এডুকেশন ওয়াচের বিশ্লেষণ
ঢাকার সেরা ২০ কলেজের তালিকা, শীর্ষে নটর ডেম
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৮:২৩
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন- কোন কলেজ হবে ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত? পছন্দের কলেজে ভর্তির সুযোগ পাওয়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ সঠিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন। আর এই সিদ্ধান্তে সহায়ক হতে পারে কোনো প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক ফলাফল, পাসের হার, জিপিএ-৫ অর্জন ও ধারাবাহিক সাফল্যের চিত্র।
এই বাস্তবতায় রাজধানীর উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শীর্ষ ২০টি কলেজের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে শিক্ষা বিষয়ক পত্রিকা এডুকেশন ওয়াচ। প্রতিষ্ঠানগুলোর পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল, পাসের হার, জিপিএ-৫ অর্জন, ধারাবাহিক একাডেমিক সাফল্য এবং সাম্প্রতিক ফলাফলের সামগ্রিক চিত্র বিবেচনায় নিয়ে এ তালিকা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তালিকার শীর্ষে নটর ডেম
এডুকেশন ওয়াচের মূল্যায়নে রাজধানীর সেরা ২০ উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে নটর ডেম কলেজ। দীর্ঘ সময়ের পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলেও প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক সাফল্যের চিত্র পাওয়া যায়।
২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৭টি পাবলিক পরীক্ষায় নটর ডেম কলেজের ৪৮ হাজার ৭৭৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৮ হাজার ৪৮৬ জন এবং জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৩২ হাজার ৭৪১ জন। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের পাশাপাশি উত্তীর্ণ ও জিপিএ-৫ অর্জনের হারেও প্রতিষ্ঠানটির সাফল্য উল্লেখযোগ্য।
ঢাকার সেরা ২০ কলেজ
এডুকেশন ওয়াচের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ। এরপর যথাক্রমে রয়েছে-
১. নটর ডেম কলেজ
২. আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ
৩. রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ
৪. ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ
৫. হলি ক্রস কলেজ
৬. ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ
৭. সরকারি বিজ্ঞান কলেজ
৮. সেন্ট জোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়
৯. ঢাকা কলেজ
১০. ঢাকা সিটি কলেজ
১১. বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ
১২. মাইলস্টোন কলেজ
১৩. ঢাকা ইমপেরিয়াল কলেজ
১৪. মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ
১৫. বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকা
১৬. ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ
১৭. বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ
১৮. সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ
১৯. ঢাকা কমার্স কলেজ
২০. শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে যারা
২০০৯ থেকে ২০২৫ সালের ১৭টি পাবলিক পরীক্ষায় আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ২৯ হাজার ৮৯২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২৯ হাজার ৭৪৭ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২০ হাজার ১০৪ জন।
তৃতীয় অবস্থানে থাকা রাজউক উত্তরা মডেল কলেজেও দীর্ঘ সময় ধরে পাসের হার ও জিপিএ-৫ অর্জনে ধারাবাহিকতা দেখা যায়। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির ২৩ হাজার ২৬৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৩ হাজার ২৩৮ জন উত্তীর্ণ হন এবং জিপিএ-৫ পান ১৭ হাজার ৪৭০ জন।
চতুর্থ অবস্থানে থাকা ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩০ হাজার ৬৭৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩০ হাজার ৪২৬ জন উত্তীর্ণ হন এবং জিপিএ-৫ অর্জন করেন ১৮ হাজার ৬৭১ জন।
এ ছাড়া হলি ক্রস কলেজ, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, ঢাকা কলেজ, মাইলস্টোন কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজসহ তালিকাভুক্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও দীর্ঘ সময়ের ফলাফলে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।
শুধু জিপিএ-৫ দিয়ে কি ‘সেরা’ নির্ধারণ সম্ভব?
তালিকাটি সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে- একটি কলেজকে সেরা বলার মাপকাঠি আসলে কী?
শুধু জিপিএ-৫-এর সংখ্যা দিয়ে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক মান নির্ধারণ করা কঠিন। একটি কলেজে কতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, তাদের একাডেমিক ভিত্তি কেমন ছিল, পাসের হার কত এবং কত বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখেছে- এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
এর পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত, সহশিক্ষা কার্যক্রম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার সুযোগ, শৃঙ্খলা, অবকাঠামো এবং শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় অগ্রগতিও একটি প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক মান বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
তাই কোনো একটি সূচকে এগিয়ে থাকা কলেজই যে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য সেরা হবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।
র্যাংকিংয়ে কেন ভিন্নতা?
রাজধানীর সেরা কলেজের তালিকা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম প্রকাশ করেছে। এসব তালিকায় অবস্থানের পার্থক্যও দেখা যায়। এর প্রধান কারণ র্যাংকিং তৈরির পদ্ধতির ভিন্নতা।
কেউ নির্দিষ্ট বছরের এইচএসসি ফলাফলকে বেশি গুরুত্ব দেয়, কেউ জিপিএ-৫-এর সংখ্যা বিবেচনা করে। আবার কেউ কয়েক বছরের ফলাফল, পাসের হার এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক পারফরম্যান্সকে একসঙ্গে মূল্যায়ন করে।
তাই এডুকেশন ওয়াচের তালিকাকে তাদের নিজস্ব মূল্যায়নভিত্তিক র্যাংকিং হিসেবেই দেখা উচিত। অন্য কোনো গণমাধ্যম বা শিক্ষা বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠানের তালিকার সঙ্গে এর ক্রমে পার্থক্য থাকা অস্বাভাবিক নয়।
ভর্তির আগে কী দেখবেন শিক্ষার্থী-অভিভাবক?
কলেজের র্যাংকিং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে একটি প্রাথমিক ধারণা দিতে পারে। তবে শুধু তালিকায় অবস্থান দেখে কলেজ নির্বাচন করা উচিত নয়।
শিক্ষার্থীর পছন্দের বিভাগ, এসএসসি ফলাফল, ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য, কলেজের শিক্ষার পরিবেশ, যাতায়াতের সুবিধা, ব্যয়, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং নিজের মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও বিবেচনায় রাখা জরুরি।
কারণ, একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ হলো সেখানে একজন নির্দিষ্ট শিক্ষার্থী কতটা ভালোভাবে নিজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারবে।
রাজধানীর কলেজগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের একাডেমিক সাফল্যের যে প্রতিযোগিতা, তা শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সামনে যেমন পছন্দের সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি তৈরি করছে কঠিন সিদ্ধান্তের বাস্তবতা। তাই ‘সেরা কলেজ’ খোঁজার পাশাপাশি নিজের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত কলেজটি খুঁজে নেওয়াই হতে পারে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

