নির্বাচনের আগেই প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ চূড়ান্ত পর্যায়ে
প্রাথমিক শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:২৭
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান শিক্ষক সংকট নিরসনে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই ১৪ হাজার ৩৮৫ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এটি একটি নিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়া। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার অজুহাতে এই নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখার কোনো সুযোগ নেই। সে কারণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রক্রিয়াটি দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ফল গত ২১ জানুয়ারি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে সারা দেশে মোট ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
তাঁদের মধ্য থেকে শূন্য পদ পূরণে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে ১৪ হাজার ৩৮৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা খাতে শিক্ষক সংকটের চিত্র বর্তমানে বেশ উদ্বেগজনক। অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে অনুমোদিত ৬৫ হাজার ৪৫৭টি প্রধান শিক্ষক পদের বিপরীতে ৩৪ হাজার ১০৬টি পদ শূন্য রয়েছে। একইভাবে ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৬৫৩টি সহকারী শিক্ষক পদের মধ্যে ২৪ হাজার ৫৩৬টি পদ এখনো ফাঁকা।
প্রধান শিক্ষকের সংকটের কারণে বর্তমানে ১৩ হাজার ৬৭৫টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে মামলা, নিয়োগ পরীক্ষায় বিলম্ব এবং পদোন্নতিতে ধীরগতির কারণে এই সংকট আরও গভীর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে।
এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বলেন, শিক্ষক নিয়োগ একটি চলমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। নির্বাচন বা অন্য কোনো কারণে এটি বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের স্বার্থেই দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার জানান, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ সরকারের অগ্রাধিকার।
অধিদপ্তর সূত্রে আরও জানা গেছে, চলমান এই ১৪ হাজার নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রায় ৩২ হাজার সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে শূন্যপদ আরও বাড়বে এবং ভবিষ্যতে নতুন করে বড় পরিসরে শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আসার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই নিয়োগ সম্পন্ন হলে প্রাথমিক শিক্ষায় দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট অনেকটাই লাঘব হবে এবং শিক্ষা কার্যক্রমে গতি ফিরবে।
বিকেপি/এমএইচএস

