প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে বিভিন্ন জনপদের উল্লেখ পাওয়া যায়, যেগুলো রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সময়ের পরিক্রমায় এসব জনপদের নাম পরিবর্তিত হলেও বর্তমান মানচিত্রে তাদের অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব। নিচে প্রাচীন বাংলার উল্লেখযোগ্য জনপদ ও তাদের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরা হলো-
বঙ্গ :
বর্তমান কুষ্টিয়া, যশোর, নদীয়া, শান্তিপুর, ঢাকা, ফরিদপুর এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল।
পুন্ড্র :
বৃহত্তর বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
গৌড় :
বর্তমান মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বর্ধমান এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে বিস্তৃত ছিল।
হরিকেল :
চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, ত্রিপুরা ও সিলেট অঞ্চল নিয়ে গঠিত।
সমতট :
বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত ছিল।
বরেন্দ্র :
বগুড়া, পাবনা, রাজশাহী বিভাগের উত্তর-পশ্চিমাংশ এবং রংপুর ও দিনাজপুরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত।
চন্দ্রদ্বীপ :
বর্তমান বরিশাল অঞ্চলই ছিল চন্দ্রদ্বীপ জনপদ।
বিক্রমপুর :
মুন্সীগঞ্জ জেলা এবং আশপাশের অঞ্চল নিয়ে বিক্রমপুর গড়ে ওঠে।
রাঢ় :
বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণাঞ্চলকে রাঢ় জনপদ হিসেবে ধরা হয়।
সপ্তগাঁও :
খুলনা ও উপকূলীয় সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল।
কামরূপ :
রংপুর, জলপাইগুড়ি এবং আসামের কামরূপ জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
তাম্রলিপ্তি :
বর্তমান মেদিনীপুর জেলা এলাকায় এর অবস্থান ছিল।
আরাকান :
বর্তমান কক্সবাজার, মিয়ানমারের কিছু অংশ এবং কর্ণফুলি নদীর দক্ষিণাঞ্চল নিয়ে বিস্তৃত।
সূক্ষ্ম (সুক্ষ্ম) :
গঙ্গা-ভাগীরথীর পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চল, আধুনিক বর্ধমানের দক্ষিণাংশ, হুগলির বৃহদাংশ, হাওড়া ও বীরভূম অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল।
প্রাচীন বাংলার এসব জনপদ শুধু ভৌগোলিক সীমানা নয়, বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। বর্তমান বাংলাদেশের ও পশ্চিমবঙ্গের নানা অঞ্চলের সঙ্গে এসব জনপদের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, যা ইতিহাসচর্চায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

