Logo

শিক্ষা

পঞ্চম শ্রেণির পড়াশোনা- বাংলা

Icon

বেলাল হোসাইন

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:০০

পঞ্চম শ্রেণির পড়াশোনা- বাংলা

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ তোমাদের বাংলা বইয়ের টুকটুক ও চিকু গল্পের প্রশ্ন উত্তর আলোচনা করা হয়েছে। গল্পটিতে টুকটুকের প্রাণীপ্রেম, সহানুভূতি ও দায়িত্ববোধের সুন্দর প্রকাশ ঘটেছে। এই অধ্যায় থেকে মূল বইয়ের অনুশীলনীর সকল সমাধান দেওয়া হয়েছে।

১. ডান পাশ থেকে শব্দ নিয়ে খালি জায়গায় বসিয়ে বাক্য লিখি।

ক. মনে তার আনন্দের জোয়ার বইছে।

খ. টুকটুকের মুখটা হাসিতে ঝলমল করে উঠল।

গ. ছানাটি ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে কাঁপছে।

ঘ. চড়–ইভাতির আনন্দ-উচ্ছাসে যোগ দিল চিকু।

ঙ. সে ছানাটিকে আলতো করে কোলে তুলে নিল।

২. প্রশ্নের উত্তর বলি ও লিখি।

ক. টুকটুক গান গেয়ে উঠল কেন?

উত্তর: টুকটুক গুনগুনিয়ে গান গেয়ে উঠল কারণ পরের দিন থেকে গ্রীষ্মের ছুটি শুরু হবে এবং দুই দিন পর তার মামাতো ভাইবোনেরা তাদের বাড়িতে আসবে। এই আনন্দে তার মনে খুশির জোয়ার বইছিল।

খ. টুকটুক কোথায় বিড়ালছানাটিকে দেখতে পেল?

উত্তর: টুকটুক তার বাড়ির বাগানের কোণে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় বিড়ালছানাটিকে দেখতে পেল।

গ. টুকটুকের মন বিড়ালছানাটির জন্য কেঁদে উঠল কেন?

উত্তর: বিড়ালছানাটি ছিল কাঁপতে থাকা কঙ্কালসার, কাদামাখা, আর মনে হচ্ছিল তার একটি পা কেটে গেছে। এই অসহায় অবস্থায় দেখে টুকটুকের মন ব্যথায় কেঁদে উঠল।

ঘ. টুকটুক কীভাবে বিড়ালছানাটির যত্ন নিল?

উত্তর: টুকটুক অত্যন্ত যত্ন সহকারে বিড়ালছানাটির সেবা করেছিল। প্রথমে সে ছানাটিকে বাড়িতে এনে নরম তোয়ালে দিয়ে তার গা মুছিয়ে দিলো। এরপর সে বিড়ালটির পায়ের কাটা জায়গাটা পরিষ্কার করে ওষুধ লাগিয়ে দিলো। তার মা একটি ছোট পাত্রে দুধ দিলে বিড়ালছানাটি ধীরে ধীরে দুধ খেল। টুকটুকের এই আন্তরিক যত্নে ছানাটি ক্রমে সুস্থ ও হৃষ্টপুষ্ট হয়ে উঠল।

ঙ. অন্য পশুপাখির যত্নে টুকটুক কী কী করত?

উত্তর: বিড়ালছানা চিকুর প্রতি যত্ন নেওয়ার পর টুকটুক আশপাশের অন্য পশুপাখির প্রতিও বেশ যত্নবান হয়ে উঠল। পাখিদের যত্ন নিতে সে প্রতিদিন জানালার ধারে এক মুঠো ভাত রেখে দিত। গ্রীষ্মের তীব্র গরমে পাখিরা যেন পানি খেতে পারে, তাই বাটি ভরে পানি রেখে দিত। এছাড়া, রাস্তায় কোনো ছেলে অন্য বিড়ালছানাকে তাড়া করলে সে দৌড়ে গিয়ে তাদের থামাত এবং ছানাটিকে কোলে তুলে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দিত। সহপাঠীদের সঙ্গে নিয়ে সে ‘প্রাণীদের বন্ধু’ নামে একটি ক্লাবও গঠন করেছিল।

চ. ‘প্রাণীদের বন্ধু’ ক্লাবটি কীভাবে গঠিত হয়েছিল?

উত্তর: টুকটুক সহপাঠীদের সঙ্গে নিয়ে ‘প্রাণীদের বন্ধু’ নামে একটি ছোটখাটো ক্লাব বানিয়ে ফেলেছিল। এই কাজে তাদের শ্রেণিশিক্ষক সহযোগিতা করেছিলেন।

৩. সঠিক উত্তরসহ বাক্যটি লিখি।

ক. টুকটুকের মামাতো ভাইবোনেরা আসবে-

ঈদের ছুটিতে

শীতের ছুটিতে

গ্রীষ্মের ছুটিতে

পূজার ছুটিতে

উত্তর: টুকটুকের মামাতো ভাইবোনেরা আসবে গ্রীষ্মের ছুটিতে।

খ. ছানাটি জড়োসড়ো হয়ে-

খিদেয় কাঁপছে

ভয়ে কাঁপছে

ঠাণ্ডায় কাঁপছে

জ্বরে কাঁপছে

উত্তর: ছানাটি জড়োসড়ো হয়ে ভয়ে কাঁপছে।

গ. টুকটুক বিড়ালছানাটির গা মুছিয়ে দিল-

গামছা দিয়ে

কাপড় দিয়ে

জামা দিয়ে

তোয়ালে দিয়ে

উত্তর: টুকটুক বিড়ালছানাটির গা মুছিয়ে দিল তোয়ালে দিয়ে।

ঘ. বিড়ালছানার নাম ‘চিকু’ রেখেছে-

রাতুল

নীলা

টুকটুক

মা

উত্তর: বিড়ালছানার নাম ‘চিকু’ রেখেছে টুকটুক।

ঙ. চড়–ইভাতির আয়োজন করল-

টুকটুক ও নীলা

টুকটুক, রাতুল ও নীলা

রাতুল ও নীলা

টুকটুক ও রাতুল

উত্তর: চড়–ইভাতির আয়োজন করল টুকটুক, রাতুল ও নীলা।

৪. কোন বাক্যে বিবরণ, প্রশ্ন, বিস্ময় বোঝাচ্ছে তা ডান পাশে লিখি।

ক. আগামীকাল থেকে গ্রীষ্মের ছুটি শুরু। — বিবরণ

খ. ভয় পেয়েছ?- প্রশ্ন

গ. অনেক কিছু শিখে গেলে।- বিবরণ

ঘ. টুকটুক ওর নাম রাখল ‘চিকু’।- বিবরণ

ঙ. সত্যি, মাগো! - বিস্ময়

চ. কেন পারবি না? - প্রশ্ন

৫. বাক্যের শেষে দাঁড়ি, প্রশ্নচিহ্ন অথবা বিস্ময়চিহ্ন বসিয়ে পুনরায় লিখি।

ক. টুকটুক স্কুলে পড়ে : টুকটুক স্কুলে পড়ে।

খ. তোমরা ওদের মারছো কেন : তোমরা ওদের মারছো কেন?

গ. কী সুন্দর লাগছে চারদিক : কী সুন্দর লাগছে চারদিক!

ঘ. আহারে, ওর কত কষ্ট : আহারে, ওর কত কষ্ট !

ঙ. তুমি কি তার নাম জানো : তুমি কি তার নাম জানো?

চ. এক্ষুনি চলে আসো : এক্ষুনি চলে আসো

৬. গল্পটি শেষ করি।

ছুটির দিন। খুব সকালে ঘুম ভেঙে গেল। দেখি, জানালায় একটা পাখি বসে আছে। আমি পাখিটাকে বললাম, ‘তুমি আমাকে কিছু বলতে চাও?’

পাখিটা তার ছোট্ট মাথাটা কাত করে আমার দিকে তাকাল। তার চোখে যেন অনেক কথা। সে বলল, ‘হ্যাঁ বন্ধু, আমি তোমাকে ডাকতে এসেছি। বাইরে আজ সুন্দর রোদ উঠেছে, আর আমাদের ছোট্ট পুকুরপাড়ের আমগাছটায় নতুন পাতা গজিয়েছে। তুমি কি জানো, তোমার বাগানে একটি ছোট্ট চারাগাছ পানি না পেয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে?’

আমি চমকে উঠলাম! তাড়াতাড়ি বিছানা ছেড়ে উঠে বাইরে এলাম। দেখি, সত্যিই কাল বিকেলে লাগানো একটি গোলাপের চারা রোদের তাপে নেতিয়ে পড়েছে। আমি দ্রুত বালতি ভরে পানি এনে চারাটির গোড়ায় দিলাম। পানি পেয়ে চারাটি যেন একটু নড়ে উঠল।

পাখিটা তখন মিষ্টি সুরে ডেকে উঠল, ‘ধন্যবাদ বন্ধু! প্রকৃতির প্রতিটি ছোট প্রাণী বা গাছ আমাদের মনোযোগ চায়। সামান্য যত্ন পেলেই তারা খুশি হয়।’

আমি বুঝলাম, এই ছুটির দিনে আমার প্রথম কাজ হলো আমার বাগানের যত্ন নেওয়া এবং প্রকৃতির নীরব বন্ধুদের পাশে দাঁড়ানো। পাখিটার কথা শুনে আমি প্রতিজ্ঞা করলাম, এখন থেকে আমি শুধু খেলাধুলো নয়, প্রকৃতির প্রতিও যত্নবান হব। পাখিটা তখন ডানা ঝাপটে দূরের নীল আকাশে উড়ে গেল, আর আমি এক নতুন আনন্দ নিয়ে আমার দিন শুরু করলাম।

৭. আমার প্রিয় কোনো প্রাণী নিয়ে একটি রচনা লিখি।

আমার প্রিয় প্রাণী: বিড়াল

বিড়াল গৃহপালিত প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম। এটি খুবই সুন্দর, শান্ত স্বভাবের এবং মজার প্রাণী। এদেরকে অনেকেই শখ করে বাড়িতে পোষেন। বিড়ালকে আদর করে ‘মিনু’ বা মিনি বলেও ডাকা হয়।

বিড়ালের শরীর সাধারণত নরম লোমে ঢাকা থাকে। এদের চোখের মণি বেশ উজ্জ্বল, বিশেষ করে রাতে এদের চোখ জ্বলজ্বল করে। এদের কান খাড়া এবং মুখমণ্ডল গোলাকার। বিড়ালের প্রধান আকর্ষণ হলো তার লম্বা লোমশ লেজ এবং মুখ থেকে বের হয়ে থাকা সরু গোঁফ। এদের থাবা খুব নরম এবং তাতে ধারালো নখর লুকানো থাকে, যা শিকার ধরার সময় বেরিয়ে আসে। এদের রং সাদা, কালো, ধূসর বা ডোরাকাটা হতে পারে।

বিড়াল অত্যন্ত চঞ্চল, কৌতূহলী এবং খেলাধুলা করতে ভালোবাসে। এরা প্রায়শই ঘরের ভেতরে লাফঝাঁপ করে বা সুতো, বল ইত্যাদি নিয়ে খেলা করে। এরা খুব স্বাধীনচেতা প্রাণী। এরা মানুষকে খুব ভালোবাসে এবং পোষ মানলে মালিকের চারপাশে ঘোরাঘুরি করে। বিড়ালের পছন্দের কাজ হলো শুয়ে থাকা বা ঘুমোনো।

বিড়ালের প্রধান খাদ্য হলো মাছ ও দুধ। তবে ইঁদুর, ছোট পাখি এবং টিকটিকি এদের পছন্দের শিকার। বিড়াল খুব দ্রুত এবং দক্ষতার সঙ্গে শিকার ধরে। এদের দৃষ্টি, ঘ্রাণ ও শ্রবণশক্তি খুব প্রখর, যা তাদের শিকার ধরতে সাহায্য করে।

বিড়ালের শান্ত স্বভাব এবং আদুরে আচরণ আমার খুব ভালো লাগে। যখন বিড়াল আমার পাশে এসে গলা খাঁকরে বিশেষ শব্দ করে গা ঘষতে থাকে, তখন মন ভরে যায়। এটি আমার একাকীত্ব দূর করে এবং বাড়ির পরিবেশকে আরও আনন্দময় করে তোলে।

বিড়াল শুধু আমাদের সঙ্গ দেয় না, ইঁদুর মেরে বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতেও সাহায্য করে। এই সুন্দর, স্বাধীনচেতা এবং সরল প্রাণীটি আমার কাছে তাই খুবই প্রিয়।

প্রতিষ্ঠাতা, কোর্সটিকা

বিকেপি/এমএম

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

প্রাথমিক শিক্ষা

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর