প্রিয় শিক্ষার্থীরা, উপরে তোমাদের ৫ম শ্রেণির ইসলাম শিক্ষা ৪র্থ অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর আলোচনা করা হয়েছে। এই অধ্যায় থেকে মূল বইয়ের অনুশীলনীর সকল সমাধান দেওয়া হয়েছে।
কিছু তথ্য
সম্প্রীতি অর্থ সৌহার্দ, সম্ভাব, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ইত্যাদি। ধর্মীয় সম্প্রীতি হলো সমাজে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মিলেমিশে ও শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আসে। বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ।
৫. সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন:
ক) মদিনা সনদের অপর দুইটি নাম লেখো।
উত্তর: মদিনা সনদের অপর দুইটি নাম হলো—সহিফাত আল মদিনা ও দুস্তুর আল-মদিনা।
খ) মদিনা সনদে কয়টি ধারা রয়েছে।
উত্তর: মদিনা সনদে মোট ৪৭টি ধারা রয়েছে (মতান্তরে ৫৭টি কিংবা ৬৩টি ধারাও উল্লেখ করা হয়েছে)।
গ) সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য তিনটি করণীয় কী?
উত্তর: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য তিনটি করণীয় নিম্নরূপ:
১. সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা।
২. অন্যের উপাস্য বা বিশ্বাস নিয়ে কোনো বিরূপ মন্তব্য না করা।
৩. দল-মত নির্বিশেষে সবার প্রতি ন্যায়বিচার ও মানবিক আচরণ বজায় রাখা।
ঘ) ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্পর্কে তিনটি কাজ লেখো।
উত্তর: ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্পর্কে তিনটি কাজ নিম্নরূপ:
১. তাদের ধর্ম পালনে কোনো প্রকার বাধা বা হস্তক্ষেপ না করা।
২. অন্যের জান, মাল ও সম্মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৩. সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাজে একে অপরের মতামত ও অধিকারের প্রতি সহনশীল হওয়া।
ঙ) ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সহযোগিতার গুরুত্ব সম্পর্কে দুইটি বাক্য লেখো।
উত্তর: ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সহযোগিতার ফলে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বৃদ্ধি পায়। এটি একটি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনের জন্য অপরিহার্য।
চ) তোমার শ্রেণিতে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী সহপাঠীদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের তিনটি উপায় লেখো।
উত্তর: শ্রেণিতে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী সহপাঠীদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের তিনটি উপায় নিচে লেখা হলো—
১. তাদের ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রতি কোনো বিদ্রুপ না করে শ্রদ্ধা বজায় রাখা।
২. বিপদে-আপদে তাদের সাহায্য-সহযোগিতায় এগিয়ে আসা।
৩. সবার সাথে বিনয়ী আচরণ করা এবং কোনো বিষয়ে ভিন্নমত থাকলে তা ধৈর্যের সাথে শোনা।
৬. বর্ণনামূলক প্রশ্ন:
ক) পবিত্র কোরআনে ধর্মীয় সম্প্রীতির কী নির্দেশনা রয়েছে বর্ণনা করো।
উত্তর: পবিত্র কোরআন ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। সুরা আল-মায়েদার ৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন যে, কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন আমাদের ন্যায়বিচার থেকে বিচ্যুত না করে। অর্থাৎ, কারো সাথে বিরোধ থাকলেও তার প্রতি ইনসাফ ও ন্যায়বিচার বজায় রাখা তাকওয়ার অংশ। এছাড়া সুরা আল-আন’আমের ১০৮ নম্বর আয়াতে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপাস্যদের গালি দিতে নিষেধ করা হয়েছে, যাতে তারা অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গালি না দেয়। কুরআন আমাদের শিক্ষা দেয় যে, অহংকার ও দাম্ভিকতা পরিহার করে সকল মানুষের সাথে বিনয়ী ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করতে হবে। এই নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এদেশে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতি ও ন্যায়পরায়ণতার জন্য ইসলাম আমাদের উদ্বুদ্ধ করে। এ বিষয়ে পবিত্র কুরআন ও হাদিসে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে। ন্যায়বিচার ধর্মীয় সম্প্রীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
১. সঠিক উত্তরে টিক চিহ্ন (✔) দাও:
(ক) ধর্মীয় সম্প্রীতির অর্থ কী?
১. বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মিলেমিশে না থাকা
৩. বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান √
২. ভিন্ন ধর্মের মানুষদের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন
৪. কেবল মুসলমানদের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখা
(খ) পবিত্র কুরআনে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করার নির্দেশনা রয়েছে?
১. শত্রুতাপূর্ণ আচরণ করা
৩. জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা
২. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা√
৪. অন্যের ধর্ম সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করা
(গ) নিম্নের কোনটি মদিনা সনদের শিক্ষা নয়?
১. নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা
২. জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত না করা
৩. একমাত্র মুসলমানদের নিরাপত্তা√
৪. ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা
(ঘ) ইসলামের শিক্ষা অনুসারে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা উচিত?
১ অসহযোগিতামূলক
২. সহানুভূতিশীল√
৩. অবজ্ঞাসূচক
৪. শত্রুতামূলক
(ঙ) সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আমাদের করণীয় কী?
১. অন্যদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান নিয়ে বিদ্রুপ করা
২. ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের যথাসম্ভব সাহায্য-সহযোগিতা করা√
৩. ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সম্মান না করা
৪. ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের এড়িয়ে চলা
২. শূণ্যস্থান পূরণ:
ক) বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ।
খ) আমরা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে ভদ্র ও বিনয়ী আচরণ করব।
গ) ধর্মীয় সম্প্রীতির জন্য ন্যায়বিচার গুরুত্বপূর্ণ।
ঘ) মদিনা সনদ অনুযায়ী মুসলিম ও অমুসলিমরা এক জাতি হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।
ঙ) ভিন্ন ধর্মের সহপাঠীদের যেকোনো সাহায্য-সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে পারি।
চ) আমরা সকল ধর্মের মানুষের মতামত ও অনুভূতির প্রতি সহনশীল হব।
৩. বাম পাশের সাথে ডান পাশ মিলকরণ:
বাম পাশ:
ক. ধর্মীয় সম্প্রীতি বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে
খ. ইসলাম ধর্মীয় সম্প্রীতির জন্য
গ. মহানবি (স.) মদিনা সনদ প্রণয়ন করেন
ঘ. সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু উভয় নাগরিককে
ঙ. মদিনা সনদের মূল শিক্ষা হলো
ডান পাশ:
ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য।
ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা প্রদান করা উচিত।
সহমর্মিতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করে।
সকল সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।
নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করা।
আমাদের উদ্বুদ্ধ করে।
সমাধান:
ক. ধর্মীয় সম্প্রীতি বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে → সহমর্মিতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করে।
খ. ইসলাম ধর্মীয় সম্প্রীতির জন্য → আমাদের উদ্বুদ্ধ করে।
গ. মহানবি (স.) মদিনা সনদ প্রণয়ন করেন → ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য।
ঘ. সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু উভয় নাগরিককে → ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা প্রদান করা উচিত।
ঙ. মদিনা সনদের মূল শিক্ষা হলো → সকল সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।
৪. শুদ্ধ/অশুদ্ধ নির্ণয়:
ক) কোরআনে বলা হয়েছে ন্যায়বিচারই তাকওয়ার নিকটবর্তী। (শুদ্ধ)
খ) মদিনা সনদে কেবল মুসলমানদের অধিকার স্বীকৃত হয়েছিল। (অশুদ্ধ)
গ) ধর্মীয় সম্প্রীতির জন্য আমরা শুধু মুসলমানদের সাথে সদ্ব্যবহার করব। (অশুদ্ধ)
ঘ) ভিন্ন ধর্মের মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা দিয়ে সামাজিক সংহতি গড়ে তোলা যায়। (শুদ্ধ)
ঙ) ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার রক্ষায় মদিনা সনদ আমাদের উদ্বুদ্ধ করে না। (অশুদ্ধ)
চ) ইসলামে অন্য ধর্মের উপাসনালয় ধ্বংসের অনুমতি নেই। (শুদ্ধ)
খ) মদিনা সনদে বর্ণিত ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের চারটি অধিকার সম্পর্কে বর্ণনা করো।
উত্তর: মদিনা সনদ হলো বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান, যা ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করেছিল। উল্লেখযোগ্য চারটি অধিকার হলো:
১. ধর্মীয় স্বাধীনতা: মদিনায় বসবাসরত ইয়াহুদি, খ্রিস্টান ও পৌত্তলিকদের নিজস্ব ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল এবং কাউকে জোরপূর্বক ধর্ম পালনে বাধ্য করা যাবে না বলে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়।
২. জান ও মালের নিরাপত্তা: সনদে স্বাক্ষরকারী সকল সম্প্রদায়ের মানুষের জীবন, সম্পদ এবং সম্ভ্রমের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছিল।
৩. ন্যায়বিচারের অধিকার: কোনো বিরোধ বা অপরাধের ক্ষেত্রে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে ন্যায়বিচারের নীতি অনুসরণ করার অধিকার প্রদান করা হয়েছিল।
৪. নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষা: প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব জাতিসত্তা, সমাজ ও সংস্কৃতি বজায় রেখে স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাসের অধিকার প্রদান করা হয়।
গ) ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় আমাদের মনোভাব কেমন হওয়া উচিত তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় আমাদের মনোভাব হওয়া উচিত অত্যন্ত উদার, সহনশীল এবং শ্রদ্ধাপূর্ণ। অন্য ধর্মের মানুষের বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান এবং অনুভূতিকে আঘাত না করার মানসিকতা পোষণ করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, সকল মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি, তাই কারো ধর্ম বা বর্ণের কারণে তাকে ঘৃণা করা বা ছোট করা ইসলামি আদর্শের পরিপন্থী। ভিন্নমতের প্রতি ধৈর্যশীল হওয়া এবং উগ্রতা বর্জন করে শান্তির পথে চলা আমাদের কর্তব্য। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন বজায় রেখে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ার জন্য আমাদের মনমানসিকতাকে পরমতসহিষ্ণু করে গড়ে তুলতে হবে।
ঘ) তুমি কীভাবে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করবে, তা চারটি বাক্যে লেখো।
উত্তর: ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করার চারটি বাক্য লেখা হলো:
১. আমি সবসময় ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও বিশ্বাসের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করব।
২. তাদের বিপদে-আপদে সাধ্যমতো সাহায্য করব এবং তাদের জান-মালের ক্ষতি হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকব।
৩. তাদের সাথে কোনো বিষয়ে মতভেদ দেখা দিলে ঝগড়া বা তর্কে না জড়িয়ে ধৈর্য ও বিনয়ের সাথে আলোচনা করব।
৪. সমাজের প্রতিটি মানুষকে মানুষ হিসেবে সমান মর্যাদা দেব এবং কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করব না।
ঙ) একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তুমি কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে?
উত্তর: একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আমি নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করব:
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সকল অতিথির প্রতি সমান সম্মান ও উষ্ণ অভ্যর্থনা নিশ্চিত করব।
আপ্যায়নের ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা রাখব যা সকলের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুভূতির সাথে সংগতিপূর্ণ হয়।
আলোচনা বা বক্তব্যের ক্ষেত্রে এমন কোনো কথা বা বিষয় রাখব না যা অন্য ধর্মের অনুভূতিতে আঘাত দিতে পারে।
বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি সমন্বয় দল গঠন করব যাতে সবাই নিজেকে অনুষ্ঠানের অংশ মনে করে।
পারস্পরিক কুশল বিনিময় এবং সম্প্রীতি বাড়াতে আন্তরিক ও বিনয়ী পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করব।
বিকেপি/এমএম

