বক্স অফিসেও সুপার মারিও গ্যালাক্সি’র মহাকাশ যাত্রা
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৪০
সুপার মারিও গ্যালাক্সি
বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্লাম্বার মারিও আবারও বড় পর্দায় ফিরেছে। ২০২৩ সালের ব্লকবাস্টার ‘সুপার মারিও ব্রাদার্স মুভি’র সিক্যুয়েল হিসেবে চলতি সপ্তাহে মুক্তি পেয়েছে ‘সুপার মারিও গ্যালাক্সি’। তবে মুক্তির পরপরই সিনেমাটি নিয়ে চলচ্চিত্র সমালোচক এবং সাধারণ দর্শকদের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। কেউ একে ‘ভক্তদের জন্য প্রেমের চিঠি’ বলে অভিহিত করছেন, আবার কেউ বলছেন এটি নিছক একটি ‘বোরিং স্ক্রিনসেভার’।
উই কনসোলের জনপ্রিয় গেমের নামানুসারে নির্মিত এই সিনেমার গল্প শুরু হয়েছে গত পর্বের ঠিক পর থেকে। যেখানে বাউজারকে (ভয়েস দিয়েছেন জ্যাক ব্ল্যাক) ছোট করে বন্দী করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু তার ছেলে বাউজার জুনিয়র তাকে মুক্ত করলে শুরু হয় এক আন্তঃগ্যালাকটিক ধাওয়া। এবারের যাত্রায় মারিও ও লুইগির সাথে যোগ দিয়েছে ডাইনোসর ‘ইয়োশি’ (ডোনাল্ড গ্লোভার) এবং মহাকাশের রাজকুমারী ‘রোজালিনা’ (ব্রি লারসন)। এছাড়াও ১৯৮৮ সালের গেমের ভিলেন ‘ওয়ার্ট’ এবং উজ্জ্বল নক্ষত্র সদৃশ ‘লুমাস’ চরিত্রগুলোও সিনেমায় জায়গা পেয়েছে।
-69ce71a904594.jpg)
প্রথম মারিও মুভিটি বক্স অফিসে ১৩০ কোটি
ডলার আয় করলেও সমালোচকদের মন জয় করতে পারেনি। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম
‘দ্য গার্ডিয়ান’
সিনেমাটিকে ১ স্টার দিয়ে একে একটি ‘বিবর্ণ’ সিনেমা বলে মন্তব্য করেছে। ‘দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’ দিয়েছে মাত্র ২ স্টার।
সমালোচকদের মূল অভিযোগ সিনেমার দুর্বল প্লট এবং অসংলগ্ন কাহিনী নিয়ে। তবে বিনোদন সাংবাদিক
জোনাথন সিমের মতে, সিনেমাটি অ্যানিমেশনের দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং মারিও ভক্তদের
জন্য একটি দারুণ উপহার। গেমিং কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সোফি কিন বলেন, “এটি গেমের ১০০ ভাগ হুবহু রূপান্তর নয়,
বরং মারিও’র দুনিয়ায় একটি নতুন ও চমৎকার সংযোজন। যারা প্রথম সিনেমাটি পছন্দ করেছেন,
তারা এটিও উপভোগ করবেন।”
প্রথম সিনেমার সাউন্ডট্র্যাক নিয়ে ভক্তদের
বড় একটি অভিযোগ ছিল অপ্রাসঙ্গিক পপ ও রক গানের ব্যবহার। তবে ‘সুপার মারিও গ্যালাক্সি’তে সুরকার ব্রায়ান
টাইলারের নিজস্ব মিউজিক স্কোরকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যা গেমারদের নস্টালজিক
করে তুলছে। ভিডিও গেমের দুনিয়া ছাড়িয়ে নিনটেনডো এখন বিনোদনের অন্যান্য মাধ্যমেও নিজেদের
সাম্রাজ্য বিস্তার করছে। আগামী বছর ‘দ্য লিজেন্ড অব জেল্ডা’র লাইভ অ্যাকশন
মুভি এবং সামনে ‘ডঙ্কি কং’ নিয়ে অ্যানিমেশন সিনেমার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ইউনিভার্সাল
স্টুডিওর থিম পার্ক এবং বিশ্বজুড়ে নিনটেনডো স্টোর খোলার মাধ্যমে কোম্পানিটি এখন আরও
বড় পরিসরে কাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নিনটেনডো আগে তাদের চরিত্রগুলো
নিয়ে খুব রক্ষণশীল থাকলেও এখন তারা অন্যদের সাথে কোলাবরেশন এবং নতুন নতুন পরীক্ষার
জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে, যা ভক্তদের জন্য অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। ‘সুপার মারিও গ্যালাক্সি’ সিনেমাটি নতুন
গেম আসার অপেক্ষায় থাকা ভক্তদের তৃষ্ণা মেটাতে সক্ষম হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

