বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা ও নৃত্য পরিচালক ইলিয়াস জাভেদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।
এর আগে উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের বায়তুল জামান জামে মসজিদে বাদ মাগরিব তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন বাদ আসর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম জানাজা। সেখানে সহশিল্পী, নির্মাতা ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এফডিসিতে জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদনে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা উজ্জ্বল, আলমগীর, রুবেল, ওমর সানি, মিশা সওদাগর, ড্যানি সিডাক, নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, অভিনেত্রী রুমানা ইসলাম মুক্তি, নৃত্য পরিচালক আজিজ রেজা, ইউসুফ খানসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকে।
এর আগে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ইলিয়াস জাভেদ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন। পাশাপাশি হৃদ্রোগের সমস্যাও ছিল এবং অতীতে দুইবার হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
১৯৬৪ সালে উর্দু ভাষার চলচ্চিত্র ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন জাভেদ। ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পায়েল’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি দর্শকমহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এই ছবিতে তার নায়িকা ছিলেন শাবানা।
অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন দক্ষ নৃত্য পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। তার প্রকৃত নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। নৃত্য পরিচালনার মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে প্রবেশ করলেও পরবর্তীতে নায়ক হিসেবে শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি।
তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘মালকা বানু’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘শাহজাদী’, ‘নিশান’, ‘রাজকুমারী চন্দ্রবান’, ‘কাজল রেখা’ ও ‘সাহেব বিবি’। চলচ্চিত্রে দীর্ঘ অবদানের মধ্য দিয়ে ইলিয়াস জাভেদ বাংলা সিনেমায় রেখে গেলেন স্মরণীয় অধ্যায়।
এসএসকে/

