Logo

বিনোদন

‘মুজিব ভাই’ সিনেমা নিয়ে ৪ হাজার কোটির গুজব! আসল তথ্য কী?

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৪৪

‘মুজিব ভাই’ সিনেমা নিয়ে ৪ হাজার কোটির গুজব! আসল তথ্য কী?

অ্যানিমেশন সিনেমা ‘মুজিব ভাই’ ঘিরে সম্প্রতি দেশজুড়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গণমাধ্যমে দাবি ওঠে, ছবিটি বানাতে নাকি খরচ হয়েছে ৪ হাজার ২১১ কোটি টাকা। বিষয়টি এতটাই আলোড়ন তোলে যে অনেকেই একে রাষ্ট্রীয় অর্থের বড় ধরনের অপচয় বলে মন্তব্য করেন। তবে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন চিত্র।

সরকার প্রকাশিত ডাক ও টেলিযোগাযোগ খাতের একটি শ্বেতপত্র থেকেই এই তথ্য ছড়ালেও মূল নথিপথে ‘৪ হাজার কোটি’ নয়, উল্লেখ আছে ৪২১১.২২ লাখ টাকা— যার মানে প্রায় ৪২ কোটি ১১ লাখ টাকা। এই অর্থও সরাসরি শুধু ‘মুজিব ভাই’ সিনেমার জন্য নয়, বরং কয়েকটি রাজনৈতিক প্রচারণামূলক অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রকল্পের সম্মিলিত ব্যয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘মুজিব ভাই’, ‘খোকা’, ৭ মার্চের ভাষণ এবং আরও কিছু উদ্যোগ।

শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, এসব প্রকল্প আইসিটি বিভাগের অর্থায়নে হয়েছে এবং রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু কোথাও বলা হয়নি যে শুধু ‘মুজিব ভাই’ সিনেমার পেছনে হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

শ্বেতপত্রের তথ্য ও ভাষ্য মতে, এটুকু স্পষ্ট; ৭ মার্চের ভাষণ (২০১৭), ‘মুজিব ভাই’ (২০২৩), ‘খোকা’ এবং ‘সমৃদ্ধ আগামীর প্রতিচ্ছবি’ (২০২৩) নামের অডিও-ভিজ্যুয়াল কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে তৎকালীন আইসিটি মন্ত্রণালয় ও সিআরআই ৪২ কোটি ১১ লাখ ২২ হাজার টাকার মতো ব্যয় করেছে।

২০২৩ সালের জুনে মুক্তি পাওয়া ৪৫ মিনিটের এই অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রটি তৈরি হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ অবলম্বনে। এটি আইসিটি বিভাগের একটি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হয় এবং এখন ইউটিউব ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দেখা যায়।

২০২৩ সালের ২৩ জুন রাজধানীর সীমান্ত সম্ভারের স্টার সিনেপ্লেক্সে ‘মুজিব ভাই’-এর প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছিলো, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ অবলম্বনে ‘মুজিব ভাই’ অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রটি তৈরি করেছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের মোবাইল গেম ও অ্যাপ্লিকেশনের দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প। উক্ত প্রিমিয়ার শোতে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক, চলচ্চিত্রটির দুই পরিচালক চন্দন কুমার বর্মন ও সোহেল মোহাম্মদ, চিত্রনাট্যকার আদনান আদিব খানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, এই ছবির বাজেট ছিল কয়েক কোটি টাকার মধ্যেই। ফলে ৪ হাজার কোটি টাকার খবরকে তারা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর বলেই মনে করছেন।

সব মিলিয়ে, শ্বেতপত্রের একটি সংখ্যাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেই তৈরি হয়েছে এই বিতর্ক— যেখানে ৪২ কোটি টাকার হিসাব বদলে হয়ে গেছে ৪ হাজার কোটি।

এসএসকে/

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

চলচ্চিত্র

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর