Logo

বিনোদন

জন্মদিনে স্মৃতিতে অমর নায়করাজ রাজ্জাক

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:৪০

জন্মদিনে স্মৃতিতে অমর নায়করাজ রাজ্জাক

আব্দুর রাজ্জাক থেকে রাজ্জাক, আর সেখান থেকে নায়করাজ— বাংলা চলচ্চিত্রে এক অনন্য অধ্যায়ের নাম। চোখের আড়ালে থাকলেও দুই বাংলার সিনেমায় বহুমাত্রিক চরিত্রে তিনি আজও অমর। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অভিনয়জীবনে অসংখ্য দর্শকের হৃদয় জয় করা এই কিংবদন্তি অভিনেতা ও নির্মাতা বেঁচে থাকলে আজ ৮৪ বছরে পা রাখতেন। ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন নায়করাজ রাজ্জাক।

কর্মজীবনে অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। সাধারণ মানুষ থেকে অভিনয়ের গুণে হয়ে উঠেছিলেন কিংবদন্তি, নায়ক থেকে পেয়েছিলেন নায়করাজের মর্যাদাপূর্ণ উপাধি। অথচ দুঃখজনকভাবে তার জন্মদিন ঘিরে বিএফডিসিতে প্রতিষ্ঠিত কোনো সমিতির পক্ষ থেকেই এবার বিশেষ কোনো আয়োজন রাখা হয়নি। তবে বরাবরের মতো গণমাধ্যমগুলো নায়করাজকে স্মরণ করতে এগিয়ে এসেছে।

নায়করাজের জন্মদিন উপলক্ষে শুক্রবার চ্যানেল আইয়ে ছিল বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে প্রচার হয় সংগীতানুষ্ঠান ‘গান দিয়ে শুরু’, যেখানে গান পরিবেশন করেন খুরশীদ আলম, স্বর্ণা ও ইমরান খন্দকার। বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রচার হয় বিশেষ অনুষ্ঠান ‘নায়ক থেকে নায়করাজ’, উপস্থাপনায় ছিলেন আবদুর রহমান। জন্মদিনের আয়োজন শেষ হয় বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে শাইখ সিরাজ নির্মিত নায়করাজের জীবনভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ‘রাজাধিরাজ রাজ্জাক’ প্রচারের মধ্য দিয়ে।

বাবার জন্মদিন প্রসঙ্গে নায়করাজের ছোট ছেলে চিত্রনায়ক সম্রাট বলেন, সময়ের সঙ্গে তারকাদের জন্মদিন ঘিরে উচ্ছ্বাস কমে এসেছে। একসময় বাবার জন্মদিনে বড় আয়োজন হতো, সেই সময়গুলো খুব উপভোগ করতেন তারা। এখন বিশেষ কোনো আয়োজন না হলেও বাবার জন্য দোয়া করাই সবচেয়ে বড় বিষয়। আজও তিনি বাবার কবর জিয়ারত করেন বলে জানান। সবার কাছে নায়করাজের জন্য দোয়া চেয়েছেন তিনি।

বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সম্রাট। বলেন, ছোটবেলা থেকে জীবনের যেকোনো সমস্যা, আনন্দ কিংবা চাওয়ার জন্য প্রথমেই বাবার কাছেই ছুটে যেতেন। বাবার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল বন্ধুর মতো। কখনো ভাবেননি, একদিন বাবাকে হারিয়ে তাকে নিয়ে এভাবে স্মৃতিচারণ করতে হবে।

সম্রাট আরও জানান, নায়করাজ ছিলেন অসম্ভব পরিশ্রমী মানুষ। কলকাতা ছেড়ে ঢাকায় আসার সময় মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে নেমে এক ল্যাম্পপোস্টের নিচে বসে জীবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছিলেন তার বাবা। সেই দৃশ্যই পরবর্তীতে নায়করাজের প্রযোজনা সংস্থা রাজলক্ষ্মী প্রোডাকশনের লোগোর অনুপ্রেরণা হয়। সুভাষ দত্তের নকশায় তৈরি সেই লোগোতে ল্যাম্পপোস্টের নিচে বসে থাকা একজন মানুষের জীবনভাবনার প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে।

সম্রাট বলেন, বাবা কখনো নিজের অতীত ভুলে যাননি। বরং সেই অতীতকে সঙ্গী করেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। আর সেই কারণেই হয়তো নায়করাজ রাজ্জাক আজও বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য, অমলিন নাম।

এসএসকে/

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

চলচ্চিত্র

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর