বাংলাদেশের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী পিয়া জান্নাতুল শুধু গ্ল্যামার দুনিয়াতেই নয়, জীবনবোধ ও চিন্তাধারাতেও অনুপ্রেরণার নাম। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবন, সমাজ, পড়াশোনা, মাতৃত্ব এবং শৃঙ্খলা নিয়ে এমন কিছু কথা বলেছেন, যা ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
বেসরকারি টিভিতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বর্তমানে সময়ের ভিউ ব্যবসা ও নৈতিকতাহীন উপস্থাপনার বিষয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সাক্ষাৎকারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ারও করেছেন তিনি। যা বেশ ভাইরাল হয়েছে।
ভিডিও ক্লিপটি শেয়ার করে পিয়া জানান, আবর্জনা আপলোড করা কারও কাজ হতে পারে না। পিয়া জান্নাতুল লিখেছেন, ‘যদি আপনি ক্যামেরার পেছনে কাজ করেন, তাহলে এটা আপনার দায়িত্ব সমাজকে গঠন করা, নোংরা কনটেন্ট ছড়িয়ে সমাজকে দূষিত করা নয়। শুধু ভিউ বা ট্রেন্ডের জন্য আবর্জনা আপলোড করা কারও কাজ হতে পারে না। আর যদি আপনি একজন পাবলিক ফিগার হন, মনে রাখবেন যে, মানুষ আপনাকে অনুসরণ করে, আপনার প্রতিটি কথা ও প্রতিক্রিয়া তাদের প্রভাবিত করে। তাই প্রত্যেকটা বেহুদা প্রশ্নের উত্তর দেওয়া দরকার নেই। ভুল বার্তা ছড়ানো কখনোই দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়।’
একটি নৈতিক ও সুন্দর অনুষ্ঠান উপহারে দেওয়ার পেছনে উপস্থাপকদেরও দায়িত্ব রয়েছে জানিয়ে পিয়া বলেন, ‘আর প্রেজেন্টারদের বলব, এটা আপনার ৮০% দায়িত্ব যে আপনি কী প্রশ্ন করছেন। প্রডিউসার বা অন্য কেউ বললেও, আপনারই সচেতন থাকা উচিত। কারণ পরবর্তীতে মানুষ মনে রাখে না কে আপনাকে প্রশ্ন করতে বলেছিল, তারা মনে রাখে আপনি প্রশ্ন করেছিলেন।’
শুধু তাই নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরছে পিয়ার কিছু মন্তব্যও। যেগুলোতে নিজের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উঠে এসেছে এক পরিণত পিয়ার বক্তব্য। একের পর এক উক্তিতে জীবনের বাস্তব সত্য তুলে ধরেছেন তিনি।
পিয়া বলেন, ‘কম বয়সে বেশি টাকা ইনকাম করে ফেললে পড়াশোনার প্রতি ঝোঁকটা কমে যায়, শৃঙ্খলাটা কমে যায়।’
শুধু তাই নয়, প্রশংসা আর সমালোচনার প্রতিও তার দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। ‘কেউ যখন প্রশংসা করে, আমি তাকে হেসে ধন্যবাদ দিই। সেই প্রশংসা এক কান দিয়ে শুনে আরেক কান দিয়ে বের করে দিই’—বলেছেন পিয়া।
তিনি মনে করেন, সিগারেট খাওয়া মেয়ে বা ছেলের ব্যাপার না, সিগারেট খাওয়াটাই খারাপ।
সমাজে চলাফেরার বাস্তবতা নিয়েও খোলামেলা মত দিয়েছেন এই তারকা মডেল, ‘যতই বলি মানুষ কী ভাববে তোয়াক্কা করি না, তবে এই বয়সে এসে শিখেছি, সমাজে বসবাস করতে হলে মানুষকে তোয়াক্কা করতে হয়।’
মাতৃত্বের চ্যালেঞ্জ নিয়েও তিনি বললেন বাস্তব কথা, ‘সবচেয়ে কঠিন জব হচ্ছে মা হওয়া। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থাকে না, ট্রেনিং থাকে না। প্রত্যেকে এসে ফ্রীতে অনেক উপদেশ দেয়, যা সন্তানের জন্য ভালো নাও হতে পারে।’
নিজেকে সম্মান করার গুরুত্ব নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন পিয়া জান্নাতুল, ‘আপনি যদি নিজেকে সম্মান করতে না জানেন, কেউ আপনাকে সম্মান করবে না।’
অন্যদিকে, শিক্ষার গুরুত্ব ও আত্মউন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘পড়ালেখা এমন একটা জিনিস, যেটা আপনার কাছ থেকে কখনো যাবে না। আপনি পেশাগত কাজ করেন, পাশাপাশি পড়ালেখা চালিয়ে যান—অবশ্যই উপকৃত হবেন।’
আরও যোগ করেছেন, ‘সারাক্ষণ ব্র্যান্ডের জিনিস না কিনে কোনো বিষয়ে কোর্স করা নিজের প্রতি বিনিয়োগ। স্কিল থাকলে জীবনে কাজে লাগবেই।’
পিয়া জান্নাতুলের এসব উক্তি ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। অনেকে বলছেন, শুধু র্যাম্প বা ক্যামেরার সামনে নয়—ভাবনার গভীরতাতেও অনন্য পিয়া।
ডিআর/এসএসকে

