ছবি : বাংলাদেশের খবর
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আধুনিক শৌচাগার (ওয়াশ ব্লক) নির্মাণকাজ শুরু হলেও প্রায় চার বছরেও তা শেষ হয়নি। ফলে হাত ধোয়া, শৌচাগার ব্যবহার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছে এসব বিদ্যালয়ের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী।
নির্মাণকাজে ঠিকাদারের দীর্ঘসূত্রতা এবং উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে ২০২১-২২ অর্থবছরে নান্দাইল উপজেলার ১৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আধুনিক শৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৩)-এর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পের আওতায় চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের কুরাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাংগাইল ইউনিয়নের সুরাশ্রম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেতাগৈর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজগাতী ইউনিয়নের বড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের মধ্য ডেউলডাংরা ভূঁইয়া স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এসব বিদ্যালয়ে শৌচাগার নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয় ৭৫ লাখ টাকা।
২০২১ সালের ১৯ এপ্রিল রাজধানীর কদমতলী থানার মেরাজনগর এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আবদুল্লাহ অ্যান্ড অয়ন এন্টারপ্রাইজ’-কে নির্মাণকাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ পাওয়ার পর কাজ শুরু হলেও ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেন এবং একপর্যায়ে উধাও হয়ে যান। অথচ কাজের প্রায় ৪০ শতাংশ বিল ইতোমধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ২৬ জানুয়ারি সরেজমিনে কয়েকটি বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মূল ভবনের সঙ্গে সংযুক্ত ওয়াশ ব্লকের কংক্রিট কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও ভেতরের কাজ অসম্পূর্ণ। কোথাও ইটের গাঁথুনি অর্ধসমাপ্ত, আবার কোথাও ইট-বালু ও নির্মাণসামগ্রী বিদ্যালয়ের মাঠে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। অধিকাংশ বিদ্যালয়ের পুরোনো শৌচাগার ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কয়েকটি বিদ্যালয়ে নেই নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থাও।
স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীরা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ছে। অনেক শিক্ষার্থীকে বাধ্য হয়ে আশপাশের বাড়িতে যেতে হচ্ছে, যা শিশুদের জন্য বিব্রতকর ও ঝুঁকিপূর্ণ।
ভুক্তভোগী বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকরা বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়ে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজু আহম্মেদ বলেন, প্রায় ৩০ লাখ টাকা পাওয়ার পর আর কোনো বিল ছাড় করা হয়নি। অর্থের সংকটে কাজ চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। বকেয়া টাকা পেলে আবার কাজ শুরু করা যাবে।
তবে নান্দাইল উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রেবেকা ইয়াসমিন বলেন, ঠিকাদারকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে।
কিন্তু তিনি কেন কাজ ধরছেন না, তা বুঝতে পারছি না। এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বিভাগের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সামিউল ইসলাম বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি। যতটুকু জানতে পেরেছি, এর আগেও ঠিকাদারকে ফোন ও চিঠি দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এখন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।
চার বছরেও ওয়াশ ব্লক নির্মাণ শেষ না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলে মনে করছেন সচেতন মহল। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।
বিকেপি/এমএইচএস

