স্কুল ফিডিংয়ে অনিয়মে ‘জিরো টলারেন্স’, প্রতিদিনই শিক্ষার্থীদের হাতে খাবার পৌঁছানোর নির্দেশ
শিক্ষা ডেস্ক :
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ১৭:৪৫
সংগৃহীত
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবার স্কুলে মজুত করে রাখার কোনো সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, প্রতিদিনের খাবার প্রতিদিনই শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। খাবারের মান, সরবরাহ কিংবা বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার (২৪ মে) রাজধানীর মিরপুর-এর প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই)-এ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের ব্যবসায়িক সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্তরা যদি দায়িত্বশীল আচরণ না করেন, তবে ভবিষ্যতে তাদের চাকরি বা ব্যবসা—কোনোটিই নিরাপদ থাকবে না। সরকারের অবস্থান ব্যবসাবান্ধব হলেও সেবা নিশ্চিত না করে অর্থ নেওয়ার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের ১৫১টি উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু রয়েছে। প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্প জাতীয় বাজেটের প্রায় এক শতাংশের সমান। এত বড় প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হলে জনগণের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে গত কয়েক মাসের অভিজ্ঞতার আলোকে সরকার নতুন কিছু নির্দেশনা প্রণয়ন করেছে, যা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আগামী সাত দিনের মধ্যে সব সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে তাদের পূর্ণ সাপ্লাই চেইনের মানচিত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোন কারখানা থেকে পণ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং কোথায় কীভাবে সরবরাহ পৌঁছানো হচ্ছে—এসব তথ্য বিস্তারিতভাবে জানাতে হবে।
দূরবর্তী জেলা থেকে খাবার সরবরাহের কারণে অনেক ক্ষেত্রে মান ঠিক থাকছে না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে খাবার পাওয়া গেলে দূরের জেলা থেকে পণ্য আনার প্রয়োজন নেই।
খাদ্যের মান নিশ্চিত করতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষ ফুড টেকনিশিয়ান নিয়োগেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এত বড় প্রকল্প পরিচালনা করেও একজন ফুড টেকনিশিয়ান না রাখা গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে, তবে রুট পরিকল্পনা, সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সরবরাহকারীদেরই নিতে হবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী এবং মিড-ডে মিল প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

