স্মৃতিসৌধে শপথ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পা রাখলো গবির নবীনরা
জান্নাতুল লামিশা, গবি
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৩
ছবি: সংগৃহীত
সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন বরণ মানেই ফুলের তোড়া, মঞ্চে বক্তৃতা আর কিছু গতানুগতিক উপদেশ বাক্য। কিন্তু গণ বিশ্ববিদ্যালয় (গবি) প্রতি বছর এই চেনা ছকটা ভেঙে দেয় এখানে নবীন বরণের প্রথম পাতাটাই লেখা হয় শহীদের স্মৃতির সামনে দাঁড়িয়ে নেওয়া এক শপথে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের পাদদেশে প্রায় সাত শত নবীন শিক্ষার্থীকে নিয়ে নবীন বরণ অনুষ্ঠিত হয়, তা তাই নিছক একটি ক্যাম্পাস আয়োজন নয় বরং যেন একটি প্রজন্মের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রবেশের প্রথম শপথবদ্ধ মুহূর্ত, যা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।
স্বাধীনতা যেখানে শুধু ইতিহাসের পাতায় বন্দি নয়, বরং প্রতিটি নতুন শিক্ষার্থীর কণ্ঠে যেন নতুন করে উচ্চারিত হয় এই ভাবনা থেকেই স্মৃতিসৌধকে বেছে নেওয়া গবির এই আয়োজনকে করে তোলে অন্য রকম। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন যখন নবীনদের শপথবাক্য পাঠ করান, তখন হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের সাক্ষী সেই স্মৃতিসৌধ যেন নীরবে বলে দেয় এই মাটি শুধু স্মরণের নয়, দায়বদ্ধতারও। ফুল আর প্রথাগত উপদেশের বদলে জাতির প্রতি এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুরু করার এই রীতি সচরাচর দেখা যায় না, আর এখানেই গবির নবীন বরণ হয়ে ওঠে সত্যিকার অর্থে অনন্য এক অধ্যায়।
শপথের সেই আনুষ্ঠানিকতা শেষে মূল অনুষ্ঠান গড়ায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ মিলনায়তনে, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা, গবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
নতুনদের কণ্ঠে ছিল স্বপ্ন আর সতর্কতার এক সুন্দর মিশেল। ফার্মেসি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী সিজন পাল বলেন, তারা পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ গড়ে তুলতে চান, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা কাজে লাগিয়ে ভালো মানুষ হয়ে ওঠার প্রত্যাশা রাখেন, আর মাদক ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে চান।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম শফিকুজ্জামান স্মরণ করিয়ে দেন প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কথা। তিনি জানান, একই দিনে গণস্বাস্থ্যের আরও ৪৭টি প্রতিষ্ঠানেও নবীনদের বরণ করে নেওয়া হচ্ছে অর্থাৎ এই শপথ, এই চেতনা ছড়িয়ে পড়ছে একসঙ্গে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানজুড়ে।
প্রধান অতিথি ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, শুধু ভালো চাকরির জন্য নয়, ভালো মানুষ হওয়ার লক্ষ্যেও পড়াশোনা করতে হবে, সাফল্যের কোনো শর্টকাট নেই, দরকার কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা আর শিক্ষকদের প্রতি সম্মান।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন নবীনদের প্রতি আহ্বান জানান সততার সঙ্গে লেখাপড়া করার, বিশ্ববিদ্যালয়ে পাওয়া স্বাধীনতার অপব্যবহার না করতে, মাদক থেকে দূরে থাকতে এবং নিজের নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় সচেতন থাকতে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রধান অতিথিকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন উপাচার্য। উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যবৃন্দ, রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. সিরাজুল ইসলাম, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ছাত্র সংসদ ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনের আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তি ঘটে দিনটির।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

