আজ ৬৬ বছরে পা দিলেন বলিউডের অন্যতম আলোচিত অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত। শুধু অভিনয় নয়, তার জীবনকাহিনিও যেন একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা — যেখানে আছে গ্ল্যামার, বেদনা, ভুল সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সর্বোপরি, ঘুরে দাঁড়ানোর অবিরাম লড়াই।
১৯৮১ সালে বাবা সুনীল দত্তের পরিচালনায় 'রকি' ছবির মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন সঞ্জয় দত্ত। সেই শুরু থেকেই বলিউডের “ব্যাড বয়” ইমেজে নিজের স্বকীয়তা গড়ে তোলেন তিনি। ‘সাজন’, ‘খলনায়ক’, ‘বাস্তব’, ‘কান্তি’, ‘মুন্নাভাই এমবিবিএস’, ‘লাগে রহো মুন্নাভাই’— একের পর এক সফল ছবি দিয়ে তিনি দর্শকের হৃদয় জয় করেন।
তার অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় আসে রাজকুমার হিরানির মুন্নাভাই সিরিজ-এর মাধ্যমে। এই সিনেমাগুলো শুধু ব্যবসায়িক সাফল্যই পায়নি, বরং সঞ্জয় দত্তের ইমেজও বদলে দেয়—তিনি হয়ে ওঠেন এক মানবিক, হাস্যরসাত্মক, অথচ দার্শনিক চরিত্রের প্রতীক।
তবে সাফল্যের পাশাপাশি বিতর্কও ছিল সঞ্জয় দত্তের নিত্যসঙ্গী। ১৯৯৩ সালের মুম্বাই বিস্ফোরণ মামলায় অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘদিন বিচার প্রক্রিয়া শেষে ২০১৩ সালে আদালত তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে।
সাজা খেটে তিনি ২০১৬ সালে মুক্ত হন। এই সময়টিতে বলিউডে তার উপস্থিতি কমে এলেও, জনমনে তার জন্য সহানুভূতি ও আগ্রহ কমেনি।
২০২০ সালে সঞ্জয় দত্তের ফুসফুসে ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসার জন্য কিছু সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন তিনি। পরে সফলভাবে চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন। এই অধ্যায়েও তার জীবনের ‘ফাইটার’ ইমেজটি আরও দৃঢ় হয়।
অভিনয়ে ফিরে আসার পর ‘ভূজ’, ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’, ‘শামশেরা’, ‘লিও’—এই সিনেমাগুলোতে ভিন্নধর্মী, কঠোর ও খলচরিত্রে দেখা যায় তাকে। বিশেষ করে ‘কেজিএফ ২’-এ আধিরা চরিত্রে তার উপস্থিতি আবারও প্রমাণ করে, তিনি শুধুই পুরনো দিনের নায়ক নন, বরং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে রূপান্তরিত করতে জানেন।
ক্যারিয়ারের সব উত্থান-পতনের পরেও সঞ্জয় দত্ত ভক্তদের কাছে রয়ে গেছেন “সঞ্জু বাবা” নামেই। তার জীবন ঘিরে তৈরি হওয়া জীবনীভিত্তিক ছবি ‘সঞ্জু’ (২০১৮) বক্স অফিসে ব্যাপক সফলতা পায়, যেখানে রণবীর কাপুর তার চরিত্রে অভিনয় করেন।
সঞ্জয় দত্তের জীবন শুধুই রঙিন পর্দার গল্প নয়, এটি বাস্তব জীবনের গভীরতা, ভুল, সংশোধন, সাহস ও পুনরুত্থানের এক জ্বলন্ত উদাহরণ। জন্মদিনে তার ভক্তরা শুধু তার দীর্ঘায়ু চান না, চান আরও কিছু চমকপ্রদ চরিত্র, যা আবারও প্রমাণ করবে—“লেজেন্ডরা কখনো অবসর নেয় না।”

