চলে গেলেন বিশ্ব চলচ্চিত্রের ধ্রুপদি নির্মাতা বেলা তার
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:১০
না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন বিশ্বখ্যাত হাঙ্গেরিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা বেলা তার। দীর্ঘদিনের গুরুতর অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই শেষে মঙ্গলবার ভোরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। ‘সাতানতাঙ্গো’ ও ‘দ্য তুরিন হর্স’-এর মতো কালজয়ী চলচ্চিত্রের নির্মাতা বেলা তারের মৃত্যুতে বিশ্ব চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
হাঙ্গেরিয়ান ফিল্ম আর্টিস্টস অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, দীর্ঘ ও জটিল অসুস্থতার পর বেলা তার আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। এই কঠিন সময়ে শোকাহত পরিবার গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের কাছে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানিয়েছে।
১৯৫৫ সালে হাঙ্গেরির দক্ষিণাঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয় শহর পেচে জন্মগ্রহণ করেন বেলা তার। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বাবার দেওয়া একটি ক্যামেরা হাতে নিয়েই শুরু হয় তার চলচ্চিত্র নির্মাণের পথচলা। পরবর্তীতে তিনি যুক্ত হন হাঙ্গেরির প্রখ্যাত পরীক্ষাধর্মী চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠান বেলা বালাজ স্টুডিওতে। সেখান থেকেই ১৯৭৭ সালে নির্মাণ করেন তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ফ্যামিলি নেস্ট’।
১৯৮৮ সালে বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয় তার পরিচালিত ‘ড্যামনেশন’। ছবিটি হাঙ্গেরির প্রথম স্বাধীন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এই চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য তিনি যৌথভাবে লিখেছিলেন নোবেলজয়ী সাহিত্যিক লাসলো ক্রাসনাহোরকাইয়ের সঙ্গে। তাদের এই সৃজনশীল জুটি পরবর্তী সময়েও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্রে কাজ করে গেছে।
বিশ্বজুড়ে বেলা তার সবচেয়ে বেশি পরিচিত সাত ঘণ্টাব্যাপী চলচ্চিত্র ‘সাতানতাঙ্গো’র জন্য। পূর্ব ইউরোপে কমিউনিজমের পতনের পরবর্তী সামাজিক, রাজনৈতিক ও নৈতিক অবক্ষয়কে গভীর ও ধীরস্থির ভঙ্গিতে তুলে ধরা এই চলচ্চিত্রকে বিশ্ব সিনেমার ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
২০১১ সালে ‘দ্য তুরিন হর্স’ নির্মাণের পর বেলা তার আনুষ্ঠানিকভাবে চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দেন। যদিও পরবর্তীতে তিনি দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
জীবনের শেষ অধ্যায়ে তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেন নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের শিক্ষাদানে। হাঙ্গেরি, জার্মানি ও ফ্রান্সের বিভিন্ন চলচ্চিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করে তিনি তার অভিজ্ঞতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও সিনেমাটিক দর্শন ছড়িয়ে দেন শিক্ষার্থীদের মাঝে।
বিশ্ব চলচ্চিত্রের ভাষা ও আঙ্গিককে নতুন মাত্রা দেওয়া এই নির্মাতার মৃত্যুতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্রবোদ্ধা ও সমালোচকেরা।
এসএসকে/

