নায়লা নাঈমের ফেসবুক থেকে নেওয়া ছবি (এআই দিয়ে তৈরি)
জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী নায়লা নাঈম বিড়াল ভালোবাসেন। বড় ভালোবাসায়, অতি যত্নে বাসায় পুষছেন তাদের। পোষ্যদের নিয়ে তোলা ছবি-ভিডিও প্রায়ই শেয়ার করেন ফেসবুকে। ভক্তরা লাভ-লাইক-কেয়ার রিঅ্যাক্ট দেন সেসব ছবিতে। এবার এই মডেল তার প্রিয় বিড়ালদের যত্ন ইস্যুতে এক অন্যরকম পোস্ট করেছেন।
পোস্টটি মূলত তার গৃহকর্মীকে নিয়ে। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি জানান, বিড়ালের যত্নের জন্য যে গৃহকর্মীকে নিয়োগ দিয়েছেন, নানা অজুহাতে মাসের অর্ধেক সময়ই কাজে অনুপস্থিত থাকে।
এক রাশ হতাশা নিয়ে নায়লা প্রশ্ন রেখেছেন, ‘(বেতনের) টাকাটা কি সে (গৃহকর্মী) হালাল করে নিচ্ছে?’

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘বিড়ালের দোতলা বাসায় শুধু ঘর মোছার জন্য একজন বুয়া রাখা হয়েছে, যার বেতন ৫৫০০ টাকা। মাসে ৩ দিন তার হাজব্যান্ড অসুস্থ থাকে, ৩ দিন তার বাচ্চারা অসুস্থ থাকে, তারপরের ৩ দিন সে নিজে অসুস্থ থাকে, ৩ দিন সিরিয়াল দিয়ে তার বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজন মারা যায় এবং বাকি ৩ দিন সে ছুটি নেয়। এভাবে করে মাসের ১৫ দিন সে কাজে আসে না। বাকি ১৫ দিন সে কোনো রকমে এসে মোছামুছি করে যায়। আমার প্রশ্ন হলো, টাকাটা কি সে হালাল করে নিল?’

তিনি আরও লেখেন, ‘এদিকে আমরা গাড়িও চালাই, চুলও বাঁধি, রান্না করি, বিড়ালের সেবা-শুশ্রূষাও করি, আবার বুয়া না এলে বিড়ালের সব কাজও করি। কারণ, দিন শেষে এই বিড়ালগুলো তো আমারই। নিজের কাজ হলে গরজ থাকে, অন্যের কাজে গরজ নাই।’

নায়লা নাঈম ২০১৩ সালে শোবিজ অঙ্গনে তুমুল ঝড় তোলেন। তার দারুণ দেহ–সৌষ্ঠব, ক্যামেরায় উদ্দাম অ্যাপ্রোচ, সাহসী পদচারণা মুগ্ধতা ও উষ্ণতা ছড়িয়ে দেয়। বিজ্ঞাপন, গানের মডেলিং, নাটক— সমানভাবে চলতে থাকে। গ্রামীণফোনের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হিসেবে কাজ করে নজর কাড়েন। পরে পোশাকের মডেল হিসেবে দীর্ঘ সময় কাজ করেন।

তন্ময় তানসেন পরিচালিত রানআউট সিনেমার আইটেম গানে পর্দা কাঁপান এই লাস্যময়ী। পরে কাজী হায়াত পরিচালিত ‘মারুফ টাকা ধরে না’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।
অল্প সময়েই ‘বিউটি উইথ ব্রেইন’ বলে পরিচিতি পাওয়া এই মডেল বর্তমানে শোবিজের ব্যস্ত জগৎ থেকে আড়ালে রেখেছেন নিজেকে। তবে ফেসবুকে তুমুল অ্যাক্টিভ আছেন। প্রতিদিনই নিজের ছবি-ভিডিও পোস্ট করেন ভক্তদের জন্য।

সামাজিক মাধ্যমে উত্তাপ ছড়ানো এই সুন্দরী একইসঙ্গে একজন দন্ত চিকিৎসকও। রাজধানীর খিলগাঁও ও বনশ্রীতে তার চেম্বার। রোগীদের সেবার পাশাপাশি বনশ্রীতে অসহায় কোনো কুকুর-বিড়ালের দেখা পেলেই দিচ্ছেন আদর-আশ্রয়, সেবা ও ভালোবাসা।
এনএ/

