সেডি সিঙ্ক ও নোয়া জুপ
নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এর ম্যাক্স মেফিল্ড খ্যাত অভিনেত্রী সেডি সিঙ্ক এবার লন্ডনের ওয়েস্ট এন্ড মঞ্চে নিজেকে চেনালেন। রবার্ট আইকের পরিচালনায় শেক্সপিয়রের ‘রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’ নাটকের মাধ্যমে মঞ্চে অভিষেক হলো তার। সঙ্গে রোমিও হিসেবে ছিলেন তরুণ অভিনেতা নোয়া জুপ। অভিনয়শিল্পীদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রশংসিত হলেও পরিচালকের কিছু আধুনিক নিরীক্ষা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সেডি সিঙ্ক মূলত থিয়েটার থেকেই নিজের
ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ‘জন প্রক্টর ইজ দ্য ভিলেন’ নাটকের জন্য
টনি নমিনেশনও পেয়েছেন। তবে রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট-এর মাধ্যমে লন্ডনের দর্শকদের সামনে
তার উপস্থিতি ছিল দেখার মতো। তার অভিনীত জুলিয়েট চরিত্রটি ছিল তীক্ষ্ণ, আবেগী এবং
কিছুটা খামখেয়ালি। অন্যদিকে, নোয়া জুপের রোমিও চরিত্রে ছিল তারুণ্যের সেই জেদ ও বিশুদ্ধতা,
যা প্রথম প্রেমের উন্মাদনাকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
পরিচালক রবার্ট আইকে নাটকটিকে সম্পূর্ণ
আধুনিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। মঞ্চে ডিজিটাল ঘড়ির ব্যবহার করা হয়েছে, যা রবিবার
রাত থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত সময় গণনা করে দর্শকদের মনে বিয়োগান্তক পরিণতির ঘণ্টা
বাজাতে থাকে। তবে সমালোচকদের মতে, নাটকের মূল সুরের চেয়ে পরিচালকের নিজস্ব ‘স্টাইল’ বা কারিশমা মাঝেমধ্যে বেশি প্রাধান্য
পেয়েছে। নাটকটিতে শেক্সপিয়রের মূল প্রস্তাবনা বাদ দিয়ে জুলিয়েটের একটি দুঃস্বপ্ন দিয়ে
দৃশ্য শুরু করা হয়েছে। এছাড়া কিছু দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি করে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে
যে, যদি ঘটনাগুলো অন্যরকম হতো তবে হয়তো এই প্রেমিক যুগলের মৃত্যু এড়ানো যেত। এই ধরনের
সিনেমাটিক ‘অল্টারনেটিভ রিয়ালিটি’
মঞ্চ নাটকে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
নাটকের আবহ সংগীতে আধুনিক পপ গানের ব্যবহার
নজর কেড়েছে। বিশেষ করে জুলিয়েট যখন নিজেকে মৃত প্রমাণের ওষুধ পান করেন, তখন ব্যাকগ্রাউন্ডে
‘আই ডোন্ট লাইক
মানডেস’ গানের কভার বাজানো হয়, যা অনেকের কাছেই অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে। তবে জাইলস টমাসের
সাউন্ড ডিজাইন এবং জন ক্লার্কের লাইটিং মঞ্চে এক ধরনের গথিক বা ভুতুড়ে আবহের সৃষ্টি
করেছে, যা নাটকটিকে মেলোড্রামায় রূপ দিয়েছে।
পুরো নাটকটি নিয়ে ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর সমালোচক আরিফা আকবর
মন্তব্য করেছেন যে, পরিচালকের অতি-চিন্তা বা আধুনিকতার চাপে নাটকটি যখন খেই হারিয়ে
ফেলছিল, ঠিক তখনই সেডি সিঙ্ক ও নোয়া জুপের অসাধারণ রসায়ন একে রক্ষা করেছে। সেডি সিঙ্ক
মঞ্চে এতটাই শক্তিশালী উপস্থিতি দেখিয়েছেন যে, মাঝেমধ্যে নাটকটিকে কেবল ‘জুলিয়েটের গল্প’ বলে মনে হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত আধুনিক পোশাক, ডিজিটাল ঘড়ি
আর আলোকসজ্জার চেয়েও দর্শক হৃদয়ে দাগ কেটেছে কিশোর প্রেমের সেই চিরন্তন আবেগ। সেডি
সিঙ্ক ও নোয়া জুপ প্রমাণ করেছেন যে, তারা কেবল পর্দার তারকা নন, মঞ্চের কঠিন চত্বরেও
তারা সমান উজ্জ্বল।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

