরা থালা এবং লিক করা বাটি।
  • ছাতার সমস্যা : ছাতাটির শুধু কয়েকটি শিক বাকি আছে, ছাতার কাপড় নেই।

গ. কবিতাটি পড়তে কেন মজা লাগে?

উত্তর : কবিতাটি পড়তে মজা লাগে কারণ-কবিতাটিতে একটি সরল-সহজ হাস্যরস আছে। মেহমান এসেছেন অসময়ে, কিন্তু সংসারের সব অভাব ও ত্রুটির কথা শুনেও তিনি সব কিছু ‘ঠিক আছে’ বলে মেনে নিচ্ছেন। এছাড়াও এর ছন্দ সহজ, দ্রুতলয়ের এবং মধুর সুর করে পড়ার উপযোগ্য, যা কবিতাটিকে অত্যন্ত উপভোগ্য করে তুলেছে।

ঘ. কবিতাটি নিজের ভাষায় লিখি।

উত্তর : একবার একজনের বাড়িতে অসময়ে একজন মেহমান এসে উপস্থিত হলেন। বাড়ির কর্তা মেহমানকে সংসারের সব অভাব-অনটনের কথা খুলে বললেন। 

যেমন, ঘরে রান্না করার জন্য পচা চাল আর বাসি ডাল ছাড়া কিছু নেই, আর খাওয়ার জন্য যে বাসনপত্র আছে তার মধ্যে থালাটি ভাঙা এবং বাটিটিতে লিক (ছিদ্র) রয়েছে। কিন্তু মেহমান এই সব সমস্যার কথা শুনেও হাসিমুখে কেবলই বলতে থাকলেন, ‘কোনো অসুবিধা নেই, ঠিক আছে।’

এরপর যখন মেঘ জমে বৃষ্টি আসার উপক্রম হলো, তখন মেহমান ছাতা চাইলেন। 

বাড়ির কর্তা তখন ছাতাটি দেখিয়ে বললেন যে ছাতাটির শুধু কয়েকটা লোহার শিক অবশিষ্ট আছে, কাপড় ছিঁড়ে গেছে। কিন্তু তখনও মেহমান বিন্দুমাত্র অসন্তুষ্ট না হয়ে একই কথা বললেন, ‘ঠিক আছে ঠিক আছে।’

৩. একটি বাক্য ভেঙে দুটি বাক্য বানাই।

ক. আমি মাঠে গিয়ে দেখলাম সবাই খেলছে।

আমি মাঠে গেলাম। দেখলাম সবাই খেলছে।

খ. আমি এত বার বোঝানোর পরেও তিনি আমার কথা শুনলেন না।

আমি এতবার বোঝালাম। তিনি আমার কথা শুনলেন না।

গ. তিনি ঘরে ঢুকে কিছু খেতে চাইলেন।

তিনি ঘরে ঢুকলেন। কিছু খেতে চাইলেন।

ঘ. আমার কথা না শুনেই তিনি চলে গেলেন।

তিনি আমার কথা শুনলেন না। চলে গেলেন।

ঙ. তিনি খেতে বসে জানালেন সব ঠিক আছে।

তিনি খেতে বসলেন। জানালেন সব ঠিক আছে।

৪. প্রশ্ন, দুঃখ, অনুরোধ, আদেশ, ইচ্ছা-কোন ভাব বোঝাচ্ছে লিখি।

এভাবে সংসার আর চলে না! - দুঃখ

আমাকে একটা কলম দাও। - অনুরোধ

তোমার বাড়ি থেকে বিদ্যালয় কত দূরে? - প্রশ্ন

এক্ষুনি চলে যাও। - আদেশ

আমার যদি একটা সাইকেল থাকত! - ইচ্ছা

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা, কোর্সটিকা

বিকেপি/এমএইচএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

প্রাথমিক শিক্ষা

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর