Logo

শিক্ষা

কাওয়ালী ছন্দে ভিন্নধর্মী সন্ধ্যা

নাতে রাসূলের সুরে মুখর গণ বিশ্ববিদ্যালয়

Icon

জান্নাতুল লামিশা, গবি

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৩৮

নাতে রাসূলের সুরে মুখর গণ বিশ্ববিদ্যালয়

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার অদূরে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিদিনের ক্লাস, ল্যাব আর ব্যস্ততার শেষে শিক্ষার্থীরা যখন ক্যাম্পাস ছাড়েন, তখন শিক্ষার্থীদের চোখ আঁটকে যায় ক্যাম্পাসের শহিদ হাদী চত্বরে।

তবে সেদিনের চিত্রটা ছিল ভিন্ন। চত্বর জুড়ে সেজেছে মঞ্চ, চারপাশে শিক্ষার্থীদের জমায়েত আর মাইক্রোফোনের এপারে ভেসে আসছে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের সুর, পরক্ষণেই নাতে রাসূল ‘ইয়ে জমিন জব না থি’র সুরের মূর্ছনায় মেতে উঠে চত্বর। শেষ বিকেলে কাওয়ালীর ছন্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। 

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গণ বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামিক কালচারাল সোসাইটি (জিবিআইসিএস) প্রথমবারের মতো আয়োজন করে ‘নাতে রাসূল ও কাওয়ালী সন্ধ্যা’। প্রথমবারের মতো আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাসূলের প্রতি প্রেম-শ্রদ্ধায় মুখরিত হয় ক্যাম্পাস।

সন্ধ্যা গড়াতেই হাদী চত্বর হয়ে ওঠে ভিন্ন এক সাংস্কৃতিক পরিসর। প্রচলিত সাংস্কৃতিক আয়োজনের বাইরে ধর্মীয় আবহে অনুষ্ঠিত-এ আয়োজনে একত্রিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। নাতে রাসূল ও কাওয়ালীর সুরের পাশাপাশি আয়োজনের বক্তব্যে উঠে আসে ধর্মীয় মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও ইসলামি সংস্কৃতি চর্চার নানা দিক।

প্রথমবারের মতো এমন আয়োজন করে জিবিআইসিএস। আয়োজকদের মতে, ক্যাম্পাসে ইসলামি সংস্কৃতির চর্চাকে আরও বিস্তৃত করা এবং শিক্ষার্থীদের সামনে এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরাই ছিল আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন। সন্ধ্যার অন্যতম আকর্ষণ ছিল যশোরের ‘তাঁরার মেলা শিল্পী গোষ্ঠী’ পরিবেশিত নাতে রাসূল ও কাওয়ালী গান। পাশাপাশি বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে পরিবেশনা করে সাভারের ‘প্রতিতী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদ’।

তবে আয়োজনটি কেবল পরিবেশনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বক্তব্যে উঠে আসে তরুণ প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয় ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রসঙ্গও। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহ-সভাপতি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, 'সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষিত ও কর্মজীবী অনেক তরুণ ইসলামের আদর্শ থেকে দূরে সরে মাদক, অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনদর্শন ও আদর্শ অনুসরণ করে জীবন পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও সহকারী অধ্যাপক শাহ আলম বলেন, 'নাতে রাসূলের মধ্য দিয়ে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দর্শন, চিন্তা ও আদর্শ তুলে ধরা হয়। সত্য প্রতিষ্ঠা, মিথ্যা থেকে দূরে থাকা এবং ন্যায়-নীতির সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আয়োজন থেকে শিক্ষার্থীরা কিছু শিখতে পারলেই এ আয়োজন সার্থক হবে।'

ইসলামি সংস্কৃতিকে কেবল একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির চর্চা হিসেবে না দেখে মুসলিম সমাজের ঐতিহ্য হিসেবে তুলে ধরেন অনুষ্ঠানের সভাপতি ও জিবিআইসিএসের আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, 'ইসলামি সংস্কৃতি মুসলমানদের ঐতিহ্য ও অহংকার। অপসংস্কৃতির বিপরীতে সুস্থ ইসলামি সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন করা হচ্ছে।’ ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও বেশি ইসলামি সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রত্যাশাও জানান তিনি।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ত ক্যাম্পাসে দিনভর ক্লাস-ল্যাবের পর শিক্ষার্থীদের জন্য সন্ধ্যাটি তাই হয়ে ওঠে অন্যরকম। কোরআন তেলাওয়াত থেকে নাতে রাসূল, আর নাতে রাসূলের সুর পেরিয়ে কাওয়ালীর ছন্দ—পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল ধর্মীয় আবহের সঙ্গে সাংস্কৃতিক উপস্থাপনার মেলবন্ধন।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রথমবারের এই আয়োজনের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও বিস্তৃত পরিসরে সুস্থ ইসলামি সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ তৈরি হবে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন