ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি ডুয়েট উপাচার্য, সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা
ক্যাম্পাস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১৮:১৮
সংগৃহীত
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)-এ নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলন টানা ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে। পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
গত রোববার (১৭ মে) আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বহিরাগতদের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে।
আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ক্যাম্পাসে অস্থিরতা অব্যাহত থাকায় নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও তিনি এখনো ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি। মূল ফটকে কড়াকড়ি থাকলেও পকেট গেট কিছুটা খোলা থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সীমিতভাবে প্রবেশ করতে পারছেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ। ফটকের সামনে জ্বালিয়ে দেওয়া মোটরসাইকেলের অংশবিশেষ পড়ে আছে এবং প্রবেশপথে আসবাবপত্র ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই আন্দোলন শুরু হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন এবং একপর্যায়ে জয়দেবপুর–শিমুলতলী সড়ক অবরোধ করেন।
পরবর্তী দিনগুলোতেও আন্দোলন অব্যাহত থাকে। শনিবার শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে “অবাঞ্ছিত” ঘোষণা করে ‘লাল কার্ড কর্মসূচি’র অংশ হিসেবে মূল ফটকে তালা দেন। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন-সমর্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে বহিরাগতদের প্রবেশকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং রোববার দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষ ঘটে। এতে পুলিশ ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
শিক্ষার্থীদের মূল দাবি হলো, ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শিক্ষক থেকেই নিয়োগ দিতে হবে। তাদের মতে, অভ্যন্তরীণ শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাঠামো, প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা সম্পর্কে বেশি অভিজ্ঞ হওয়ায় তারা দীর্ঘমেয়াদে উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করায় স্বাভাবিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

