Logo

শিক্ষা

খাবার থেকে বিদ্যুৎ, গ্যাস; বেহাল ছাত্রজীবন

Icon

জান্নাতুল লামিশা, গণ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৩৪

অ
খাবার থেকে বিদ্যুৎ, গ্যাস; বেহাল ছাত্রজীবন

ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নাম শুনলেই চোখে ভাসে ব্যায়বহুল ফর্দ। তবে সে ক্ষেত্রে একটু কিছুটা ভিন্নতা রেখেছে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়। তবুও চড়া দরের বাজারে প্রতি সেমিস্টারে গুনতে হয় মোটা অঙ্কের সেমিস্টার ফি। নেই হল সুবিধাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের শতকরা ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে থাকতে হয় আশপাশের হোস্টেলে অথবা মেস বাসায়। সব মিলিয়ে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে কেমন আছেন তারা?


মৌলিক সংকটের প্রভাব পড়ছে পড়াশোনায়

একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হিসেবে এখন সবচেয়ে বড় সংকট শুধু পড়াশোনার খরচ নয়, পুরো জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানো। বাজারদর বাড়ছে, বাসাভাড়া ও খাবারের খরচ বাড়ছে, যাতায়াত ও একাডেমিক খরচও কম নয়। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট কোনোভাবেই ছোট বিষয় নয়। বিদ্যুৎ না পেলে রাতে পড়াশোনা করা বা জরুরি একাডেমিক কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে যায়। গ্যাসের সমস্যা হলে খাবারের ব্যবস্থা করতেও বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়। এসব সংকট শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

এস. এম. আফ্রিনা, কৃষি অনুষদ।


বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ব্যাহত পড়াশোনা, খারাপ হচ্ছে পরীক্ষার ফল

লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের পড়াশোনা, পরীক্ষার প্রস্তুতি ও মানসিক শান্তি ব্যাহত হচ্ছে। পরীক্ষার আগের দিন বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারিনি, যার প্রভাব পরীক্ষার হলে পড়েছে। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ল্যাপটপ-মোবাইল চার্জ দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারের কাছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি সংকটকালীন সময়ে নির্দিষ্ট লোডশেডিংয়ের সময়সূচি প্রকাশের দাবি জানাই। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লাইব্রেরি ও রিডিং রুমে আইপিএস বা জেনারেটরের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে সময়সীমা বাড়ানোর প্রত্যাশা করি।

মো. আবু সাঈদ, বাংলা বিভাগ। 


গ্যাস সংকটে খাদ্যের অভাবে, বাড়ছে খরচ

বাজারদর বাড়তে থাকায় জীবনযাপনে চরম টানাপোড়ন নেমে এসেছে। পুষ্টিকর খাবার বাদ দিয়ে যেকোনোভাবে পেট চালানোই এখন প্রধান লক্ষ্য। পড়াশোনার খরচ মেটাতে বই কেনা কমিয়ে পিডিএফনির্ভর হতে হয়েছে। এর সঙ্গে গ্যাসের তীব্র সংকটে যথাসময়ে রান্না না হওয়ায় প্রায়ই না খেয়ে ক্লাসে যেতে হয়। বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে খাবার কিনলে খরচ বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে বাজারদর, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও গ্যাস সংকটে পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে গেছে।

আছিয়া আক্তার অনিকা, রসায়ন বিভাগ


বাড়তি খরচে বেসামাল পড়াশোনা 

একজন শিক্ষার্থী হিসেবে বর্তমানে যে মাসিক খরচ হচ্ছে, তা আমার কাছে যুক্তিসংগত মনে হচ্ছে না। আমার চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও পাচ্ছি না। বাজারদর বৃদ্ধির কারণে বাড়ি থেকে দূরে এসে পড়াশোনা করা মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক শিক্ষার্থীর মাসিক খরচ বেড়ে গেছে, যা বহন করা কষ্টকর। এতে অনেকের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে, বিশেষ করে আমি একজন ভেটেরিনারি স্টুডেন্ট হিসেবে অনলাইনে অ্যাসাইনমেন্ট, স্লাইড ও প্রেজেন্টেশন তৈরি করাসহ অন্যান্য কাজ করতে বাধাগ্রস্ত হই। এতে পড়াশোনায়ও ব্যাঘাত ঘটে।

মো. আলী ইমাম, ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সাইন্সেস অনুষদ।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন