অভিযোগকারী গৃহকর্মীকে ‘নাহিদ ইসলামের ঘনিষ্ঠ’ বলছেন পরীমণি
বাংলাদেশের প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ১৯:৫৫
অভিনেত্রী পরীমণির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে রাজধানীর ভাটারা থানায় অভিযোগ করেছেন তারই এক গৃহকর্মী। পিংকি আক্তার নামের ওই ভুক্তোভোগী তরুণীর করা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরীমণি। তার দাবি, ওই তরুণী তার গৃহকর্মী নয়। অসহায়ত্বের কথা বলে কাজের জন্য এসেছিল। কাজ করার সক্ষমতা না থাকায় তাকে বেতন-বোনাসসহ বিদায় জানানো হয়েছে। পরীমণির সন্দেহ, ওই তরুণী একজন গুপ্তচর হয়ে থাকতে পারেন।
থানায় অভিযোগের পর পরীমণি গণমাধ্যমকে বলেন, সে আমার গৃহকর্মী নয়। মেয়েটা চাকরির জন্য এসেছিল। কাজের জন্য খুব কান্নাকাটিও করলো। বলল বের করে দিয়েন না, যে কোনো কাজ করে দেব, আমার কেউ নেই, বাচ্চা নিয়ে না খেয়ে আছি। অন্তত একটা মাস থাকি। আমার দয়া হলো। কিন্তু সে ছিল প্রতিবন্ধী। কোনো কাজ করার সক্ষমতা ওর ছিল না। তবু আমি তাকে বললাম, কাজ করতে হবে না, আমার বাচ্চাদের সঙ্গে খেলবে।
পরীমণি জানান, একটি এজেন্সি মারফত মেয়েটিকে পেয়েছেন তিনি। ওই এজেন্সির অনুরোধে তাকে বাড়িতে ঢুকতে দিয়েছিলেন। কিন্তু কয়েকদিন পরই অভিনেত্রীর সন্দেহ তৈরি হয়। কারণ মেয়েটি বেশিরভাগ সময় ফোনে ব্যস্ত থাকে। কোথায় যেন ছবি ও ভিডিও পাঠায়।
পরীমণি বলেন, ওর কর্মকাণ্ডে আমার সন্দেহ হলো। দুইদিন পর পর এ সমস্যা, সে সমস্যা, শুধু টাকা চায়। ভেবেছিলাম, এসেছে যখন একমাস থাকুক। পরে যার মাধ্যমে এসেছে, তাদের সমস্যার কথা জানালাম। যখনই বিদায় হতে বললাম, কান্নাকাটি শুরু করলো। পরে ১ মাসের বেতন ২০ হাজার টাকা, ঈদের বোনাস, সালামি, নতুন কাপড় দিয়ে বিদায় হতে বললাম। আমার বাচ্চাদের সঙ্গে যা করলো ... ভারি কিছু তুলতে পারে না, আমার ছেলেকে কোলে নিতে পারে না। এক মাসও হয়নি, ব্ল্যাকমেল শুরু করেছে।
নির্যাতনের অভিযোগ খণ্ডাবেন কীভাবে? এমন প্রশ্নে পরীমণি বলেন, আমার সংসার চলে গৃহকর্মীদের ওপরে। তাদের সঙ্গেই আমার সবকিছু। আমি তাদের ‘আপনি’, ‘আন্টি’ ছাড়া কথা বলি না। এত বছর ঢাকা শহরে থাকি, আমার গৃহকর্মী, গাড়িচালক কাউকে বদলাতে হয়নি। কারও পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ ওঠেনি। চার-পাঁচ দিনের জন্য একজন এসে অভিযোগ করা তো সন্দেহজনক। সে অসহায়ত্ব দেখালো বটে, কিন্তু খুব স্মার্ট। নিশ্চয়ই ওর পেছনে কেউ আছে। কারা ওকে আমার বাসায় পাঠিয়েছে সেটা খুঁজে বের করতে হবে। আমার বাসার লোকেদের সঙ্গে সে গল্প করেছে, ওর বন্ধু নাকি নাহিদ ইসলামের বন্ধু! কার কার সঙ্গে ফোনে কথা বলতো, কাকে কাকে ছবি পাঠাতো এসব তদন্ত করলেই সব বেরিয়ে যাবে।
এনএমএম/বিএইচ

