এআইনির্ভর চাকরির বাজারে দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে ইউল্যাবে ‘এইচআর সামিট ২০২৬’
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:০২
পরিবর্তনশীল চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের করপোরেট জগতের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্যে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে (ইউল্যাব) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘এইচআর সামিট ২০২৬’। এতে দেশের বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান, শিল্পখাতের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। দিনব্যাপী এ আয়োজনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, সিভি তৈরির কৌশল এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ার পরিবর্তনশীল প্রবণতা নিয়ে আলোচনা হয়।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ইউল্যাবের স্থায়ী ক্যাম্পাসে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীরা করপোরেট খাতের অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ পান। পাশাপাশি চাকরির বাজারে নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
ইউল্যাব স্কুল অব বিজনেসের আয়োজনে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার সার্ভিস অফিসের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে ‘প্রফেশনাল সিভি কম্পিটিশন–২০২৬’-এর বিভিন্ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর অংশ হিসেবে সিভি প্রতিযোগিতা, সেরা সিভির জন্য পুরস্কার বিতরণ, প্যানেল আলোচনা, ক্যারিয়ারবিষয়ক পরামর্শ এবং কার্যকর সিভি তৈরির কৌশল নিয়ে বিশেষ সেশনের আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় সেরা তিনটি সিভির জন্য পুরস্কার ও সনদ দেওয়া হয়। এ ছাড়া সেরা ১০টি সিভির জন্য প্রদান করা হয় ‘সার্টিফিকেট অব এক্সিলেন্স’।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ইউল্যাবের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সামসাদ মর্তূজা। পরে করপোরেট খাতের অভিজ্ঞ মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে ‘বাংলাদেশের চাকরির বাজারে এআই বিপ্লবের ফলে পরিবর্তিত শিল্প ও কর্মপরিবেশের সঙ্গে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা কীভাবে নিজেদের প্রস্তুত করবেন’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় ইউল্যাব স্কুল অব বিজনেসের বিবিএ প্রোগ্রামের পরিচালক ও সহযোগী অধ্যাপক ড. এ এফ ওয়াজির আহমদ শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে সফল হতে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পেশাগত দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে।
একইভাবে ইউল্যাব স্কুল অব বিজনেসের গ্র্যাজুয়েট বিজনেস প্রোগ্রামের পরিচালক ও সিনিয়র লেকচারার ড. মোহাম্মদ তৌহিদ রিয়াজ ধারাবাহিকভাবে শেখা, ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জন এবং করপোরেট খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। পরিবর্তনশীল চাকরির বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে শিক্ষার্থীদের সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষতা উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন আরএকে (RAK)-এর চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন, নগদের চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার আনুব্বাব রহমান এবং রেনাটা পিএলসির এইচআর শেয়ার্ড সার্ভিস ম্যানেজার জানশের আল সাবাহ খান। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন ব্লু কাইট লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার আবু নাসের আমিন উল্লাহ।
আলোচনায় বাংলাদেশের চাকরির বাজারের পরিবর্তিত চাহিদা, নেতৃত্ব বিকাশ, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, পেশাগত দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের নতুন প্রবণতা উঠে আসে। এআইয়ের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার কীভাবে শিল্প ও কর্মপরিবেশকে বদলে দিচ্ছে এবং এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন, তা নিয়েও মতবিনিময় করেন আলোচকেরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা করপোরেট খাতের প্রতিনিধিদের কাছে নিজেদের বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে ধরার সুযোগ পান।
সম্মেলনের বিশেষ সেশনে বক্তব্য দেন দারাজের এইচআর ম্যানেজার ফাহাম কবির। ‘সিভি তৈরি ও ক্যারিয়ার উন্নয়নে এআইয়ের ব্যবহার’ শীর্ষক এ সেশনে প্রযুক্তির সহায়তায় কীভাবে কার্যকর ও মানসম্মত সিভি তৈরি করা যায় এবং পেশাগত উন্নয়নের পরিকল্পনা সাজানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়। চাকরিপ্রার্থীদের প্রস্তুতিতে এআইয়ের ব্যবহার এবং ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় প্রযুক্তির সম্ভাব্য ভূমিকার বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পায়।
এ ছাড়া বিডিজবস ডটকমের ক্যারিয়ার ইনসাইটস সেশনে ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, সিভির মানোন্নয়ন, চাকরি অনুসন্ধানের কৌশল এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ার সাম্প্রতিক প্রবণতা তুলে ধরা হয়। এসব সেশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজার সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি পেশাগত জীবনে প্রবেশের প্রস্তুতি সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
আয়োজকেরা জানান, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে শুধু একাডেমিক জ্ঞান অর্জনই কর্মজীবনে সফলতার জন্য যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, পেশাগত নৈতিকতা এবং পরিবর্তিত কর্মপরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সামর্থ্য অর্জন জরুরি। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের ফলে চাকরির ধরন ও কর্মক্ষেত্রের চাহিদায় যে পরিবর্তন আসছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে।
তাঁরা আরও মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ এবং সমন্বয় বাড়ানো গেলে শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা সহজ হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতার সংযোগ তৈরি করতে পারে।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের সম্মেলন শিক্ষার্থীদের পেশাজীবীদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, পেশাগত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং চাকরির বাজারের বাস্তব চাহিদা সম্পর্কে ধারণা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এ আয়োজন শিক্ষার্থী ও করপোরেট খাতের মধ্যে যোগাযোগ বাড়িয়ে দক্ষ ও কর্মোপযোগী মানবসম্পদ তৈরির পথ সুগম করতে পারে।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

