মেখল মাদরাসার হাফেজ সাহেব হুজুর (রহ.)
আরবি ভাষায় জীবনীগ্রন্থ প্রকাশ
মুফতী জুনাইদ আহমদ
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৪০
একবিংশ শতাব্দীর যুগ সংস্কারক মুফতীয়ে আযম আল্লামা ফয়জুল্লাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি। তাঁর জীবনযাপনে ছিলো রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের পুরোপুরি অনুসরণ। খেলাফে সুন্নাত ছোট্ট কোন কাজও তিনি করতেন না। আপাদমস্তক সুন্নাতের রঙে রঙিন ছিলেন । রাসুলের সুন্নাত পালনে তিনি ছিলেন উদারহরণতূল্য ব্যক্তি।
মুফতীয়ে আযম ফয়জুল্লাহ (রহ.) এর হাতেগড়া শাগরেদদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আল্লামা আজিজ আহমদ (হাফেজ সাহেব হুজুর) রহমাতুল্লাহি আলাইহি। মেখল মাদরাসার দীর্ঘদিনের সিনিয়র উস্তাদ ছিলেন তিনি। নিভৃতচারী এই বুজুর্গ স্বীয় উস্তাদ ও শায়েখে মুফতী ফয়জুল্লাহ (রহ.) এর মতো সুন্নাতের উপর ছিলেন অটল অবিচল। মেখল মাদরাসায় পড়াকালীন সময়ে আমি এই মহান বুজুর্গকে দেখেছি। খাটি মুত্তাবেয়ে সুন্নাত বলতে যা বুঝায় তিনি ছিলেন এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মুফতীয়ে আযম ফয়জুল্লাহ (রহ.) এর পর তাঁকে বলা হতো মুফতীয়ে আযমের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
আগাগোড়া সুন্নাতের রঙে রঙিন এই বুজুর্গ খেলাফে সুন্নাত কিছু দেখলে রাগে যেন অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হয়ে যেতেন। মুফতীয়ে আযম (রহ.) এর মাসলাকের বিপরীত কিছু দেখলে ছাত্র থেকে উস্তায কাউকেই ছাড় দিতেন না। সাথে সাথে ইসলাহ বা সংশোধন করে দিতেন। সবাই ওনাকে ভয়, ভক্তি এবং শ্রদ্ধা করতেন। নাম আল্লামা আজিজ আহমদ হলেও পুরো মেখল-হাটহাজারী, আলেম ওলামা সহ সকলের নিকট তিনি- হাফেজ সাহেব হুজুর নামেই পরিচিত ছিলেন।
কথিত আছে, হাফেজ সাহেব হুজুর (রহ.) সাহিবুল কাশফ বা অন্তর চক্ষু ওয়ালা বুজুর্গ ছিলেন। চেহারা দেখে অনেক সময় গুনাহ বলে দিতে পারতেন। কোন কোন ছাত্রকে তিনি বলে দিতেন- দুস্ত! অমুখ গোনাহটা ছাইড়া দিও....। এই গুনাহটা করিও না দুস্ত ইত্যাদি।
মুফতীয়ে আযম ফয়জুল্লাহ (রহ.) এর স্থলাভিষিক্ত এই বুজুর্গ ১০/১/২০১১ সালে সোমবার সকাল ০৭:১৫ মিনিটে দুনিয়ার সফর শেষ করে মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দেন। নিজ বাড়ি সংলগ্ন বিশাল ফসলি জমির মাঠে লাখো মুসল্লীর অংশগ্রহণে মরহুমের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। জানাযার ইমামতি করেছিলেন হাটহাজারী মাদরাসার তৎকালীন মহাপরিচালক শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহিমাহুল্লাহু।
হাফেজ সাহেব হুজুরের পরিবারও ইলম-আমলে অনন্য এক সম্ভ্রান্ত পরিবার। তিন ছেলে, সাত মেয়েদের জামাতাগণ ও নাতি-নাতনীদের প্রায় সবাই হাফেজ, আলেম এবং দ্বীনের দাঈ। তাঁরা হুজুরের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশবিদেশে দ্বীনের বহুমুখী খেদমত আঞ্জাম দিচ্ছেন। হাফেজ সাহেব হুজুরের চতুর্থ মেয়ের ঘরের নাতি দারুল উলূম হাটহাজারী মাদরাসার কৃতি ফাযেল মুফতী ইসমাঈল খাঁন ইবনে মাওলানা জয়নুল আবেদীন (দা.বা.) বহু প্রতিভাধর একজন তরুণ আলেম।
আচার-আচরণ ও চলনে-বলনে নানার বহু গুণাবলি রয়েছে তাঁর মধ্যে। তিনি যেন নানার ইলমী মিরাছ পাওয়া যোগ্য নাতি। স্বীয় নানার সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখেছেন । নানার বর্ণাঢ্য জীবনীর বহু দিক উঠে এসেছে তাঁর কলমে। সম্প্রতি তাঁর লেখা সংক্ষিপ্ত জীবনীকে সামনে রেখে আল-ওযিজুল আযওয়াদ ফী হায়াতিশ শায়েখ আজিজ আহমদ - নামে আরবী ভাষায় একটি জীবনীগ্রন্থ প্রকাশ করেছে আরবী ভাষা-সাহিত্যে বাংলাদেশের সুনামধন্য প্রতিষ্ঠান জামিয়াতুল উস্তায আল্লামা শহীদুল্লাহ ফজলুল বারী (রহ.) ঢাকা।
বিশিষ্ট আরবী ভাষাবিদ, লেখক ও গবেষক শায়েখ শফীকুল ইসলাম ইমদাদী হাফিযাহুল্লাহুর সার্বিক তত্বাবধানে মাওলানা মনছুর শাহ (দা.বা.) আরবী ভাষায় জীবনীগ্রন্থের এই যুগান্তকারী কাজটি করেছেন। গত ২২ জানুয়ারি এই জীবনীগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
নিভৃতচারী এই বুজুর্গের জীবনীগ্রন্থে তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনীর বহু দিক উন্মোচিত হয়েছে, যা একজন পাঠকের জন্য পাথেয় সংগ্রহের সমৃদ্ধশালী জীবনীগ্রন্থ হিসেবে ইতোমধ্যে পুরো দেশে প্রশংসা কুড়িয়েছে। আল্লাহ তায়া’লা হযরত হাফেজ সাহেব হুজুর (রহ.) এর কবরকে নূরে নূরান্নিত করুন এবং এই জীবনীগ্রন্থের লেখকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে উত্তম বিনিময় দান করুন আমিন ছুম্মা আমিন।
লেখক : সাবেক ছাত্র, মেখল মাদরাসা।
খাদেম, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (রহ.)
বিকেপি/এমএইচএস

